দুদিন আগে, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) রোববার জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই) এর তেরো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে তদন্তের আদেশ জারি করে। এই পদক্ষেপের তথ্য দুদকের উপ-পরিচালক ও জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আকতারুল ইসলাম প্রকাশ করেন।
দুদক কর্তৃক জানানো অনুসারে, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে প্রমাণ সংগ্রহের দায়িত্ব সংস্থার নিজস্ব তদন্তকর্মীদের ওপর অর্পিত হয়েছে। অভিযোগগুলোতে উল্লেখ আছে যে, কিছু কর্মকর্তা নিজস্ব ও স্ত্রীদের নামে জানাবার বাইরে সম্পদ সঞ্চয় করেছেন, যা আইনসঙ্গত উৎস থেকে প্রাপ্ত নয় বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।
দুদকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, “অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের ক্ষমতার দুর্ব্যবহার, মানি লন্ডারিং এবং অজানা উৎস থেকে সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে।” তিনি আরও যোগ করেন যে, এই অভিযোগগুলো প্রাথমিক পর্যায়ে যাচাই করা হচ্ছে এবং প্রমাণের ভিত্তিতে যথাযথ আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
তদন্তের অধীনস্থ কর্মকর্তাদের তালিকায় এনএসআইর অতিরিক্ত পরিচালক মো. আজিজুর রহমান, এমএসকে শাহীন ও মোহাম্মদ জহীর উদ্দিন, যুগ্ম পরিচালক মো. ইসমাইল হোসেন, জিএম রাসেল রানা, এফএম আকবর হোসেন, মো. নাজমুল হক, বদরুল আহমেদ, শেখ শাফিনুল হক, উপ-পরিচালক কামরুল হাসান, আমিনুল হক, শেখ খাইরুল বাসার এবং জহরলাল জয়ধর অন্তর্ভুক্ত।
প্রতিটি নামের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পদবী উল্লেখ করা হয়েছে, যাতে তদন্তের পরিসর স্পষ্ট হয়। দুদক এই কর্মকর্তাদের থেকে তাদের বক্তব্য সংগ্রহের চেষ্টা করছে এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় বজায় রেখে প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হবে।
প্রাথমিক পর্যায়ে, দুদক কর্তৃক গৃহীত পদক্ষেপগুলোতে তদন্ত দলকে সম্পদ তালিকা, ব্যাংক স্টেটমেন্ট এবং অন্যান্য আর্থিক নথি সংগ্রহের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক সম্পদের উৎস যাচাইয়ের জন্য ফরেনসিক বিশ্লেষণও চালু করা হয়েছে।
আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে, দুদক যদি প্রমাণের ভিত্তিতে অপরাধমূলক দায়ীতা প্রতিষ্ঠা করতে পারে, তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হবে। এই ক্ষেত্রে, আদালতকে অভিযোগের গুরত্ব, প্রমাণের পরিমাণ এবং অভিযুক্তদের পূর্বের রেকর্ড বিবেচনা করে রায় দিতে হবে।
দুদকের উপ-পরিচালক আকতারুল ইসলাম উল্লেখ করেন, তদন্তের সময়সীমা নির্ধারিত হয়েছে এবং সকল প্রাসঙ্গিক নথি সংগ্রহের পর দ্রুতই আদালতে উপস্থাপন করা হবে। তিনি আরও জানান, তদন্ত চলাকালীন কোনো বাধা বা হস্তক্ষেপের ক্ষেত্রে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এনএসআইর অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর এই তদন্তের প্রভাবও বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। যদি অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তবে সংস্থার সুনাম ও কার্যক্রমে ব্যাপক পরিবর্তন আনা হতে পারে, যার মধ্যে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের পদত্যাগ বা বরখাস্তের সম্ভাবনা রয়েছে।
দুদকের এই পদক্ষেপের পর, অন্যান্য নিরাপত্তা সংস্থা ও সরকারি দপ্তরও তাদের নিজস্ব অভ্যন্তরীণ পর্যবেক্ষণ বাড়িয়ে তুলেছে। বিশেষ করে, আর্থিক লেনদেনের স্বচ্ছতা ও সম্পদ ঘোষণার নিয়মকানুন কঠোর করার জন্য নীতি প্রণয়নের আলোচনা চলছে।
বিগত কয়েক মাসে একই রকম দুর্নীতি মামলায় দুদক দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েছে। তবে এইবারের তদন্তে দুদক তার স্বতন্ত্র তদন্ত ক্ষমতা ব্যবহার করে প্রমাণভিত্তিক ফলাফল বের করার লক্ষ্য নিয়েছে।
দুদক এখন পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পায়নি, তবে ভবিষ্যতে তাদের বক্তব্য ও প্রতিক্রিয়া পাবার সম্ভাবনা রয়েছে। তদন্তের অগ্রগতি ও আদালতের রায়ের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারিত হবে।
এই বিষয়টি দেশের নিরাপত্তা ও শাসনব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার বৃহত্তর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। দুদকের তদন্তের ফলাফল কীভাবে আইনগত প্রয়োগে রূপান্তরিত হবে, তা সময়ের সাথে স্পষ্ট হবে।



