রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু ছাত্র আজ দুপুরের কাছাকাছি ছয়জন ডিনের কর্মস্থলে তালা বসিয়ে তাদের পদত্যাগের দাবি জানিয়েছে। এই পদক্ষেপটি ডিনদের আওয়ামী লীগ সংযুক্তি নিয়ে উদ্বেগের প্রতিক্রিয়া হিসেবে নেওয়া হয়েছে। তালা লাগানোর কাজ ডিন কমপ্লেক্স এবং ক্যাম্পাসের বিভিন্ন একাডেমিক ভবনে সমন্বিতভাবে সম্পন্ন হয়।
কর্মসূচি শুরু হয় প্রায় ১২ টার দিকে, যখন ছাত্রগণ ডিনের অফিসের দরজায় লক লাগিয়ে সুরক্ষিত করে রাখে। তালা বসানোর পর অফিসগুলো এখনও বন্ধই রয়েছে এবং কোনো ডিন উপস্থিত ছিলেন না।
ডিন নির্বাচন শেষ হয় ১৭ ডিসেম্বর ২০২৩-এ, যেখানে অগ্রগামী শিক্ষক সমিতি (যা প্রায়শই হলুদ প্যানেল নামে পরিচিত) আওয়ামী লীগের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের ইঙ্গিত দেয়। এই সমিতি আইন, বিজ্ঞান, ব্যবসা, সামাজিক বিজ্ঞান, প্রকৌশল এবং ভূগোল-ভূতত্ত্ব বিভাগে মোট ছয়টি ফ্যাকাল্টির ডিন নির্বাচন করে।
ডিনদের মেয়াদ ১৭ ডিসেম্বর ২০২৪-এ শেষ হওয়ার কথা ছিল, তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন মেয়াদ বাড়িয়ে নতুন নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত ডিনদের দায়িত্ব বজায় রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। এই সিদ্ধান্তটি উপাচার্য প্রফেসর ড. সেলেহ হাসান নাকিব এবং রেজিস্ট্রার প্রফেসর ড. ইফতেখারুল আলম মাসুদের অনুমোদনে গৃহীত হয়।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সালাউদ্দিন আম্মার এই মেয়াদবর্ধনের বিরোধিতা করে তৎক্ষণাৎ ডিনদের পদত্যাগের দাবি তুলে ধরেন। তিনি ফেসবুকে পোস্ট করে জানান, মেয়াদ শেষ হওয়া সত্ত্বেও প্রশাসন প্রো-আওয়ামী লীগ ডিনদের দায়িত্বে রাখছে এবং তা পরবর্তী সংসদীয় নির্বাচনের (১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৫) আগে পর্যন্ত বাড়িয়ে দেবে।
সালাউদ্দিন আম্মার আরও উল্লেখ করেন, যদি ডিনরা স্বেচ্ছায় পদত্যাগ না করে তবে ছাত্র আন্দোলন তীব্রতর হবে। তিনি জানিয়েছেন, তিনি নিজে ডিনদের কাছে পদত্যাগপত্র পৌঁছে দেবেন এবং শান্তিপূর্ণ সমাধানের আশা প্রকাশ করেছেন, তবে চাহিদা পূরণ না হলে অতিরিক্ত সংগঠন ও প্রতিবাদ চালিয়ে যাবে।
আজ সকালের কার্যক্রমে আম্মার এবং কিছু ছাত্র ডিনের অফিসে গিয়ে তালা লাগিয়ে দাবি জানায়, তবে ডিনদের কেউই ক্যাম্পাসে উপস্থিত ছিলেন না। আম্মার জানান, তারা ডিনদের ফোনের মাধ্যমে জানিয়ে দিয়েছেন, তবে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তিনি উল্লেখ করেন, জুলাই মাসের ছাত্র-শিক্ষক সংঘর্ষে যারা শিক্ষার্থীদের বিরোধিতা করেছে এমন শিক্ষকদের তালিকা প্রস্তুত রয়েছে।
এই মুহূর্তে তালা লাগানো অফিসগুলো এখনও বন্ধ, এবং ডিনদের কাছ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক উত্তর পাওয়া যায়নি। ছাত্রগণ দাবি করে যে ডিনদের স্বেচ্ছায় পদত্যাগ না হলে তারা আরও পদক্ষেপ নেবে।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে অতীতেও ছাত্র-শিক্ষক সংঘাতের উদাহরণ দেখা গেছে, এবং এই ধরনের আন্দোলন শিক্ষাগত পরিবেশ ও প্রশাসনিক নীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে। বর্তমান পরিস্থিতি দেখায় যে ছাত্রগণ বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতৃত্বে স্বচ্ছতা ও রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা চাইছে।
আপনার মতামত কী? আপনি কি মনে করেন ছাত্রদের এই ধরনের সরাসরি পদক্ষেপ শিক্ষার গুণগত মান রক্ষায় সহায়ক, নাকি এটি ক্যাম্পাসের শৃঙ্খলা নষ্ট করতে পারে? আপনার মন্তব্য শেয়ার করুন।



