28 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeখেলাধুলাবিসিবি ইন্টেগ্রিটি প্রধান ও সিআইডি সাক্ষাৎ করে বি.পি.এল ২০২৫-২৬ দুর্নীতি মোকাবেলা পরিকল্পনা...

বিসিবি ইন্টেগ্রিটি প্রধান ও সিআইডি সাক্ষাৎ করে বি.পি.এল ২০২৫-২৬ দুর্নীতি মোকাবেলা পরিকল্পনা চূড়ান্ত

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) ইন্টেগ্রিটি ইউনিটের স্বাধীন প্রধান অ্যালেক্স মার্শাল এবং ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্টের (সিআইডি) প্রধান সিবগৎ উল্লাহ রবিবার একত্রিত হয়ে ২০২৫-২৬ মৌসুমের বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বি.পি.এল)‑এর জন্য দুর্নীতি প্রতিরোধের কৌশল চূড়ান্ত করেন। দুই সংস্থার সমন্বয়কে কেন্দ্র করে গৃহীত পদক্ষেপগুলো লিগের স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গৃহীত।

বি.পি.এল দেশের একমাত্র ফ্র্যাঞ্চাইজি ভিত্তিক টি২০ টুর্নামেন্ট, যা ২৪ ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়ার কথা। লিগের জনপ্রিয়তা ও বাণিজ্যিক মূল্য বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দুর্নীতির ঝুঁকি বাড়ছে, তাই ইন্টেগ্রিটি ইউনিটের গঠন ও সিআইডি’র সঙ্গে সমন্বয় বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।

বিগত বছরগুলোতে বি.পি.এল ধারাবাহিকভাবে ম্যাচ‑ফিক্সিং ও স্পট‑ফিক্সিংয়ের অভিযোগে জর্জরিত হয়েছে। ২০১২ সালে লিগের সূচনা থেকেই বিভিন্ন স্ক্যান্ডাল প্রকাশ পেয়েছে, যা ক্রিকেটের স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচারকে ক্ষুণ্ন করেছে। এসব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বিসিবি ও সিআইডি একত্রে কঠোর পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করেছে।

২০১৩ সালের বি.পি.এল‑এ প্রাক্তন জাতীয় দলীয় অধিনায়ক মোহাম্মদ আশরাফুলের ম্যাচ‑ফিক্সিং ও স্পট‑ফিক্সিংয়ের অভিযোগে আট বছর (তিন বছর স্থগিত) শাস্তি আরোপিত হয়। একই বছর লিগের অখণ্ডতা রক্ষার জন্য গৃহীত পদক্ষেপের পরেও ২০১৪ সালের সংস্করণটি সিআইডি’র তদন্তের কারণে স্থগিত করা হয়। এই ঘটনা লিগের নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা প্রকাশ করে।

সাম্প্রতিক সময়ে বিসিবি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) প্রাক্তন গ্লোবাল অ্যান্টি‑করাপশন হেডকে ইন্টেগ্রিটি ইউনিটের প্রধান হিসেবে নিয়োগ করে। তার আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা ও নীতি-নির্ধারণের দক্ষতা লিগের দুর্নীতি বিরোধী কাঠামোকে শক্তিশালী করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

মিটিংয়ে মার্শাল জোর দিয়ে বলেন, বি.পি.এল‑কে সম্পূর্ণভাবে দুর্নীতিমুক্ত রাখতে তিনি কোনো কষ্টে পিছু হবেন না। তিনি উল্লেখ করেন, নতুন ইউনিটের সদস্যরা সিআইডি’র সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে এবং সন্দেহজনক কোনো কার্যকলাপ দ্রুত সনাক্ত করে ব্যবস্থা নেবে। উল্লাহও একই দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করে, তিনি বলেন সিআইডি লিগের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় গোয়েন্দা ও তদন্ত ক্ষমতা প্রদান করবে।

দুই সংস্থা একাধিক পর্যায়ে নজরদারি ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনা করেছে। এতে ম্যাচের লাইভ স্ট্রিমিং, খেলোয়াড় ও স্টাফের আর্থিক লেনদেনের তদারকি, এবং আন্তর্জাতিক অ্যান্টি‑করাপশন নেটওয়ার্কের সঙ্গে তথ্য শেয়ারিং অন্তর্ভুক্ত। এছাড়া সন্দেহজনক বাজি বা অপ্রকাশিত যোগাযোগের ক্ষেত্রে তৎক্ষণাৎ সতর্কতা জারি করা হবে।

বিএফএল‑এর নতুন মৌসুমে ৬টি দল অংশ নেবে এবং প্রতিটি দল ১০টি ম্যাচের পরপরই অগ্রসর হবে। লিগের সূচি অনুযায়ী প্রথম ম্যাচ ২৪ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হবে, এরপর ধারাবাহিকভাবে সপ্তাহান্তে ও ছুটির দিনে ম্যাচ নির্ধারিত। ইন্টেগ্রিটি ইউনিটের তত্ত্বাবধানে প্রতিটি ম্যাচের আগে ও পরে বিশদ পর্যালোচনা করা হবে।

এই সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে বিসিবি ও সিআইডি বি.পি.এল‑কে আন্তর্জাতিক মানের টুর্নামেন্টে রূপান্তরিত করার লক্ষ্যে কাজ করছে। দুর্নীতি প্রতিরোধে শূন্য সহনশীলতা বজায় রেখে, খেলোয়াড়, কোচ ও স্টাফদের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হবে এবং ভক্তদের জন্য ন্যায়সঙ্গত ও উত্তেজনাপূর্ণ ক্রিকেট উপভোগের পরিবেশ গড়ে তোলা হবে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: Cricbuzz
ক্রীড়া প্রতিবেদক
ক্রীড়া প্রতিবেদক
AI-powered খেলাধুলা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments