টেলিভিশন বিনোদন জগতে দীর্ঘকালীন অবদান রাখার পর, ট্যালেন্ট কো-অর্ডিনেটর ক্রেইগ টেনিস ৮৫ বছর বয়সে আর জীবিত নন। তিনি ক্যালিফোর্নিয়ার ফলব্রুকের নিজ বাড়িতে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। তার মৃত্যুর খবর তার প্রায় ৩৯ বছর বয়সী স্ত্রীর কাছ থেকে জানা যায়, যিনি মিডিয়া জগতে নিজেও পরিচিত।
ক্রেইগ টেনিস ১৯৬৮ সালে নিউ ইয়র্কে শুটিং হওয়া টুনাইট শোতে যোগ দেন, যখন শোটি এখনও শহুরে রেডিও স্টেজে ছিল। চার বছর পর, শোটি বর্ব্যাঙ্কে স্থানান্তরিত হলে তিনি সঙ্গে সঙ্গে সেখানে কাজ চালিয়ে যান। ১৯৭৬ সালে তিনি শো থেকে পদত্যাগ করেন, তবে তার ছয় বছরের সময়কালে শোয়ের গুণগত মানে বড় পরিবর্তন আনা হয়।
টেনিসের দায়িত্ব ছিল নতুন শিল্পীকে খুঁজে বের করা এবং তাদের পারফরম্যান্সকে শোয়ের মানদণ্ডে মানিয়ে নেওয়া। তার তত্ত্বাবধানে বিলি ক্রিস্টাল, টিনি টিম, ফ্রেডি প্রিন্সে, বিল উইদার্স এবং গ্যাব ক্যাপলান সহ বহু পরিচিত নাম প্রথমবার টেলিভিশনে দেখা পান। এই শিল্পীরা টুনাইট শোতে পারফরম্যান্সের মাধ্যমে ক্যারিয়ারে গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক অর্জন করেন।
ট্যালেন্ট স্কাউটিংয়ের জন্য টেনিস প্রায়ই বাড ফ্রাইডম্যানের মালিকানাধীন ইম্প্রোভ ক্লাবগুলোতে উপস্থিত থাকতেন। তিনি ক্লাবের পরিবেশকে নিজের শিক্ষার ক্ষেত্র হিসেবে ব্যবহার করে নতুন কৌতুকশিল্পীর দক্ষতা পরিমার্জন করতেন। তার মতে, ক্লাবের ২০ মিনিটের রুটিনকে ছয় মিনিটে সংকুচিত করা এবং পরবর্তী পারফরম্যান্সের জন্য প্রস্তুত করা ছিল মূল কাজ।
টেনিসের এক নিয়ম ছিল, প্রথম পারফরম্যান্সের পর শিল্পীকে দশ দিনের মধ্যে দ্বিতীয়বার ফিরে আসতে হবে, আর দ্বিতীয় পারফরম্যান্সে উন্নতি না করলে শোতে আর সুযোগ না থাকে। তৃতীয়বারের পারফরম্যান্সে তিনি শিল্পীকে সম্ভাব্য হুমকি হিসেবে দেখতেন, আর চতুর্থ ও পঞ্চমবারের পারফরম্যান্সে সফল হলে শিল্পী শোয়ের স্থায়ী অংশ হয়ে উঠতে পারত।
জনি কারসন টেলিভিশনে টেনিসের উপস্থিতি নিয়ে রসিকতা করতে পছন্দ করতেন। তিনি প্রায়ই টেনিসের ডেটিং জীবনের ওপর মজার মন্তব্য করে দর্শকদের হাসি এনে দিতেন। এই রসিকতা টেনিসের কাজের প্রতি দর্শকের আগ্রহ বাড়িয়ে তুলত।
১৯৮০ সালে টেনিস তার অভিজ্ঞতা নিয়ে “Johnny Tonight!” শিরোনামের একটি বই প্রকাশ করেন। বইটিতে তিনি শোয়ের পেছনের কাজের ধারা এবং শিল্পীদের সঙ্গে তার মিথস্ক্রিয়া বিশদভাবে বর্ণনা করেন। তাতে তিনি উল্লেখ করেন, জনি কারসনের ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কে কেউই সত্যিকারের জানে না, এমনকি তার পরিবারও অন্তর্ভুক্ত।
ক্রেইগ গিরুক্স টেনিসের জন্ম ২৪ জুলাই ১৯৪০ সালে ম্যানহাটনে। তার মা, জ্যানিস কেলি, ব্রডওয়ের মঞ্চে অভিনয় করেছেন এবং শিল্পের সঙ্গে তার সংযোগকে প্রেরণা দিয়েছিল। টেনিসের শৈশব থেকেই তিনি বিনোদন জগতের প্রতি আকৃষ্ট ছিলেন।
ব্রি টেনিস, যিনি iHeartMedia-তে সংবাদ উপস্থাপক, তার সঙ্গে প্রায় চার দশক ধরে বিবাহিত ছিলেন। দম্পতির সন্তান নেই, তবে তারা একে অপরের সঙ্গে দীর্ঘ সময়ের সঙ্গী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তার মৃত্যুর পর পরিবার ও শিল্প জগতের বহু নাম শোক প্রকাশ করেছে।
টেনিসের কাজের ফলে টুনাইট শোতে নতুন কৌতুকশিল্পীর উত্থান ঘটেছিল এবং শোয়ের জনপ্রিয়তা বাড়ে। তিনি যেসব শিল্পীকে সুযোগ দিয়েছিলেন, তাদের অনেকেই পরবর্তীতে স্বতন্ত্র ক্যারিয়ার গড়ে তুলেছেন। তার পদ্ধতি এবং কঠোর মানদণ্ড আজও ট্যালেন্ট ম্যানেজমেন্টের মডেল হিসেবে বিবেচিত হয়।
টেনিসের অবদানকে স্মরণ করে, ভবিষ্যতে ট্যালেন্ট স্কাউটিংয়ের ক্ষেত্রে সৃজনশীলতা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখা জরুরি। নতুন শিল্পীর সম্ভাবনা চিহ্নিত করতে এবং তাদের দক্ষতা উন্নত করতে ধারাবাহিক প্রশিক্ষণ ও ফিডব্যাক প্রয়োজন।
পাঠকবৃন্দের জন্য একটি পরামর্শ: টেলিভিশন ও স্টেজের পেছনের কাজগুলোকে উপেক্ষা না করে, সেসব ব্যক্তির কষ্ট ও নিষ্ঠা বুঝে তাদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা উচিত। এমনকি ছোটো ক্লাবের পরিবেশেও বড় প্রতিভা লুকিয়ে থাকতে পারে, তাই স্থানীয় পারফরম্যান্সে অংশগ্রহণ করে নতুন কণ্ঠস্বরকে সমর্থন করা যায়।



