২১ ডিসেম্বর রবিবার ভোরবেলায় লালমনিরহাটের পাটগ্রাম জেলায়, বাংলাদেশি সীমান্ত রক্ষী গার্ড (বিজিবি) একটি সীমান্ত পারাপারের ঘটনা রেকর্ড করে। ডাঙ্গাপাড়া এলাকায়, ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) এর কনস্টেবল বেদ প্রকাশকে আটক করা হয়। তিনি বাংলাদেশ ভূখণ্ডে প্রায় ১০০ গজের মধ্যে প্রবেশের অভিযোগে গ্রেফতার হন।
বিজিবি রংপুর ব্যাটালিয়ন (৫১ বিজিবি) ঘটনাস্থলে দ্রুত টহল চালিয়ে সন্দেহভাজনকে থামায়। টহল দল তার কাছ থেকে একটি ব্যক্তিগত শটগান, দুইটি গুলির কার্টিজ, একটি ওয়্যারলেস রেডিও সেট এবং মোবাইল ফোন জব্দ করে। জব্দকৃত সামগ্রীগুলো পরবর্তীতে তদন্তের জন্য সংরক্ষণ করা হয়।
বেদ প্রকাশের পূর্ণ নাম এবং পদবী প্রকাশ করা হয়েছে; তিনি ১৭৪ ব্যাটালিয়নের অর্জুন ক্যাম্পে কনস্টেবল হিসেবে কর্মরত। তার কর্মস্থল ও দায়িত্বের বিবরণ অনুসারে, তিনি সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় নিয়মিত গশ্বর্য্য়ে নিযুক্ত ছিলেন।
সীমান্তের নিকটবর্তী আঙ্গরপোতা বিওপির দায়িত্বে থাকা ডিএএমপি ১/৭-এস সীমান্ত পিলারের কাছ থেকে প্রায় ১০০ গজের মধ্যে তিনি বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করেন। স্থানীয় সূত্রের মতে, তিনি একটি বাড়িতে প্রবেশের চেষ্টা করছিলেন, যা বিজিবি টহল দল দ্রুত থামিয়ে দেয়।
বিজিবি রংপুর ব্যাটালিয়ন ঘটনাটির প্রাথমিক প্রতিবেদন জানায়, বেদ প্রকাশকে এখন তাদের হেফাজতে রাখা হয়েছে। তিনি গ্রেফতার হওয়ার পর তৎক্ষণাৎ মৌলিক জিজ্ঞাসাবাদে অংশ নেন, যেখানে তিনি নিজের ভুলের কারণ হিসেবে কুয়াশা উল্লেখ করেন।
আঙ্গরপোতা বিজিবি ক্যাম্পের কমান্ডার নায়েক সুবেদার মো. রফিকুজ্জামান জানান, বেদ প্রকাশের গ্রেফতার আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী পরিচালিত হবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, জব্দকৃত শটগান, গুলি এবং যোগাযোগ সরঞ্জামগুলো আন্তর্জাতিক ফ্ল্যাগ বৈঠকের মাধ্যমে হস্তান্তর করা হবে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বেদ প্রকাশ দাবি করেন, গরু চোর ধাওয়ার সময় কুয়াশার কারণে তিনি ভুলবশত বাংলাদেশে প্রবেশ করেছেন। তিনি এই ব্যাখ্যা দিয়ে নিজের অপরাধের স্বীকৃতি থেকে দূরে থাকতে চেয়েছেন।
বিজিবি কর্তৃপক্ষের মতে, এই ধরনের সীমান্ত লঙ্ঘন আন্তর্জাতিক চুক্তি ও দ্বিপাক্ষিক চুক্তির অধীনে শাস্তিযোগ্য। বর্তমানে তদন্ত দল ঘটনাস্থল থেকে প্রাপ্ত সব প্রমাণ সংগ্রহ করে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে প্রেরণ করছে।
বিএসএফের সঙ্গে সমন্বয় করে, বাংলাদেশি নিরাপত্তা সংস্থা একটি ফ্ল্যাগ বৈঠক আয়োজনের পরিকল্পনা করেছে। বৈঠকে বেদ প্রকাশের হেফাজত, জব্দকৃত সামগ্রী এবং তার দায়িত্বের পর্যালোচনা করা হবে। বৈঠকের ফলাফল অনুযায়ী, সন্দেহভাজনকে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
বিএসএফের অভ্যন্তরীণ তদন্তও সমান্তরালভাবে চলছে। ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনী এই ঘটনার উপর নিজস্ব তদন্তের সূচনা করেছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে সমন্বয় বজায় রাখবে।
এই ঘটনার পর, বাংলাদেশি সীমান্ত রক্ষী গার্ডের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছেন। তারা উল্লেখ করেন, সীমান্তে অননুমোদিত প্রবেশ রোধে পর্যবেক্ষণ ও টহল বাড়ানো হবে।
সামগ্রিকভাবে, বেদ প্রকাশের গ্রেফতার এবং জব্দকৃত সামগ্রী আন্তর্জাতিক প্রোটোকল অনুসারে হস্তান্তর করা হবে। তদন্তের ফলাফল এবং ফ্ল্যাগ বৈঠকের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে, সংশ্লিষ্ট আইনগত প্রক্রিয়া চালু হবে এবং সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য অতিরিক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



