মিশরের জাতীয় দল আফ্রিকান কাপ অফ নেশনসের প্রথম ম্যাচের প্রস্তুতি নিচ্ছে, এবং কোচ হোসাম হাসান নিশ্চিত করেছেন যে লিভারপুলের বর্তমান অস্থিরতা সালাহের পারফরম্যান্সে কোনো প্রভাব ফেলবে না। তিনি জানিয়েছেন, সালাহের প্রশিক্ষণ মনোভাব আগের মতোই উচ্ছ্বসিত এবং তিনি দেশের হয়ে টুর্নামেন্টে উজ্জ্বল পারফরম্যান্স দেখাবেন।
হাসান বলছেন, সালাহের প্রশিক্ষণ শৃঙ্খলা এবং মনোভাব এমন যে যেন তিনি প্রথমবার জাতীয় দলে যোগদান করছেন। এই উঁচু মনোভাব তাকে টুর্নামেন্টে সাফল্যের পথে এগিয়ে নিয়ে যাবে বলে তিনি আশাবাদী।
কোচের মতে, সালাহের প্রেরণা অত্যন্ত শক্তিশালী এবং তিনি দেশের আইকন হিসেবে তার অবস্থান বজায় রাখবেন। বিশ্বব্যাপী শীর্ষ খেলোয়াড়দের মধ্যে তার স্থানকে তিনি স্বীকৃতি দিয়েছেন এবং সবকিছুর জন্য তার পাশে থাকার কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
লিভারপুলে সালাহের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সে কিছু চ্যালেঞ্জ দেখা গিয়েছে; তিনি ক্লাবের শেষ পাঁচটি ম্যাচে কোনো সূচনাতেই খেলেননি। লিডস ইউনাইটেডের সঙ্গে প্রিমিয়ার লিগের সাম্প্রতিক ড্রয়ের পর তিনি প্রকাশ করেন যে কোচ আর্নে স্লট তাকে “বসের নিচে ফেলে দিয়েছেন” বলে অনুভব করেছেন।
এই মন্তব্যের পর থেকে জানুয়ারি ট্রান্সফার উইন্ডোতে লিভারপুল থেকে সম্ভাব্য স্থানান্তরের গুজব বাড়ে। তবে হাসান এই পরিস্থিতিকে কোনো সংকট হিসেবে দেখছেন না, তিনি বলেন, খেলোয়াড় ও কোচের মধ্যে এমন মতবিরোধ কখনো কখনো ঘটে।
সালাহের সঙ্গে কোচের যোগাযোগ ফোনের মাধ্যমে চলমান, এবং জাতীয় দলে যোগদানের সময় সরাসরি সাক্ষাৎও হয়েছে। হাসান জোর দিয়ে বলছেন, সালাহের মনোযোগ পুরোপুরি টুর্নামেন্টের দিকে কেন্দ্রীভূত।
৩৩ বছর বয়সী সালাহের লক্ষ্য মিশরকে আটতম আফ্রিকান কাপের শিরোপা জয়ী করানো, যা রেকর্ড বাড়াবে। যদিও তিনি এখনো মহাদেশীয় শিরোপা জিততে পারেননি, ২০১৭ সালে ক্যামেরুন এবং ২০২২ সালে সেনেগালকে পরাজিত করে ফাইনালে হারেন।
এই বছর সালাহের গোলগুলো মিশরকে বিশ্বকাপের যোগ্যতা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। কোচের মতে, ক্লাবের পারফরম্যান্সে যদি কোনো ধীরগতি দেখা দেয়, তবে তিনি জাতীয় দলে ফিরে এসে শক্তি পুনরুদ্ধার করেন এবং আরও উন্নত হয়ে ক্লাবে ফিরে আসেন।
হাসান উল্লেখ করেন, সালাহের জাতীয় দলে অবদান শুধু গোলের মাধ্যমে নয়, সামগ্রিক খেলায়ও প্রকাশ পায়। তিনি দলের জন্য গেম তৈরি করেন, সুযোগ তৈরি করেন এবং নিজের স্কোর বাড়ান, যা শেষ পর্যন্ত ক্লাবের জন্যও উপকারী হয়।
মিশরের গ্রুপ বি-তে প্রথম ম্যাচটি জিম্বাবুয়ে দলের বিরুদ্ধে আগাদিরে অনুষ্ঠিত হবে, এরপর দক্ষিণ আফ্রিকা এবং অ্যাঙ্গোলা দলের সঙ্গে মুখোমুখি হবে। কোচের মতে, এই তিনটি প্রতিপক্ষের সঙ্গে মোকাবিলা করে দলকে টুর্নামেন্টের শীর্ষে পৌঁছাতে হবে।
সালাহের উচ্চ মনোভাব এবং কোচের সমর্থন মিশরের জন্য একটি শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি করেছে। দলটি এখন টুর্নামেন্টের প্রথম ধাপের দিকে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে অগ্রসর হচ্ছে, এবং সকলের প্রত্যাশা রয়েছে যে সালাহের নেতৃত্বে তারা শিরোপা জয়ের পথে অগ্রসর হবে।
টুর্নামেন্টের সূচি অনুযায়ী, মিশর দলটি আগামী সপ্তাহে প্রথম ম্যাচের প্রস্তুতি সম্পন্ন করবে এবং কোচের নির্দেশনা অনুসারে প্রশিক্ষণ চালিয়ে যাবে। সকল দৃষ্টিভঙ্গি এখন সালাহের পারফরম্যান্স এবং দলের সামগ্রিক কৌশলের উপর কেন্দ্রীভূত, যা আফ্রিকান ফুটবলের ইতিহাসে নতুন একটি অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে।



