দিল্লির চাণক্যপুরী এলাকায় বাংলাদেশ হাইকমিশনের মূল প্রবেশদ্বারের সামনে গত শনিবার রাত ৮:৩৫ থেকে ৮:৫৫ পর্যন্ত ২০ থেকে ২৫ জনের একটি দল ‘অখণ্ড হিন্দু রাষ্ট্র সেনার’ শিরোনামের ব্যানার তুলে বিক্ষোভ পরিচালনা করে। দলটি চার‑পাঁচটি গাড়ি ব্যবহার করে নিরাপত্তা বেষ্টনী ভেদ করে হাইকমিশনের সামনে পৌঁছায় এবং কয়েক মিনিটের মধ্যে বাংলা ও হিন্দি মিশ্রিত স্লোগান শোনায়।
বিক্ষোভকারীরা হিন্দু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি এবং হাইকমিশনারকে ‘ধরা’ করার আহ্বান জানায়। বিশেষ করে “হিন্দুদের নিরাপত্তা দিতে হবে”, “হাইকমিশনারকে ধর” ইত্যাদি স্লোগান শোনা যায়। স্লোগানগুলোতে বাংলাদেশ সরকারের নীতি ও হিন্দু সংখ্যালঘুদের প্রতি আচরণকে লক্ষ্য করে তীব্র সমালোচনা করা হয়েছে।
ব্যানারটি ‘অখণ্ড হিন্দু রাষ্ট্র সেনার’ শিরোনাম বহন করলেও, বিক্ষোভের সময় কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল বা সংগঠনের নাম উল্লেখ করা হয়নি। নিরাপত্তা কর্মীরা প্রাথমিকভাবে গাড়ি থামিয়ে নিরাপত্তা বেষ্টনী ভেদ করা দলকে পর্যবেক্ষণ করে, তবে বিক্ষোভের সময় কোনো শারীরিক সংঘর্ষ বা ধ্বংসাত্মক কাজের রিপোর্ট নেই। বিক্ষোভকারীরা প্রায় ২০ মিনিটের মধ্যে হাইকমিশনের প্রবেশদ্বার থেকে সরে যায়।
বহিরাগত সূত্র জানায়, হাইকমিশনার এম. রিয়াজ হামিদুল্লাহকে বিক্ষোভের সময় সরাসরি কোনো হুমকি দেওয়া হয়নি, তবে দলটি হাইকমিশনারের নিরাপত্তা ও কাজের প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করে। হাইকমিশনের অফিসিয়াল বিবৃতি অনুযায়ী, বিক্ষোভের পর দলটি শান্তিপূর্ণভাবে স্থান ত্যাগ করে এবং কোনো আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
দিল্লিতে বাংলাদেশি কূটনৈতিক মিশন নিরাপত্তা বাড়াতে অতিরিক্ত গার্ড স্থাপন করলেও, এই ঘটনা নিরাপত্তা বেষ্টনী ভেদ করে প্রবেশের দুর্বলতা উন্মোচন করেছে। স্থানীয় পুলিশ ও কূটনৈতিক নিরাপত্তা বিভাগ ঘটনাস্থলে দ্রুত পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে এবং ভবিষ্যতে অনুরূপ ঘটনার প্রতিরোধে নিরাপত্তা ব্যবস্থা পুনর্বিবেচনা করার সম্ভাবনা প্রকাশ করেছে।
এই বিক্ষোভের পেছনে হিন্দু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিয়ে চলমান উদ্বেগ এবং বাংলাদেশি কূটনৈতিক প্রতিনিধিদের প্রতি বিরোধমূলক মনোভাবের মিশ্রণ রয়েছে বলে বিশ্লেষকরা মন্তব্য করেন। ভারত ও বাংলাদেশ দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক বজায় রাখলেও, ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের অধিকার ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়গুলো কখনও কখনও উত্তেজনা বাড়িয়ে দেয়।
দিল্লিতে বসবাসকারী বাংলাদেশি সম্প্রদায়ের মধ্যে এই ধরনের প্রকাশ্য প্রতিবাদে অংশগ্রহণের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম, তবে সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক মিডিয়ায় হিন্দু-ইসলামিক সম্পর্ক নিয়ে বিতর্ক বাড়ার ফলে এই ধরনের বিক্ষোভের ঝড় তীব্র হতে পারে।
ভবিষ্যতে ভারত-বাংলাদেশ কূটনৈতিক সম্পর্কের ওপর এই ধরনের ঘটনা কী প্রভাব ফেলবে তা স্পষ্ট নয়। তবে উভয় দেশের কূটনৈতিক মিশন নিরাপত্তা ও সংলাপের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করার চেষ্টা করবে বলে আশা করা যায়। একই সঙ্গে, হিন্দু সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি এবং বাংলাদেশি কূটনৈতিক প্রতিনিধিদের প্রতি বিরোধমূলক মনোভাবের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার জন্য উভয় দেশের সরকারকে সংবেদনশীলভাবে পদক্ষেপ নিতে হবে।
এই বিক্ষোভের পর হাইকমিশন নিরাপত্তা বাড়াতে অতিরিক্ত গার্ড মোতায়েনের পাশাপাশি, স্থানীয় পুলিশ নিরাপত্তা বেষ্টনী পুনর্গঠন ও পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা শক্তিশালী করার পরিকল্পনা জানিয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, এই ধরনের ঘটনা যদি পুনরাবৃত্তি হয়, তবে তা কূটনৈতিক সম্পর্কের ওপর চাপ বাড়াতে পারে এবং উভয় দেশের নাগরিকদের মধ্যে পারস্পরিক অবিশ্বাসের সঞ্চার ঘটাতে পারে।
সারসংক্ষেপে, দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের সামনে ‘অখণ্ড হিন্দু রাষ্ট্র সেনার’ ব্যানারে বিক্ষোভটি সীমিত সময়ের মধ্যে শেষ হয়েছে, কোনো শারীরিক সংঘর্ষ না ঘটিয়ে। তবে নিরাপত্তা বেষ্টনী ভেদ করে প্রবেশের ঘটনা কূটনৈতিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা নির্দেশ করে এবং ভবিষ্যতে উভয় দেশের কূটনৈতিক সংলাপ ও নিরাপত্তা নীতিতে পুনর্বিবেচনার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে।



