ঢাকা ক্যাপিটালস ২০২৬ সালের বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) প্রস্তুতির অংশ হিসেবে নতুন অধিনায়ক নির্ধারণ করেছে। দলটি ২১ ডিসেম্বর রবিবার পূর্বাচলে অনুষ্ঠিত অনুশীলন সেশনের মাঝখানে মোহাম্মদ মিঠুনকে অধিনায়ক হিসেবে ঘোষণায় আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করে। এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে দলটি শীর্ষে পৌঁছানোর লক্ষ্য পুনর্ব্যক্ত করেছে।
পূর্বাচলে অনুষ্ঠিত অনুশীলন শিবিরে দলটি বিপিএল‑এর জন্য ত্বরান্বিত প্রস্তুতি শুরু করেছে। অনুশীলনের বিরতিতে মিঠুনকে অধিনায়ক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়, যা দলের কৌশলগত পরিবর্তনের সূচক হিসেবে দেখা হচ্ছে। উপস্থিত কোচ, খেলোয়াড় এবং কর্মকর্তারা এই ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়ে দলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেন।
মোহাম্মদ মিঠুনের ক্রিকেট জগতে বহুমুখী ভূমিকা রয়েছে। তিনি এনসিএল‑এর (ন্যাশনাল ক্রিকেট লিগ) অধিনায়কত্বের অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন এবং বর্তমানে ক্রিকেটারদের সংগঠন কোয়াবের সভাপতি পদে দায়িত্ব পালন করছেন। এই দু’টি দায়িত্ব তাকে দলীয় নেতৃত্বের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত দৃষ্টিভঙ্গি প্রদান করে।
গত বছর মিঠুনের নেতৃত্বে ঢাকা ক্যাপিটালসের পূর্বসূরি চিটাগাং কিংস বিপিএল ফাইনালে পৌঁছেছিল। সেই সময়ের পারফরম্যান্স দলকে শীর্ষ স্তরে পৌঁছানোর সম্ভাবনা দেখিয়েছিল এবং মিঠুনের ক্যাপ্টেনশিপের মূল্য প্রমাণ করে। এই সাফল্য নতুন অধিনায়কের জন্য উচ্চ প্রত্যাশা তৈরি করেছে।
এই মৌসুমে ঢাকা ক্যাপিটালস একটি শক্তিশালী দলে রূপান্তরিত হয়েছে। দলটি অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক স্তরের খেলোয়াড়দের সমন্বয়ে গঠিত, যা প্রতিপক্ষের জন্য চ্যালেঞ্জ বাড়াবে। নতুন অধিনায়কের অধীনে দলটি শৃঙ্খলা ও আক্রমণাত্মক কৌশলকে সমন্বয় করে গেমে এগিয়ে যাবে।
বিদেশি খেলোয়াড়দের তালিকায় শানাকা, হেলস এবং উসমান খান অন্তর্ভুক্ত। এই তিনজন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার তাদের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা দিয়ে দলের ব্যাটিং ও ফিল্ডিং শক্তি বৃদ্ধি করবে বলে আশা করা হচ্ছে। তাদের উপস্থিতি দলকে বৈচিত্র্যময় কৌশল প্রয়োগের সুযোগ দেবে।
স্থানীয় তারকা খেলোয়াড়দের মধ্যে শামীম হোসেন পাটোয়ারী, সাব্বির রহমান, তাসকিন আহমেদ, সাইফ, মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন এবং তাইজুল ইসলাম অন্তর্ভুক্ত। এই খেলোয়াড়রা দেশের সর্বোচ্চ স্তরের পারফরম্যান্সের ধারক এবং মিঠুনের অধিনায়কত্বে তাদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হবে। দলটি এই অভিজ্ঞতা ও তরুণ শক্তিকে একত্রে ব্যবহার করে শীর্ষে পৌঁছানোর পরিকল্পনা করেছে।
ঢাকা ক্যাপিটালসের প্রথম ম্যাচ ২৭ ডিসেম্বর বাংলাদেশ সময় দুপুর ১টায় রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের বিপক্ষে অনুষ্ঠিত হবে। এই ম্যাচটি দলটির নতুন গঠন ও কৌশল প্রথমবারের মতো পরীক্ষার সুযোগ দেবে। ম্যাচের ফলাফল দলকে পরবর্তী পর্যায়ের প্রস্তুতিতে প্রভাব ফেলবে।
মিঠুন অধিনায়কত্বের সময় দলকে শীর্ষে নিয়ে যাওয়ার দৃঢ় সংকল্প প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “আমরা সকলের সহযোগিতায় একটি শক্তিশালী দল গড়ে তুলতে চাই এবং ভক্তদের গর্বিত করতে চাই।” এই বক্তব্য দলের মনোভাবকে স্পষ্ট করে এবং ভক্তদের আস্থা বাড়ায়।
কোচিং স্টাফও নতুন অধিনায়কের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রশিক্ষণ পরিকল্পনা তৈরি করেছে। তারা বলছেন, “মিঠুনের নেতৃত্বে আমরা খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত ও দলীয় দক্ষতা উন্নত করতে মনোযোগ দেব।” এই সমন্বয় দলকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে সহায়তা করবে।
বিপিএল সিজনটি দেশের সর্বোচ্চ পর্যায়ের টিমগুলোর মধ্যে তীব্র প্রতিযোগিতা নিয়ে আসবে। ঢাকা ক্যাপিটালসের নতুন গঠন এবং অধিনায়কের পরিবর্তন এই প্রতিযোগিতায় নতুন দৃষ্টিকোণ যোগ করবে। দলটি শীর্ষে পৌঁছানোর জন্য প্রতিটি ম্যাচকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে গণ্য করছে।
সামগ্রিকভাবে, মোহাম্মদ মিঠুনের অধিনায়কত্বে ঢাকা ক্যাপিটালসের লক্ষ্য স্পষ্ট: শীর্ষে উঠে দেশের ক্রিকেটের গর্ব বাড়ানো। দলটি প্রস্তুত, খেলোয়াড়রা প্রস্তুত, এবং ভক্তরা অপেক্ষায় আছে। আগামী ম্যাচগুলোতে এই নতুন দৃষ্টিভঙ্গি কতটা ফলপ্রসূ হবে, তা সময়ই বলবে।



