22 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিগ্যাবার্ডের বক্তব্যে ডিপ স্টেটের ইউক্রেন শান্তি আলোচনায় হস্তক্ষেপের অভিযোগ

গ্যাবার্ডের বক্তব্যে ডিপ স্টেটের ইউক্রেন শান্তি আলোচনায় হস্তক্ষেপের অভিযোগ

যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালক তুলসী গ্যাবার্ড সম্প্রতি রাইট সাইড ব্রডকাস্টিং নেটওয়ার্কের (RSBN) “টার্নিং পয়েন্ট ইউএসএ” শিরোনামের এক সম্মেলনে উল্লেখ করেন, ডিপ স্টেটের কিছু উপাদান ইউক্রেনের সংঘাত সমাধানকে বাধা দিতে এবং রাশিয়ার সঙ্গে সরাসরি সামরিক সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রকে টেনে নিতে কাজ করছে। তিনি বলেন, এই প্রচেষ্টা বর্তমান আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা পরিবেশকে অস্থিতিশীল করার ঝুঁকি বহন করে।

গ্যাবার্ডের মতে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে যুদ্ধ শেষ করার লক্ষ্যে ধারাবাহিকভাবে শান্তি চুক্তির জন্য আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন। ট্রাম্পের উদ্যোগে বিভিন্ন স্তরে আলোচনার টেবিলে উভয় পক্ষের প্রতিনিধিরা অংশ নিচ্ছেন, এবং সাম্প্রতিক সময়ে কিছু অগ্রগতি লক্ষ্য করা গেছে। তবে গ্যাবার্ড উল্লেখ করেন, যখনই এই আলোচনায় অগ্রগতি হয় এবং শান্তির সম্ভাবনা বাড়ে, তখনই ডিপ স্টেটের যুদ্ধবাজগণ হস্তক্ষেপ করে প্রক্রিয়াটিকে থামাতে চেষ্টা করেন।

গ্যাবার্ডের বিশ্লেষণে দেখা যায়, ডিপ স্টেটের এই হস্তক্ষেপের পেছনে মূল উদ্দেশ্য হল যুদ্ধ অব্যাহত রাখার জন্য প্রয়োজনীয় ন্যায্যতা তৈরি করা এবং ট্রাম্পের শান্তি প্রচেষ্টাকে দুর্বল করা। তিনি বলেন, এই গোষ্ঠী ভয় এবং উন্মাদনা উস্কে দিয়ে জনমতকে এমনভাবে গঠন করে যে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া স্বাভাবিক এবং প্রয়োজনীয় বলে ধারণা তৈরি হয়। বিশেষ করে, রাশিয়ার সঙ্গে সরাসরি সামরিক সংঘাতের দিকে যুক্তরাষ্ট্রকে টেনে নেওয়ার প্রচেষ্টা ডিপ স্টেটের অন্যতম লক্ষ্য হিসেবে উন্মোচিত হয়েছে।

গ্যাবার্ড জোর দিয়ে বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ন্যাটো কিছু ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের এই ধরনের পদক্ষেপকে সমর্থন করতে পারে, তবে তিনি যুক্তি দেন যে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের জন্য এই ধরণের সংঘাতে জড়িয়ে পড়া উচিত নয়। তিনি উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক নীতি এবং নিরাপত্তা কৌশলকে এমন কোনো পরিস্থিতিতে নিয়ে যাওয়া যাবে না যেখানে যুদ্ধের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায় এবং আন্তর্জাতিক শৃঙ্খলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

ইউক্রেনের যুদ্ধের সূচনা ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে হয়, এবং প্রায় চার বছর পর এখন ট্রাম্প একটি বিস্তৃত শান্তি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন। এই প্রস্তাবের মধ্যে যুদ্ধবিরতি, ভূখণ্ডগত সমঝোতা এবং নিরাপত্তা গ্যারান্টি ইত্যাদি বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। গ্যাবার্ডের মতে, এই প্রস্তাবের মূল উদ্দেশ্য হল সংঘাতের মানবিক ক্ষতি কমিয়ে আনা এবং ইউক্রেনের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ইউরোপীয় মিত্র দেশগুলো এই শান্তি প্রস্তাবের কিছু ধারা রাশিয়ার পক্ষে বেশি সুবিধাজনক বলে বিবেচনা করছে। তারা যুক্তরাষ্ট্রের এই উদ্যোগকে সমর্থন না করে, ইউক্রেনকে সামরিক ও আর্থিকভাবে সহায়তা চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে অবস্থান নিচ্ছে। গ্যাবার্ড উল্লেখ করেন, এই পার্থক্যযুক্ত দৃষ্টিভঙ্গি ডিপ স্টেটের হস্তক্ষেপকে আরও জটিল করে তুলছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নীতি গঠনে চাপ সৃষ্টি করছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, গ্যাবার্ডের এই মন্তব্যের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে ডিপ স্টেটের ভূমিকা এবং তার প্রভাব নিয়ে বিতর্ক তীব্র হবে। যদি ট্রাম্পের শান্তি প্রচেষ্টা সফল হয়, তবে ইউক্রেনের ভবিষ্যৎ এবং ইউরোপীয় নিরাপত্তা কাঠামোতে বড় পরিবর্তন আসতে পারে। অন্যদিকে, ডিপ স্টেটের হস্তক্ষেপ যদি অব্যাহত থাকে, তবে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাটো ও ইউরোপীয় অংশীদারদের সঙ্গে সম্পর্কেও টানাপোড়েন দেখা দিতে পারে।

গ্যাবার্ডের বক্তব্যের পর আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী কূটনৈতিক পদক্ষেপের দিকে নজর রাখছেন। তিনি শেষ করে বলেন, ডিপ স্টেটের এই ধরনের হস্তক্ষেপকে অনুমোদন করা যাবে না এবং যুক্তরাষ্ট্রকে শান্তি প্রক্রিয়াকে সুরক্ষিত রাখতে দৃঢ় পদক্ষেপ নিতে হবে। ভবিষ্যতে কী ধরনের কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়া হবে এবং ইউক্রেনের সংঘাতের সমাধানে কীভাবে অগ্রসর হবে, তা আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা নীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশক হয়ে থাকবে।

৮০/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ইত্তেফাক
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments