দুবাইতে অনুষ্ঠিত অনূর্ধ্ব-১৯ এশিয়া কাপের ফাইনালে ২১ ডিসেম্বর রোববার, পাকিস্তান দল ৩৪৭ রানে সীমা ভেদ করে ভারতকে ১৯১ রানের পার্থক্যে পরাজিত করে শিরোপা অর্জন করে। টসের ফলস্বরূপ ভারত প্রথমে ব্যাটিং করতে চেয়েছিল, তবে টস হারিয়ে পাকিস্তানকে প্রথমে ব্যাটিংয়ে পাঠানো হয়।
পাকিস্তানের ওপেনার সামির মিনহাস শুরুরই ঝড় তুলেন। তিনি ১১৩ বলের মধ্যে ১৭টি চৌকো এবং ৯টি ছক্কা মারিয়ে ১৭২ রান সংগ্রহ করেন, যার মধ্যে ৭১ রান একটি একক সেশন হিসেবে উঠে আসে। তার সঙ্গে আহমেদ হুসেন ৫৬ বলের মধ্যে ৭২ রান তৈরি করেন, দুইজনের সমন্বয়ে পাকিস্তান ৫০ ওভারে ৩৪৭ রানে আটটি উইকেট হারিয়ে বড় লক্ষ্য স্থাপন করে।
ভারতের দিক থেকে প্রথম ব্যাটিংয়ে সূর্যবংশী বৈভব ওপেনার হিসেবে দৌড়ে বেরিয়ে দ্রুত আক্রমণ শুরু করেন, তবে শীঘ্রই তিনি এবং তার সঙ্গীরা ধারাবাহিকভাবে আউট হয়ে দলকে ৬৮ রানে মাত্র পাঁচটি উইকেটের ক্ষতি করে। আয়ুশ ২ বলে ৭ রান, আরন জর্জ ১৬ বলে ৯ রান, বৈভব ২৬ বলে ১০ রান, ভিহান মালহোত্রা ৭ বলে ১৩ রান এবং ভেদাত ত্রিভেদী ৯ বলে ১৪ রান করে দ্রুতই শুটডাউনের মুখে পড়ে।
এরপর ভারতের মাঝারি ক্রমে দীপেন দেবেন্দ্রন ব্যাটিংয়ে ফিরে এসে কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে তোলেন, তবে ধারাবাহিক উইকেটের পর ধারাবাহিক গতি হ্রাস পায়। শেষ পর্যন্ত ভারত ২৬ ওভারে ১৫৬ রানে অলআউট হয়। দেবেন্দ্রন ১৬ বলে ৩৬ রান করেন, তবে তার প্রচেষ্টা যথেষ্ট না হয়ে দলকে বড় পার্থক্যে পরাজিত করে।
পাকিস্তানের বোলিং দিকেও আলী রাজা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন; তিনি চারটি উইকেট নিয়ে ভারতের ব্যাটিংকে দমিয়ে রাখেন। ভারতের দিক থেকে দীপেন দেবেন্দ্রনও তিনটি উইকেট নেন, তবে তা সামগ্রিক ফলাফলে বড় পরিবর্তন আনতে পারেনি।
ফাইনাল ম্যাচের পরিপ্রেক্ষিতে, পাকিস্তান দল গ্রুপ পর্যায়ে ভারতের কাছে হেরে যাওয়া সত্ত্বেও পুনরায় মুখোমুখি হয়ে শিরোপা জয় করতে সক্ষম হয়েছে। এই জয় পাকিস্তানের তরুণ ক্রিকেটারদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিয়েছে এবং এশিয়া কাপের ইতিহাসে নতুন একটি অধ্যায় যোগ করেছে।
পরবর্তী সময়ে উভয় দলই তাদের নিজস্ব টুর্নামেন্ট ও সিরিজে অংশগ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছে, তবে এই ফাইনাল ম্যাচের ফলাফল উভয় দেশের অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।



