২৭তম আন্তর্জাতিক রোবট অলিম্পিয়াড (আইআরও) অস্ট্রেলিয়ার গোল্ড কোস্টে অনুষ্ঠিত হয় এবং বাংলাদেশ দল মোট এগারোটি পদক নিয়ে ফিরে আসে। এর মধ্যে একটিই স্বর্ণ, যা ক্রিয়েটিভ ক্যাটেগরির সিনিয়র গ্রুপে মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল টিটু, আনন্দ মোহন কলেজের শিক্ষার্থী, অর্জন করেন। বাকি পদকগুলোতে ছয়টি ব্রোঞ্জ এবং চারটি টেকনিক্যাল পদক অন্তর্ভুক্ত।
স্বর্ণপদক জয়ী আল টিটু তার রোবটের নকশা ও প্রোগ্রামিংয়ে সৃজনশীলতা ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা প্রদর্শন করেন, যা আন্তর্জাতিক বিচারকমণ্ডলীর নজর কেড়েছিল। তার দলকে গর্বিত করে এমন ফলাফলটি দেশের রোবটিক্স শিক্ষার ধারাবাহিক উন্নয়নের ফলাফল হিসেবে বিবেচিত হয়।
সমাপনী অনুষ্ঠানটি রবিবার, ২১ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হয় এবং বিজয়ীদের হাতে পদক প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টা ড. ফয়েজ আহমদ তৈয়্যাব, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সহকারী, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব শীষ হায়দার চৌধুরী এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আবু সাঈদ। তিনজনই দলের সাফল্যের প্রশংসা করে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।
ব্রোঞ্জ পদক জয়ী শিক্ষার্থীদের মধ্যে রয়েছে নুসাইবা তাজরিন তানিশা, যিনি ওয়াইডাব্লিউসিএ উচ্চ মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, জুবাইদাহ জাফরিন, মোহাম্মদপুর প্রিপারেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী, রিদওয়ান রাব্বানি, আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী, খোন্দকার মুশফিকুল ইসলাম, ঢাকা রেসিডেনশিয়াল মডেল কলেজের শিক্ষার্থী এবং প্রিয়ন্তী দাস, স্কলাস্টিকা দলের সদস্য।
টেকনিক্যাল পদক অর্জন করেন মোহাম্মদ জারিফ বিন সালেক (ঢাকা রেসিডেনশিয়াল মডেল কলেজ), নাফিয়া বাসার সুহানী (মোহাম্মদপুর প্রিপারেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজ), জাইমা যাহিন ওয়ারা (উইলিয়াম কেরি একাডেমি) এবং পুনরায় প্রিয়ন্তী দাস (স্কলাস্টিকা)। টেকনিক্যাল ক্যাটেগরিতে এই চারজন শিক্ষার্থী রোবটের হার্ডওয়্যার, সেন্সর সংযোজন এবং সফটওয়্যার অপটিমাইজেশনে উৎকৃষ্ট পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন।
বাংলাদেশ ২০১৮ সাল থেকে ধারাবাহিকভাবে আন্তর্জাতিক রোবট অলিম্পিয়াডে অংশগ্রহণ করছে। গত আট বছরে দলটি মোট ৯৪টি পদক সংগ্রহ করেছে, যার মধ্যে ১৫টি স্বর্ণপদক রয়েছে। এই ধারাবাহিক সাফল্য দেশের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি শিক্ষার নীতি ও স্কুল-কলেজ পর্যায়ের রোবটিক্স ক্লাবের সক্রিয় অংশগ্রহণের ফল।
প্রতিষ্ঠানগুলোতে রোবটিক্স কোর্সের পাঠ্যক্রম সম্প্রসারণ, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ এবং শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার জন্য প্রস্তুতি নেওয়া এখনো বেশিরভাগ স্কুলে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি। তবে এই ধরনের আন্তর্জাতিক মঞ্চে সাফল্য দেখায় যে, সঠিক সম্পদ ও সমর্থন দিয়ে শিক্ষার্থীরা বিশ্বমানের প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জন করতে পারে।
শিক্ষা নীতি নির্ধারক ও স্কুল প্রশাসকদের জন্য এই ফলাফলটি একটি প্রমাণ যে, রোবটিক্সকে পাঠ্যক্রমের অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা শিক্ষার্থীর সৃজনশীলতা ও সমস্যার সমাধান ক্ষমতা বাড়ায়। ভবিষ্যতে আরও বেশি স্কুলে রোবটিক্স ল্যাব স্থাপন ও প্রতিযোগিতামূলক প্রশিক্ষণ প্রোগ্রাম চালু করা উচিত।
আপনার বিদ্যালয়ে রোবটিক্স ক্লাবের কার্যক্রম কীভাবে উন্নত করা যায়? শিক্ষার্থীদের হাতে-কলমে অভিজ্ঞতা, স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক কর্মশালায় অংশগ্রহণ এবং অভিজ্ঞ মেন্টরের নির্দেশনা এই প্রশ্নের উত্তর হতে পারে। আপনার মতামত শেয়ার করুন এবং রোবটিক্স শিক্ষার উন্নয়নে সক্রিয় ভূমিকা নিন।



