ইসরায়েলি সশস্ত্র বাহিনী জেনিন গভর্নোরেটের দুটি আলাদা অভিযান চলাকালীন দুইজন ফিলিস্তিনীয়কে গুলিবিদ্ধ করেছে, যার মধ্যে ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরও অন্তর্ভুক্ত। ঘটনাগুলি শনিবার রাতের দিকে ঘটেছে এবং নিরাপত্তা ক্যামেরার রেকর্ডে সৈন্যদের শিকারের কাছে সরাসরি গুলি চালানোর দৃশ্য ধরা পড়েছে।
প্যালেস্টাইনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় শনিবারের শেষ ভাগে জানায়, রায়ান আবদেল কাদের, ১৬, কাবাতিয়া শহরে ইসরায়েলি সৈন্যদের গুলিতে নিহত হয়। রায়ানকে গুলি করা হয় যখন তিনি নিজের বাড়ির দিকে হাঁটছিলেন, এবং ভিডিওতে দেখা যায় গুলি সরাসরি তার দিকে লক্ষ্য করা হয়েছে।
দ্বিতীয় শিকারের নাম আহমদ জায়ুদ, ২২ বছর বয়সী, যিনি জেনিনের পশ্চিমে সিলাত আল-হারিথিয়া এলাকায় গুলি পেয়ে মারা যান। মন্ত্রণালয় জানায়, জায়ুদের বুকে গুলি লেগে গিয়েছিল, যা তার দ্রুত মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
এই ঘটনার সময় ১৫ বছর বয়সী আরেকজন ফিলিস্তিনীয়ের হাতেও আঘাত লেগে গিয়েছিল; তিনি গুলির শক থেকে বেঁচে গিয়ে চিকিৎসা গ্রহণ করেন। তবে তার অবস্থার বিস্তারিত জানানো হয়নি।
শহর কর্তৃপক্ষের মতে, গুলিবিদ্ধ রায়ানের দেহ ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর হাতে আটকে রাখা হয় এবং জরুরি সেবা দলকে ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে বাধা দেয়া হয়। ফলে শিকারের দেহে রক্তপাত থামাতে সময়মতো কোনো হস্তক্ষেপ সম্ভব হয়নি।
আহমদ জায়ুদের মৃত্যু ঘটার এক সপ্তাহ আগে, একই অঞ্চলে আরেকজন ১৬ বছর বয়সী ফিলিস্তিনীয়কে গুলিবিদ্ধ করা হয়েছিল, যা সাম্প্রতিক সময়ে জেনিনে ইসরায়েলি শক্তির আক্রমণাত্মক পদক্ষেপের ধারাবাহিকতা নির্দেশ করে।
নিরাপত্তা ক্যামেরার রেকর্ডে দেখা যায়, রায়ানকে “পয়েন্ট-ব্যাক” দূরত্ব থেকে গুলি করা হয়েছে, যা ফিলিস্তিনীয়রা প্রায়শই ‘বহির্ভূত হত্যা’ বলে উল্লেখ করে। এমন ভিডিও রেকর্ডিং সাধারণত সীমিত পাওয়া যায়, ফলে এই ঘটনা আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের দৃষ্টিতে বিশেষ গুরুত্ব পায়।
অধিকন্তু, রায়ানের দেহের কাছে কোনো ব্যক্তি ৪০ মিনিটের বেশি সময় প্রবেশ করতে পারেনি; এই ধরনের নিষেধাজ্ঞা জেনিনে সাম্প্রতিক সময়ে বেশ ঘন ঘন দেখা যায়, যেখানে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী শিকারের মৃতদেহের কাছে পৌঁছাতে বাধা দেয়।
প্যালেস্টাইনি কর্তৃপক্ষ ঘটনাটিকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন হিসেবে চিহ্নিত করে এবং ইসরায়েলকে তৎক্ষণাৎ তদন্তের দাবি জানায়। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং জাতিসংঘের প্রতিনিধিরা পরিস্থিতি ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন এবং উভয় পক্ষকে সহিংসতা কমাতে আহ্বান জানিয়েছেন।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, জেনিনে এই ধরনের গুলিবিদ্ধ ঘটনা ইসরায়েলি-ফিলিস্তিনীয় সংঘাতের তীব্রতা বাড়াতে পারে, বিশেষ করে যখন তরুণ বয়সী শিকারীর সংখ্যা বৃদ্ধি পায়। অতীতের তুলনায়, নিরাপত্তা ক্যামেরার প্রমাণের উপস্থিতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করতে পারে, যা ইসরায়েলকে আরও কঠোর আন্তর্জাতিক তদন্তের মুখোমুখি করতে পারে।
আসন্ন সপ্তাহগুলোতে প্যালেস্টাইনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং মানবাধিকার সংস্থাগুলি গুলিবিদ্ধদের পরিবারকে সহায়তা প্রদান এবং মৃতদেহের পুনরুদ্ধার নিশ্চিত করার জন্য চাপ বাড়াবে বলে আশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে, আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং মধ্যপ্রাচ্য বিশেষজ্ঞরা ইসরায়েলি নিরাপত্তা নীতির পুনর্মূল্যায়ন এবং মানবিক আইনের অধীনে দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করার জন্য আলোচনার সূচনা করতে পারেন।
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে, জেনিনের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও অস্থির হয়ে উঠেছে এবং ভবিষ্যতে অতিরিক্ত সামরিক অভিযান বা প্রতিবাদ আন্দোলন উত্থাপিত হতে পারে। উভয় পক্ষের মধ্যে সংলাপের সুযোগ কমে যাওয়ায়, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সক্রিয় ভূমিকা এবং ন্যায়সঙ্গত তদন্তের আহ্বান এখনো তীব্রভাবে শোনা যাচ্ছে।



