রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স ও ইঞ্জিনিয়ারিং (CSE) বিভাগের সহকারী অধ্যাপক কাজী জাহিদ, নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত ক্লাস‑পরীক্ষা চালিয়ে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়ে রোববার সকালে নিজের ফেসবুক টাইমলাইনে পোস্ট করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, বর্তমান পরিবেশে শিক্ষাগত কার্যক্রম চালানো সম্ভব নয় এবং নিরাপদ পরিবেশ গড়ে তোলার দায়িত্ব বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর।
অধ্যাপক জাহিদের পোস্টে তিনি স্পষ্টভাবে বলেন যে, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন শিক্ষকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি, যদিও সাম্প্রতিক সময়ে প্রায় আটশতাধিক শিক্ষকের ওপর হুমকি জানানো হয়েছে। এই হুমকি মূলত একটি প্রতিবাদ সমাবেশে উচ্চারণ করা একটি উগ্র বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে উঠে এসেছে।
শুক্রবার, ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান হাদির মৃত্যুর পর অনুষ্ঠিত প্রতিবাদে রাকসুর জিএস সালাউদ্দিন আম্মার একটি উগ্র মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, যারা ভারতীয় আধিপত্যবাদ ও ‘আওয়ামী ফ্যাসিবাদ’কে সমর্থন করবে, তাদেরকে শারীরিকভাবে শাস্তি দেওয়া হবে এবং রাবিতে কাজ করা কোনো শিক্ষক, কর্মকর্তা বা কর্মচারীকে রোববার থেকে গলা দিয়ে টেনে প্রশাসনিক ভবনের সামনে বাঁধা হবে। এই বক্তব্যের পর কাজী জাহিদ তার ফেসবুক আইডিতে নিরাপত্তা উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
অধ্যাপক জাহিদের পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, নিরাপত্তা না থাকায় ক্লাস‑পরীক্ষা নেওয়া এবং অন্যান্য একাডেমিক কাজ করা বর্তমানে অসম্ভব। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্বকে দুই ভাগে ভাগ করেন: প্রথমে শিক্ষকদের জন্য সুষ্ঠু পরিবেশ তৈরি করা, এবং প্রয়োজনে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। তিনি জোর দিয়ে বলেন, যদি এই শর্তগুলো পূরণ না হয়, তবে তিনি কোনো শিক্ষাগত দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ৮০০ শিক্ষকের ওপর গলা দিয়ে টেনে নিয়ে প্রশাসন ভবনের সামনে বাঁধার হুমকি দেওয়া হয়েছে, তবু কোনো সুনির্দিষ্ট নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। এই অবহেলা তাকে এবং তার সহকর্মীদের উদ্বিগ্ন করে তুলেছে।
কাজী জাহিদ জানান, নিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়ার মুহূর্ত থেকে তিনি তার দায়িত্ব পুনরায় গ্রহণ করবেন এবং শিক্ষার্থীদের জন্য যথাযথ পরিবেশ গড়ে তুলবেন। তিনি এই বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চতর কর্তৃপক্ষের কাছে তুলে ধরেছেন, তবে এখনো পর্যন্ত কোনো উত্তর বা পদক্ষেপের তথ্য পাওয়া যায়নি।
রোববার বিকালে তাকে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, সাধারণ নোটিশের মতো সংখ্যা উল্লেখ করে হুমকি দেওয়া হলে তিনি নিরাপদ বোধ করতে পারছেন না। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান প্রশাসনে থাকা অধিকাংশ শিক্ষকই কোনো না কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত, তাই তাদের নামও হুমকির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত।
অধ্যাপক জাহিদের মতে, বিশ্ববিদ্যালয়ের সব শিক্ষকই রাজনৈতিক কার্যকলাপে যুক্ত, এবং বর্তমান প্রশাসনের সদস্যরাও নির্দিষ্ট রাজনৈতিক গোষ্ঠীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। এই বাস্তবতা নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের প্রয়োজনীয়তাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো যোগাযোগ না পাওয়ায় কাজী জাহিদের উদ্বেগ বাড়ছে। তিনি উল্লেখ করেন, নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে শিক্ষাগত কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া অনৈতিক এবং শিক্ষার্থীদের ক্ষতি হতে পারে।
এই বিষয়টি নিয়ে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে, তবে তার মন্তব্য বা পদক্ষেপের কোনো তথ্য প্রকাশিত হয়নি।
শিক্ষার্থীদের জন্য ব্যবহারিক পরামর্শ: যদি আপনার শিক্ষকের নিরাপত্তা নিয়ে কোনো উদ্বেগ থাকে, তবে তা সরাসরি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট বিভাগে লিখিতভাবে জানিয়ে রাখুন এবং একটি কপি নিজের রেকর্ডে সংরক্ষণ করুন। এভাবে ভবিষ্যতে কোনো সমস্যার সমাধান সহজ হবে এবং আপনার অধিকার রক্ষায় সহায়তা করবে।



