পটুয়াখালী প্রেসক্লাবের ২০২৬ সালের কার্যনির্বাহী কমিটির গঠন আজ (২১ ডিসেম্বর) দুপুর ১২টায় ঘোষিত হয়েছে। নির্বাচনের ফলাফল ক্লাবের প্রাঙ্গণে উপস্থাপন করা হয়, যেখানে নতুন সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক এবং অন্যান্য পদধারীদের নাম প্রকাশ করা হয়। এই পরিবর্তনটি ক্লাবের এক বছরের মেয়াদে (১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬) কার্যকর হবে।
নতুন সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হন গোলাম কিবরিয়া, যিনি স্থানীয় দৈনিক “গণদাবী”র সম্পাদক এবং একই সঙ্গে নয়াদিগন্তের জেলা প্রতিনিধি। সাধারণ সম্পাদক পদে অধিষ্ঠিত হলেন সঞ্জয় কুমার দাস (লিটু), যিনি “বাংলাদেশ প্রতিদিন”ের জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেন। উভয়েই মিডিয়া ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন, যা প্রেসক্লাবের কার্যক্রমে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি আনবে বলে আশা করা হচ্ছে।
নির্বাচনের ঘোষণার দায়িত্ব পালন করেন মুফতি সালাহউদ্দিন, যিনি পূর্বে ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন এবং বর্তমানে আরটিভি ও “সমকাল”ের জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছেন। তিনি ফলাফল ঘোষণা করার সময় উল্লেখ করেন, এই নির্বাচন কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছাড়াই সম্পন্ন হয়েছে, যা ক্লাবের অভ্যন্তরীণ ঐক্যকে প্রতিফলিত করে।
কমিটির অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পদে নির্বাচিত হলেন সহ-সভাপতি গোলাম রহমান, যিনি “আমার দেশ”ের সঙ্গে যুক্ত, এবং যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক বিলাস দাস, যিনি “প্রথম আলো”র সাংবাদিক। অর্থ সম্পাদক হিসেবে নিযুক্ত হন আতিকুর রহমান, যিনি “বাংলাদেশ বেতার”র সঙ্গে কাজ করেন। এই তিনজনের পেশাগত পটভূমি ক্লাবের আর্থিক ও প্রশাসনিক দিকগুলোকে সুসংহত করতে সহায়তা করবে।
কাজী শামসুর রহমান ইকবাল, যিনি “বিটিভি” ও “বিএসএস”র সঙ্গে যুক্ত, জালাল আহমেদ (“মানবজমিন”), মো. মোখলেছুর রহমান (“জনকণ্ঠ”), এমরান হাসান সোহেল (“কালের কণ্ঠ”), এবং আফরিন জাহান নিনা (“দেশ বার্তা”)কে কার্যনির্বাহী সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই সদস্যরা মিডিয়া ক্ষেত্রের বিভিন্ন শাখা থেকে প্রতিনিধিত্ব করে, যা প্রেসক্লাবের বহুমুখী দৃষ্টিভঙ্গি নিশ্চিত করবে।
নতুন কমিটির গঠন ক্লাবের সদস্যদের মধ্যে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পেয়েছে। বেশিরভাগ সদস্য নতুন নেতৃত্বের প্রতি আস্থা প্রকাশ করে, বিশেষ করে কিবরিয়া ও সঞ্জয়ের মিডিয়া নেটওয়ার্ককে ক্লাবের কার্যক্রমে শক্তিশালী ভূমিকা পালনকারী হিসেবে দেখছেন। একই সঙ্গে, কিছু সদস্য উল্লেখ করেছেন যে নির্বাচনের সময় কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় প্রক্রিয়াটিতে স্বচ্ছতা বজায় রাখা কঠিন হতে পারে, তবে বর্তমান গঠনকে তারা স্বাগত জানিয়েছেন।
প্রেসক্লাবের নতুন নেতৃত্বের অধীনে স্থানীয় সাংবাদিকদের সমন্বয়, প্রশিক্ষণ ও নৈতিক মানদণ্ড উন্নয়নের পরিকল্পনা করা হয়েছে। বিশেষ করে, কিবরিয়া ও সঞ্জয়ের নেতৃত্বে ক্লাবের বার্ষিক সভা, কর্মশালা এবং মিডিয়া সচেতনতা ক্যাম্পেইনগুলোকে আরও কাঠামোবদ্ধ করা হবে বলে আশা করা যায়। এই উদ্যোগগুলো স্থানীয় সংবাদ পরিবেশকে সুদৃঢ় করতে এবং সাংবাদিকদের পেশাগত উন্নয়নে সহায়তা করবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, যদিও প্রেসক্লাবের কাজ সরাসরি রাজনৈতিক নয়, তবে মিডিয়া সংস্থার নেতৃত্বে পরিবর্তন স্থানীয় রাজনীতির সঙ্গে সম্পর্কিত বিষয়গুলোতে প্রতিবেদন করার পদ্ধতিতে প্রভাব ফেলতে পারে। নতুন কমিটির সদস্যরা বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে যুক্ত থাকায়, তারা রাজনৈতিক ঘটনাবলীর সঠিক ও নিরপেক্ষ কভারেজ নিশ্চিত করতে পারবে।
ক্লাবের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে একাধিক কর্মশালা এবং সাংবাদিক প্রশিক্ষণ সেশন পরিচালনা করা হবে। এছাড়া, স্থানীয় সংবাদ সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় বাড়িয়ে, তথ্যের দ্রুত ও সঠিক প্রচার নিশ্চিত করার জন্য ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের ব্যবহার বাড়ানো হবে। এই সব উদ্যোগের লক্ষ্য হল পটুয়াখালী অঞ্চলের মিডিয়া গুণগত মান উন্নত করা এবং জনসাধারণের তথ্যপ্রাপ্তি সহজতর করা।
সারসংক্ষেপে, পটুয়াখালী প্রেসক্লাবের নতুন কার্যনির্বাহী কমিটি ২০২৬ সালের জন্য গঠিত হয়েছে, যেখানে মিডিয়া ক্ষেত্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা নেতৃত্বে রয়েছেন। তাদের মেয়াদ এক বছর, এবং এই সময়কালে ক্লাবের কার্যক্রমকে আধুনিকায়ন, প্রশিক্ষণ ও নৈতিক মানদণ্ডের উন্নয়নে কেন্দ্রীভূত করা হবে। এই পরিবর্তনটি স্থানীয় সাংবাদিকতার উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা যায়।



