বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিএসিসি) জানিয়েছে যে, নারী ক্রিকেটে দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তের জন্য গঠিত পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট অনুসন্ধান কমিটি তার চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার শেষ তারিখ জানুয়ারি ৩১, ২০২৬ পর্যন্ত বাড়িয়ে পেয়েছে।
কমিটি মূলত ২০ ডিসেম্বর, ২০২৫ শনিবার পর্যন্ত রিপোর্ট জমা দেওয়ার জন্য নির্ধারিত ছিল। তবে জাহানারা আলমের লিখিত অভিযোগ দাখিলের জন্য অতিরিক্ত সময় চাওয়ার পর, বেসিসি ২ ডিসেম্বর, ২০২৫ তারিখে সময়সীমা ২০ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়িয়ে দেয়। জাহানারা আলমের আইনগত দল জানিয়েছে যে, তিনি ৪ ডিসেম্বর, ২০২৫ তারিখে তার লিখিত বিবৃতি বোর্ডে জমা দিয়েছেন।
অনুসন্ধান কমিটি প্রথমে ৮ নভেম্বর, ২০২৫ তারিখে তিন সদস্যের একটি দল হিসেবে গঠিত হয়। পরবর্তীতে তদন্তের পরিধি বিস্তৃত হওয়ায় সদস্য সংখ্যা পাঁচ করে বাড়ানো হয়। কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে নিযুক্ত হয়েছেন বিচারপতি তারিক উল হাকিম, যিনি সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে পূর্বে বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
কমিটি ইতিমধ্যে বিষয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বেশ কয়েকজনের বক্তব্য রেকর্ড করেছে। তবে অতিরিক্ত সাক্ষাৎকারের প্রয়োজন এবং নতুন তথ্য বিশ্লেষণের দরকারীয়তা বিবেচনা করে, তারা আরও সময় চেয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় তারা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে পরামর্শ করে এবং সংগ্রহ করা প্রমাণগুলো পুনরায় পর্যালোচনা করেছে।
বিএসিসি প্রকাশ্য বিবৃতিতে উল্লেখ করেছে যে, তদন্তের স্বচ্ছতা, ন্যায়পরায়ণতা এবং সম্পূর্ণতা নিশ্চিত করার জন্য অতিরিক্ত সময় প্রয়োজন। তাই কমিটি জানুয়ারি ৩১, ২০২৬ পর্যন্ত সময়সীমা বাড়ানোর অনুরোধ করেছে, যাতে সকল প্রাসঙ্গিক তথ্য সংগ্রহ করে চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রস্তুত করা যায়।
বিচারপতি তারিক উল হাকিমের মতে, “সমালোচনা শুধু স্বাধীন সাংবাদিকতার বিষয় নয়, বরং সুশাসনের জন্য প্রয়োজন।” এই মন্তব্যটি তদন্তের গুরুত্ব এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার সঙ্গে সমন্বয়কে তুলে ধরে।
কমিটির সম্প্রসারিত সময়সীমা বেসিসি কর্তৃক প্রকাশিত প্রেস রিলিজে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। রিলিজে বলা হয়েছে, “অনুসন্ধান প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে, কমিটি ইতিমধ্যে বিষয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বহু ব্যক্তির বক্তব্য রেকর্ড করেছে। সম্পূর্ণ, ন্যায়সঙ্গত এবং সঠিক তদন্ত নিশ্চিত করার জন্য, অতিরিক্ত সাক্ষাৎকার এবং তথ্য বিশ্লেষণ প্রয়োজন।”
এই সিদ্ধান্তের ফলে জাহানারা আলমের অভিযোগের পূর্ণাঙ্গ তদন্তের সম্ভাবনা বাড়বে বলে আশা করা যায়। অতিরিক্ত সময়ের মাধ্যমে কমিটি আরও গভীরভাবে বিষয়টি বিশ্লেষণ করে, সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের মতামত সংগ্রহ করতে পারবে।
বিএসিসি উল্লেখ করেছে যে, সময়সীমা বাড়ানোর পরেও কমিটি দ্রুত এবং কার্যকরভাবে কাজ চালিয়ে যাবে, যাতে শেষ পর্যন্ত একটি নির্ভরযোগ্য এবং স্বচ্ছ প্রতিবেদন উপস্থাপন করা যায়।
পরবর্তী ধাপ হিসেবে, কমিটি নতুন সাক্ষাৎকারের ব্যবস্থা করবে এবং সংগ্রহ করা তথ্যের ভিত্তিতে বিশ্লেষণ সম্পন্ন করবে। বেসিসি শেষ পর্যন্ত চূড়ান্ত প্রতিবেদন গ্রহণের পর, সংশ্লিষ্ট নীতিমালা ও পদক্ষেপ নির্ধারণের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।



