বিজয় বইমেলা ২০২৫, যা দেশের অন্যতম বৃহৎ সাহিত্য মেলা, ২২ ডিসেম্বর রবিবারের একটি বিবৃতিতে একদিন আগে সমাপ্তির সিদ্ধান্ত জানানো হয়। মেলাটির যৌথ সমন্বয়কারী ও গ্রন্থিকের প্রকাশক রাজ্জাক রুবেল এই ঘোষণার মুখ্য বক্তা ছিলেন। তিনি উল্লেখ করেন, বাস্তব পরিস্থিতি ও বর্তমান পরিবেশের প্রভাবের কারণে মেলাটি নির্ধারিত সময়ের আগে শেষ করতে হচ্ছে।
মেলাটির মূল সময়সূচি অনুযায়ী, অনুষ্ঠানটি ২৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত চলার কথা ছিল, তবে অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি পরিচালনা দলকে ত্বরিত পদক্ষেপ নিতে বাধ্য করেছে। রুবেল জানান, এই সিদ্ধান্তটি হালকাভাবে নেওয়া হয়নি; তা মেলাটির সুষ্ঠু পরিচালনা ও অংশগ্রহণকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য নেওয়া হয়েছে।
বিবৃতি অনুযায়ী, মেলাটির শুরুতে বহু পাঠক, প্রকাশক ও সাহিত্যপ্রেমী সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের ইচ্ছা প্রকাশ করেছিল। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নামের সঙ্গে যুক্ত রাজনৈতিক সংবেদনশীলতা ও সামাজিক প্রতিক্রিয়া বাড়তে থাকে। রুবেল উল্লেখ করেন, “বিজয়” শব্দটি ব্যবহার করা হলে কিছু গোষ্ঠীর মধ্যে বিরোধের সঞ্চার হতে পারে, যা মেলাটির মূল লক্ষ্য—সাহিত্য ও মুক্তচিন্তাকে প্রচার করা—কে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
রুবেল আরও বলেন, “বিজয়, বই এবং মুক্তচিন্তা কোনো আপসের বিষয় নয়” এবং এই তিনটি মূলনীতিকে অক্ষুণ্ণ রাখা জরুরি। তিনি জোর দিয়ে বলেন, মেলাটির নাম এবং বর্তমান রাজনৈতিক পরিবেশের মিশ্রণই প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা মেলাটির স্বাভাবিক কার্যক্রমকে ব্যাহত করেছে।
এই অপ্রত্যাশিত পরিবর্তনের ফলে মেলাটির অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে বিস্ময় ও হতাশা দেখা দিয়েছে। বহু প্রকাশক ও পাঠক এই সিদ্ধান্তকে অস্বাভাবিক বলে বিবেচনা করছেন, তবে আয়োজকরা পরিস্থিতি বিবেচনা করে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করেছেন।
বিজয় বইমেলা, যা প্রতি বছর দেশের বিভিন্ন কোণ থেকে প্রকাশক, লেখক ও পাঠকদের একত্রিত করে, সাংস্কৃতিক বিনিময়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হিসেবে পরিচিত। মেলাটির এই অকাল সমাপ্তি স্থানীয় ব্যবসা ও সংশ্লিষ্ট শিল্পের উপরও প্রভাব ফেলতে পারে, যদিও এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশিত হয়নি।
মেলাটির সমাপ্তি ঘোষণার পর, অংশগ্রহণকারীদের জন্য টিকিট রিফান্ড বা অন্যান্য সুবিধা সংক্রান্ত কোনো স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। তবে আয়োজকরা ভবিষ্যতে পরিস্থিতি উন্নত হলে আবার এই ধরনের ইভেন্টের পরিকল্পনা করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।
বাজারে মেলাটির নাম ও তার রাজনৈতিক সংযোগ নিয়ে আলোচনা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে, সাংস্কৃতিক ইভেন্টের স্বতন্ত্রতা রক্ষার জন্য কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া উচিত, তা নিয়ে বিভিন্ন মতামত উত্থাপিত হয়েছে। রুবেল এই বিষয়টি তুলে ধরে বলেন, মেলাটির মূল উদ্দেশ্য হল পাঠকদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন এবং নতুন বই প্রকাশের সুযোগ তৈরি করা।
মেলাটির অকাল সমাপ্তি যদিও একটি চ্যালেঞ্জ, তবু এটি ভবিষ্যতে আরও স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষভাবে পরিচালিত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি করে। আয়োজকরা আশা প্রকাশ করছেন, পরবর্তী বছরগুলোতে নামের পরিবর্তন বা অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থার মাধ্যমে মেলাটিকে পুনরায় চালু করা সম্ভব হবে।
সর্বোপরি, বিজয় বইমেলা ২০২৫-এর একদিন আগে বন্ধের সিদ্ধান্ত বর্তমান সামাজিক-রাজনৈতিক পরিবেশের প্রভাবকে স্পষ্টভাবে প্রকাশ করে। এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে আয়োজকরা মেলাটির মূল মিশন—বই, মুক্তচিন্তা ও সাংস্কৃতিক সমৃদ্ধি—কে অগ্রাধিকার দিয়ে ভবিষ্যতে আরও সুষ্ঠু ও নিরাপদ পরিবেশে পুনরায় আয়োজনের পরিকল্পনা করছেন।



