27 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeআন্তর্জাতিকবিজিবি রাতারাতি আটক করা ভারতীয় বিসিএফ কনস্টেবলকে হস্তান্তর করেছে

বিজিবি রাতারাতি আটক করা ভারতীয় বিসিএফ কনস্টেবলকে হস্তান্তর করেছে

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) আজ সন্ধ্যায় ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) এক কনস্টেবলকে হস্তান্তর করেছে। এই ব্যক্তি, যাকে বিড প্রোকাশ নামে পরিচিত, লালমনিরহাটের পাতগ্রাম উপজেলায় অঙ্গারপোটা সীমান্তে অবৈধভাবে প্রবেশের অভিযোগে আটক হয়েছিলেন। তার আটক সময় প্রায় সকাল ৪:৩০ টা, যখন তিনি ভারতীয় গবাদি পশু চোরাচালান থামাতে চেয়ে সীমান্ত অতিক্রম করে প্রায় ২০০ গজ দূরে ঢুকে গিয়েছিলেন।

প্রোকাশের ইউনিট হল আরজুন বিসিএফ ক্যাম্প, যা পশ্চিমবঙ্গের কুচবিহারের মেখলিগঞ্জ থানা অধীনে ১৭৪ বিসিএফ ব্যাটালিয়নের অংশ। তিনি যখন গবাদি পশু চোরদের তাড়া করছিলেন, তখন সীমান্তের শূন্য রেখা অতিক্রম করে বাংলাদেশে প্রবেশ করেন এবং তাৎক্ষণিকভাবে অঙ্গারপোটা ক্যাম্পের রেংপুর ৫১ বিজিবি ব্যাটালিয়নের সৈন্যদের দ্বারা আটক হন।

অধিকারের সময়, বিজিবি কর্মকর্তারা তার সঙ্গে একটি শটগান, দুইটি গোলাবারুদ, একটি বেতার যন্ত্র এবং একটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন জব্দ করেন। এই সামগ্রীগুলো সীমান্তে অবৈধ অস্ত্র ও যোগাযোগ সরঞ্জাম ব্যবহারের সন্দেহ বাড়িয়ে দেয়। আটকের পর, প্রোকাশকে টিনবিঘা করিডোরে অবস্থিত সীমান্তের স্তম্ভ নং ৮১২-এ একটি পতাকা সভার মাধ্যমে বিসিএফের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

বিজিবি ৫১ ব্যাটালিয়নের কমান্ডার লে. কোলোনেল সেলিম আলদিন জানান, বিসিএফের পক্ষ থেকে এই অনধিকারী প্রবেশের জন্য দুঃখ প্রকাশ করা হয়েছে এবং তারা ক্ষমা চেয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, “বিজিবি সর্বদা সীমান্তে সকল ধরণের অপরাধ রোধে সতর্ক থাকে” এবং এই ধরনের ঘটনা দু’দেশের নিরাপত্তা সহযোগিতার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে না।

এই ঘটনার আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটকে বিবেচনা করলে, ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে গবাদি পশু চোরাচালান দীর্ঘদিনের সমস্যা। উভয় দেশের সীমান্তে প্রায়শই গবাদি পশুর অবৈধ পারাপার দেখা যায়, যা স্থানীয় কৃষকদের আয় হ্রাস এবং নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ায়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দু’দেশের সীমান্ত রক্ষাকারী বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় বাড়াতে যৌথ পেট্রোলিং, তথ্য শেয়ারিং এবং প্রশিক্ষণ সেশন চালু হয়েছে।

বিশ্লেষকরা বলেন, এই ধরনের একক ঘটনার পরেও দুই দেশের কূটনৈতিক সংলাপ সক্রিয় থাকে এবং সীমান্তে শান্তি বজায় রাখতে উভয় পক্ষই সমঝোতা বজায় রাখে। একটি আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞ উল্লেখ করেন, “সীমান্তে অল্প সময়ের জন্য ঘটলেও, দ্রুত হস্তান্তর এবং ক্ষমা চাওয়া দু’দেশের পারস্পরিক আস্থা বজায় রাখার গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ”।

বিএসএফের এই ঘটনা পরবর্তী সময়ে রেংপুর ও পাতগ্রাম সীমান্তে অতিরিক্ত নজরদারি বাড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে। উভয় দেশের নিরাপত্তা মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যে একটি যৌথ বৈঠকের আয়োজনের কথা জানিয়েছে, যেখানে গবাদি পশু চোরাচালান রোধে নতুন প্রোটোকল ও প্রযুক্তি ব্যবহার নিয়ে আলোচনা হবে। এছাড়া, সীমান্তে অবৈধ অস্ত্রের প্রবেশ রোধে বেতার যোগাযোগ ও নজরদারি সরঞ্জামের আপডেটের পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

এই হস্তান্তর প্রক্রিয়া আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে স্বীকৃত সীমান্ত প্রোটোকল অনুসরণ করে সম্পন্ন হয়েছে। সীমান্তের স্তম্ভ নং ৮১২-এ অনুষ্ঠিত পতাকা সভা দুই দেশের সীমান্ত রক্ষাকারী বাহিনীর মধ্যে পারস্পরিক সম্মান ও সহযোগিতার প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়।

সামগ্রিকভাবে, এই ঘটনা সীমান্তে নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক সম্পর্কের সূক্ষ্ম ভারসাম্যকে পুনরায় জোরদার করেছে। ভবিষ্যতে, গবাদি পশু চোরাচালান ও অবৈধ অস্ত্র প্রবেশ রোধে উভয় দেশই যৌথ উদ্যোগে কাজ চালিয়ে যাবে, যাতে সীমান্তে শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় থাকে।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক
AI-powered আন্তর্জাতিক content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments