22 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধফয়সাল করিম মাসুদ ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ১২৭ কোটি টাকার অস্বাভাবিক লেনদেনের তদন্ত...

ফয়সাল করিম মাসুদ ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ১২৭ কোটি টাকার অস্বাভাবিক লেনদেনের তদন্ত শুরু

ঢাকার পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট রোডে ১২ ডিসেম্বর শরিফ ওসমান বিন হাদি গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর সিআইডি দ্রুত তদন্তের দিক পরিবর্তন করে। মূল অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার স্বার্থ সংশ্লিষ্টদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ১২৭ কোটি টাকার অস্বাভাবিক লেনদেনের তথ্য পাওয়া যায় এবং তা ভিত্তি করে আর্থিক তদন্ত চালু করা হয়।

সিআইডি অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) আবু তালেবের বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, ঘটনাস্থলে ক্রাইমসিন ইউনিটের উপস্থিতি, সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ এবং গুলির খোসা সংগ্রহের পাশাপাশি ফরেনসিক বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এই প্রাথমিক পদক্ষেপের পর ব্যাংক হিসাবের তথ্য বিশ্লেষণ করে মানিলন্ডারিং অনুসন্ধান শুরু করা হয়।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ফয়সাল ও তার সহযোগীদের বিভিন্ন ব্যাংক অ্যাকাউন্টে মোট ১২৭ কোটি টাকার অস্বাভাবিক লেনদেনের রেকর্ড রয়েছে। সিআইডি এই লেনদেনগুলোকে সন্দেহজনক হিসেবে চিহ্নিত করে, যা সম্ভবত অপরাধমূলক কার্যক্রমের অর্থায়ন হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে বলে অনুমান করা হচ্ছে।

অধিকন্তু, সিআইডি জানায় যে মূল অভিযুক্তের কাছ থেকে প্রায় ৬.৫ মিলিয়ন টাকা (প্রায় ৬৫ লাখ টাকা) দ্রুত বাজেয়াপ্ত করার জন্য প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এই অর্থের মূল সরবরাহকারী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান চিহ্নিত করার জন্য তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

হত্যার পরিকল্পনা, অর্থায়ন এবং অস্ত্র সরবরাহে কোনো সংগঠিত নেটওয়ার্কের অংশগ্রহণ ছিল কিনা তা নির্ধারণের জন্য সিআইডি একাধিক টিম গঠন করেছে। এই টিমগুলো ব্যাংক লেনদেনের পাশাপাশি ফোন রেকর্ড, মেসেজ এবং অন্যান্য ডিজিটাল প্রমাণ বিশ্লেষণ করে সম্ভাব্য সহায়ক গোষ্ঠীর সন্ধান করছে।

সিআইডি এছাড়াও ফয়সালকে গ্রেপ্তার করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের কথা জানিয়েছে। গ্রেপ্তার প্রক্রিয়ার পাশাপাশি অপরাধের পুরো চক্র উন্মোচনের জন্য তদন্ত চালিয়ে যাবে বলে প্রকাশ করা হয়েছে।

বিবেচনা করা হচ্ছে যে, এই অস্বাভাবিক লেনদেনগুলো কেবলমাত্র হাদির হত্যার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত নয়, বরং বৃহত্তর অপরাধ নেটওয়ার্কের আর্থিক ভিত্তি গঠন করতে পারে। সুতরাং, সিআইডি আর্থিক লেনদেনের পাশাপাশি অন্যান্য অপরাধমূলক কার্যক্রমের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের চেষ্টা করছে।

অধিক তথ্য সংগ্রহের জন্য সিআইডি বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয় করছে। ব্যাংকগুলোকে সংশ্লিষ্ট লেনদেনের বিস্তারিত তথ্য সরবরাহ করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে তদন্তের গতি বাড়ানো যায়।

এই তদন্তের অংশ হিসেবে, সিআইডি ফরেনসিক দল গুলি খোসা এবং অন্যান্য শারীরিক প্রমাণের বিশ্লেষণ চালিয়ে যাচ্ছে। প্রাথমিক ফলাফলগুলো ইতিমধ্যে হাদির গুলি চালানোর সময় ব্যবহৃত অস্ত্রের ধরন ও উৎপত্তি সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত প্রদান করেছে।

সিআইডি উল্লেখ করেছে, তদন্তের সময় প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে আইনগত প্রক্রিয়া দ্রুততর করা হবে, যাতে সন্দেহভাজনদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া যায়। বাজেয়াপ্ত অর্থের ব্যবহার ও পুনর্বণ্টন সংক্রান্ত আইনি নির্দেশনা অনুসরণ করা হবে।

হত্যার পেছনে কোনো রাজনৈতিক বা ধর্মীয় গোষ্ঠীর হস্তক্ষেপ ছিল কিনা তা নির্ণয়ের জন্যও সিআইডি বিশেষ টিম গঠন করেছে। এই টিমগুলো সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে সাক্ষাৎকার, সামাজিক মিডিয়া পর্যবেক্ষণ এবং অন্যান্য সূত্রের মাধ্যমে সম্ভাব্য প্রেরণা ও সমর্থন গোষ্ঠীর সন্ধান করছে।

সর্বশেষে, সিআইডি জানিয়েছে যে, তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে সময়ে সময়ে আপডেট প্রদান করা হবে এবং প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে অপরাধের শিকারের ন্যায়সঙ্গত বিচার নিশ্চিত করা হবে।

৭৯/১০০ ২টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ইত্তেফাকBanglastream
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments