ঢাকা, ২২ ডিসেম্বর – ইনকিলাব মঞ্চের নেতা শারিফ ওসমান বিন হাদি’র বড় ভাই ওমর বিন হাদি, তার ভাইয়ের হত্যার পর ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে কিনা তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে, ন্যায়ের জন্য আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন, যদি মানুষ সত্যিই ওসমান হাদি’কে ভালোবাসে, তার হত্যার দায়ীকে শাস্তি দিতে চায় এবং শাহবাগকে ফ্যাসিজম ও ভারতীয় আধিপত্য থেকে মুক্ত রাখতে চায়, তবে এই আন্দোলনকে অব্যাহত রাখতে হবে।
ওসমান হাদি, ঢাকা-৮ থেকে সংসদীয় প্রার্থী, ১২ ডিসেম্বর পল্টন এলাকায় গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর মাথা আঘাত পেয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। প্রাথমিক চিকিৎসা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও এভারকেয়ার হাসপাতালে করা হয়।
আহত অবস্থার গুরুতরতা বিবেচনা করে, ১৫ ডিসেম্বর তাকে সিঙ্গাপুরে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিমানবাহী করে পাঠানো হয়। সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালেই ১৮ ডিসেম্বর রাতের দিকে তার মৃত্যু ঘটে।
মৃত্যুর পরপরই, ১৯ ডিসেম্বর তার দেহ দেশে পৌঁছে, পরিবার ও সমর্থকরা শোক প্রকাশের জন্য একত্রিত হন। ওমর বিন হাদি উল্লেখ করেন, পরিবার আর কোনো আর্থিক সহায়তা বা দান চায় না; একমাত্র চাহিদা হল ওসমান হাদি’র অসমাপ্ত বিপ্লবকে সম্পন্ন করা।
ওমর বলেন, ওসমান হাদি’র নেতৃত্বে শুরু হওয়া বিপ্লব, যা তার শহীদত্বের কারণও, তা দেশের মানুষকে সম্পন্ন করতে হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ওসমান হাদি’র মৃত্যুর পর তার পরিবার ও ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যরা এখনও স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারেনি।
দোয়া মহফিলটি জামায়াত‑ই‑ইসলামি আয়োজিত করে আল‑ফালাহ অডিটোরিয়ামে, মঘবাজারে অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে জামায়াতের সচিব সাধারণ মিয়া গোলাম পারওয়ার প্রধানতায় উপস্থিত ছিলেন।
পারওয়ার মহফিলের সময় উল্লেখ করেন, ওসমান হাদি’র হত্যার পর থেকে দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে উদ্বেগ বাড়ছে; জুলাই মাসে গৃহীত বিভিন্ন আন্দোলনের অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে আর কে লক্ষ্যবস্তু হতে পারে, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে। তিনি সরকারকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে আহ্বান জানান, কারণ এই ঘটনার ফলে সব ৩০০টি সংসদীয় নির্বাচনী এলাকায় প্রার্থী ও তাদের পরিবার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন।
পারওয়ার আরও বলেন, কিছু সাংবাদিক, কবি ও লেখক টেলিভিশন শোতে এমন মন্তব্য করছেন যেন আওয়ামী লীগের অনুমোদন ছাড়া নির্বাচন সম্ভব নয়। তিনি এই ধরনের মন্তব্যকে রাজনৈতিক স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচারের পথে বাধা হিসেবে দেখেন।
এই ঘটনার ফলে দেশের রাজনৈতিক মঞ্চে উত্তেজনা বাড়তে পারে, বিশেষ করে নির্বাচনের পূর্বে নিরাপত্তা বিষয়ক উদ্বেগ বাড়বে। ওসমান হাদি’র পরিবার ও সমর্থকরা এখনো শোকের মধ্যে, তবে ওমর বিন হাদি’র আহ্বান অনুসারে ন্যায়বিচার ও আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া দেশের রাজনৈতিক গতিপথকে প্রভাবিত করতে পারে।



