বাংলাদেশের দ্রুততম পেসার নাহিদ রানা, ২৩ বছর বয়সী, রঙপুর রাইডার্সের হয়ে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (BPL) অংশ নিতে প্রস্তুত। লিগের সূচনা ২৬ ডিসেম্বর, আর রানা রবিবার বশুন্ধরা স্পোর্টস সিটিতে দলের প্রশিক্ষণ শেষে তার পরিকল্পনা প্রকাশ করেছেন।
প্রশিক্ষণ শেষে রানা বললেন, “আমি ধারাবাহিকতা বজায় রাখার চেষ্টা করব এবং এই BPL‑এ আমি শিখে নেওয়া দক্ষতাগুলো মাঠে প্রয়োগ করব।” তিনি আরও যোগ করেন, “প্রতিটি ম্যাচে আমার লক্ষ্য একটিই – ধাপে ধাপে অগ্রসর হওয়া এবং আমার শক্তি অনুযায়ী দলকে সহায়তা করা।”
রানা বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন যে তিনি বর্তমানে ইয়র্কার এবং স্লো বলের নিখুঁততা বাড়ানোর ওপর কাজ করছেন। “T20 ক্রিকেটে এই দুটো ডেলিভারি খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রভাবশালী,” তিনি বলেন, “এগুলোই এখন আমার প্রশিক্ষণের মূল দিক।”
ব্যক্তিগত রেকর্ডের চেয়ে দলীয় প্রভাবকে বেশি গুরুত্ব দিয়ে রানা স্পষ্ট করেছেন যে তিনি কোনো ব্যক্তিগত মাইলস্টোন, যেমন সর্বোচ্চ উইকেট নেওয়া, নির্ধারণ করেন না। “যদি আমি ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে দুইটি উইকেট নিতে পারি, তবে তা আমাকে সন্তুষ্ট করবে,” তিনি যোগ করেন।
রানা আরও উল্লেখ করেছেন, “সমালোচনা শুধু স্বাধীন সাংবাদিকতার বিষয় নয়, বরং সুশাসনের জন্য প্রয়োজনীয়।” এই মন্তব্যটি তার খেলাধুলার দৃষ্টিভঙ্গি থেকে আলাদা হলেও, তিনি যে পরিবেশে কাজ করছেন তার প্রতি তার দায়িত্ববোধকে প্রকাশ করে।
প্রশিক্ষণের সময় রানা বললেন, তিনি তার ডেলিভারিগুলোর এক্সিকিউশন সূক্ষ্মভাবে সমন্বয় করছেন। বিশেষ করে, তিনি বলের গতি ও লাইন ঠিক করে ইয়র্কারকে আরও কঠিন করে তুলতে এবং স্লো বলের ভিন্ন ভিন্ন ভ্যারিয়েশন তৈরি করতে মনোযোগ দিচ্ছেন।
BPL‑এর সূচনা ২৬ ডিসেম্বর, এবং রঙপুর রাইডার্সের প্রথম ম্যাচের তারিখ এখনও নির্ধারিত। রানা এই টুর্নামেন্টে নিজের নতুন দক্ষতা প্রদর্শন করে দলের জয় নিশ্চিত করতে চান।
দলীয় কোচ ও সহকর্মীরা রানার এই প্রস্তুতিকে ইতিবাচকভাবে স্বাগত জানিয়েছেন। তারা আশা করছেন, রানার দ্রুত গতি ও নিয়ন্ত্রিত ডেলিভারি রাইডার্সের বোলিং আক্রমণে নতুন মাত্রা যোগ করবে।
রানার মতে, তার শক্তি হল দ্রুত গতি এবং সঠিক লাইন বজায় রাখা। তিনি এই গুণগুলোকে কাজে লাগিয়ে প্রতিপক্ষের ব্যাটসম্যানদের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে চান। “আমি জানি আমার কী শক্তি, এবং সেগুলোকে সর্বোচ্চভাবে ব্যবহার করে দলকে সাহায্য করব,” তিনি বলেন।
রানার এই দৃষ্টিভঙ্গি তার ক্যারিয়ারের একটি নতুন পর্যায়ের সূচনা নির্দেশ করে। ২৩ বছর বয়সে তিনি ইতিমধ্যে আন্তর্জাতিক স্তরে দ্রুত পেসার হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছেন, এবং এখন BPL‑এ তার পারফরম্যান্স দেশের ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ গড়তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
ভক্ত ও বিশ্লেষকরা রানার পারফরম্যান্সের জন্য উচ্চ প্রত্যাশা রাখছেন। তিনি যদি তার পরিকল্পনা অনুযায়ী ইয়র্কার ও স্লো বলের দক্ষতা কাজে লাগাতে পারেন, তবে রঙপুর রাইডার্সের টুর্নামেন্টে অগ্রগতি নিশ্চিত হবে। আগামী ম্যাচগুলোতে রানা কীভাবে তার নতুন কৌশলগুলো বাস্তবায়ন করবেন, তা সকলের নজরে থাকবে।



