ফেব্রুয়ারি মাসের একই রাতে, সীন বেকার ‘অ্যানোরা’ চলচ্চিত্রের জন্য ডিরেক্টরস গিল্ড অফ আমেরিকা (ডি.জি.এ.) এবং প্রোডিউসারস গিল্ড অফ আমেরিকা (পি.জি.এ.) থেকে শীর্ষ পুরস্কার দু’টি একসাথে গ্রহণ করেন। একই সময়ে, ওয়াইটার্স গিল্ড অফ আমেরিকা (ডব্লিউ.জি.এ.) থেকে মূল স্ক্রিপ্টের সেরা পুরস্কারও ‘অ্যানোরা’ পায়, যা পরে অস্কারের সেরা ছবি পুরস্কার জিততে সহায়তা করে।
এই ধরনের ত্রিমাত্রিক জয়, অর্থাৎ ডি.জি.এ., পি.জি.এ. ও ডব্লিউ.জি.এ. সবই একসাথে জয় করা, চলচ্চিত্র ইতিহাসে বিরল। একাডেমি যখন সেরা ছবি বিভাগে পাঁচ থেকে দশটি নাম প্রস্তাবের সংখ্যা বাড়ায়, তখন গত পনেরো বছরে মাত্র চারটি চলচ্চিত্র এই সম্পূর্ণ জয় অর্জন করেছে। প্রথমটি ২০১০ সালে ক্যাথরিন বিগেলোর ‘দ্য হার্ট লকার’, দ্বিতীয়টি ২০১৩ সালে বেন অ্যাফ্লেকের ‘আর্গো’, তৃতীয়টি ২০২৩ সালে ড্যানিয়েল কওয়ান ও ড্যানিয়েল শেইনরেটের ‘এভরিথিং এভরিওয়্যার অল অ্যাট ওয়ান্স’, এবং সর্বশেষটি ২০২৫ সালে সীন বেকারের ‘অ্যানোরা’।
কিছু চলচ্চিত্র এই ত্রিমাত্রিক জয়ের কাছাকাছি পৌঁছেছে, তবে কোনো এক গিল্ডে হারের ফলে সম্পূর্ণ স্বচ্ছন্দ জয় অর্জন করতে পারেনি। ২০১৮ সালে ‘দ্য শেপ অফ ওয়াটার’ ডি.জি.এ., পি.জি.এ. ও অস্কার সেরা ছবি জিতলেও, ওয়াইটার্স গিল্ডের মূল স্ক্রিপ্ট পুরস্কার জর্ডান পিলের ‘গেট আউট’ পায়।
২০২২ সালে ‘কোডা’ পি.জি.এ. ও ডব্লিউ.জি.এ. (অ্যাডাপ্টেড স্ক্রিপ্ট) জিতলেও, ডি.জি.এ. জেন ক্যাম্পিয়নের ‘দ্য পাওয়ার অফ দ্য ডগ’কে পুরস্কৃত করে। একইভাবে, ২০২৪ সালে ‘অপেনহাইমার’ ডি.জি.এ., পি.জি.এ. ও অস্কার জিতলেও, ডব্লিউ.জি.এ. অ্যাডাপ্টেড স্ক্রিপ্ট পুরস্কার ‘আমেরিকান ফিকশন’কে দেয়া হয়।
ডব্লিউ.জি.এর যোগ্যতা নীতি নির্ধারণ করে যে শুধুমাত্র সেই শিরোনামগুলো বিবেচনা করা হবে, যেগুলোর লেখক গিল্ডের সদস্য অথবা কোনো সহযোগী গিল্ডের চুক্তিতে আছে, অথবা ডব্লিউ.জি.এর মৌলিক চুক্তির অধীনে রচিত। এই নীতির কারণে গত পনেরো বছরে চারটি চলচ্চিত্র স্বচ্ছন্দ জয় থেকে বাদ পড়েছে: ২০১১ সালের ‘দ্য কিংস স্পিচ’, ২০১২ সালের ‘দ্য আর্টিস্ট’, ২০১৫ সালের ‘বার্ডম্যান’ এবং ২০২১ সালের ‘নোম্যাডল্যান্ড’।
এই বছরেও ত্রিমাত্রিক জয়ের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে। শিল্পের বিশ্লেষকরা প্রশ্ন তুলছেন, ‘অ্যানোরা’ কি চারবারের ধারাবাহিক জয় অর্জন করতে পারবে? অথবা অন্য কোনো চলচ্চিত্র এই গিল্ডগুলোকে একসাথে জয় করতে পারবে? বর্তমানে কয়েকটি চলচ্চিত্রের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, যেগুলো ডি.জি.এ., পি.জি.এ. ও ডব্লিউ.জি.এ. সবই জয় করার সম্ভাবনা রাখে।
গিল্ড পুরস্কারগুলোতে জয়ী হওয়া চলচ্চিত্রগুলো সাধারণত শিল্পের স্বীকৃতি ও বাণিজ্যিক সাফল্যের দ্বিগুণ সুবিধা পায়। ডি.জি.এ. ও পি.জি.এ. মূলত পরিচালনা ও উৎপাদনের মানদণ্ড নির্ধারণ করে, আর ডব্লিউ.জি.এ. স্ক্রিপ্টের গুণগত মানের ওপর গুরুত্ব দেয়। এই তিনটি গিল্ডের সমন্বিত স্বীকৃতি, অস্কার জয়ের সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেয়।
‘অ্যানোরা’র ক্ষেত্রে, ডি.জি.এ. ও পি.জি.এ. দু’টি শীর্ষ পুরস্কার একসাথে জয় করা, এবং ডব্লিউ.জি.এর মূল স্ক্রিপ্ট পুরস্কার অর্জন, অস্কার ভোটারদের মধ্যে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করেন। এই ধারাবাহিক জয়, চলচ্চিত্রের প্রচার ও দর্শকসংখ্যা বাড়াতে সহায়তা করেছে।
অস্কার সেরা ছবি পুরস্কার জয়ের পর, ‘অ্যানোরা’ আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে উচ্চ প্রশংসা পেয়েছে এবং বক্স অফিসে ভালো ফলাফল দেখিয়েছে। গিল্ড পুরস্কারগুলো চলচ্চিত্রের গুণগত মানের সূচক হিসেবে কাজ করে, যা দর্শকদের মধ্যে আগ্রহ জাগিয়ে তোলে।
গিল্ড জয়ের ইতিহাসে দেখা যায়, স্বচ্ছন্দ জয় অর্জন করা চলচ্চিত্রগুলো সাধারণত দীর্ঘমেয়াদে ক্লাসিক হিসেবে বিবেচিত হয়। ‘দ্য হার্ট লকার’, ‘আর্গো’, ‘এভরিথিং এভরিওয়্যার অল অ্যাট ওয়ান্স’ ও ‘অ্যানোরা’ই এ ধরনের উদাহরণ। এই চলচ্চিত্রগুলো শিল্পের মানদণ্ডকে পুনর্নির্ধারণ করেছে।
অবশেষে, গিল্ড পুরস্কার ও অস্কার জয়ের সম্পর্কের ওপর বিশ্লেষণ চালিয়ে যাওয়া হবে। শিল্পের বিশেষজ্ঞরা ভবিষ্যতে কোন চলচ্চিত্রগুলো এই তিনটি গিল্ডের শীর্ষ পুরস্কার একসাথে জয় করতে পারে, তা নিয়ে পূর্বাভাস দিচ্ছেন। তবে বর্তমান পর্যন্ত ‘অ্যানোরা’ই একমাত্র চলচ্চিত্র, যা ডি.জি.এ., পি.জি.এ., ডব্লিউ.জি.এ. ও অস্কার সেরা ছবি একসাথে জয় করেছে।
এই তথ্যগুলো অনুসারে, গিল্ড পুরস্কার জয়ের প্রবণতা ও অস্কার জয়ের সম্ভাবনা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায়। শিল্পের ভবিষ্যৎ গতি নির্ধারণে গিল্ডের ভূমিকা অপরিহার্য, এবং ‘অ্যানোরা’র সাফল্য এই প্রবণতাকে পুনরায় নিশ্চিত করেছে।



