ইসরায়েলি ভেঞ্চার ক্যাপিটালিস্ট জোন মেদভেড, আমাদেরক্রাউডের প্রতিষ্ঠাতা, অল্প সময়ের মধ্যে অ্যামিওট্রফিক ল্যাটেরাল স্ক্লেরোসিস (ALS) রোগে আক্রান্ত হওয়ার পর তৎক্ষণাৎ পদত্যাগের সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন। তিনি এই খবরটি শেয়ার করার সময় তার কণ্ঠস্বর স্পষ্টভাবে কণ্ঠহীনতা প্রকাশ করছিল, যা ALS রোগের সাধারণ লক্ষণগুলোর একটি।
মেদভেড জানান, সাম্প্রতিক সময়ে তিনি অস্বাভাবিক শারীরিক অনুভূতি পেয়েছিলেন, তবে সঠিক কারণ জানার জন্য হাসপাতালে ভর্তি হন। কয়েক সপ্তাহের পর্যবেক্ষণের পর ডাক্তাররা ALS রোগ নিশ্চিত করেন, যা তিনি “অত্যন্ত ভয়ানক রোগ” হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
ALS একটি অগ্রগামী স্নায়ুজনিত রোগ, যা মস্তিষ্কের মোটর নিউরনকে ধ্বংস করে এবং ধীরে ধীরে পেশীর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যায়। রোগের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে হাঁটা, কথা বলা, খাবার গেলা এবং শ্বাসপ্রশ্বাসের ক্ষমতাও হ্রাস পায়। বর্তমানে রোগের কোনো নিরাময় নেই; রিলুজোল, এডারাভোনে ইত্যাদি ওষুধ ও শারীরিক থেরাপি লক্ষণ হ্রাসে সহায়তা করে, তবে রোগের গতি ধীর করার সীমিত ক্ষমতা রয়েছে।
মেদভেডকে ইসরায়েলের স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে গণ্য করা হয়। তিনি তার ২০-এর দশকে ক্যালিফোর্নিয়া থেকে ইসরায়েলে স্থানান্তরিত হয়ে বেশ কয়েকটি প্রযুক্তি কোম্পানি প্রতিষ্ঠা ও বিক্রি করেন, তারপর বিনিয়োগের পথে অগ্রসর হন। তার নেতৃত্বে ইসরায়েলকে “স্টার্টআপ নেশন” নামে পরিচিতি অর্জন করতে সহায়তা করা হয়েছে।
২০১৩ সালে তিনি আমাদেরক্রাউড প্রতিষ্ঠা করেন, যা সীমিত অংশীদারিত্বের কাঠামোকে সকল স্বীকৃত বিনিয়োগকারীর জন্য উন্মুক্ত করে একটি নতুন তহবিল সংগ্রহের মডেল তৈরি করে। এই মডেলটি প্রচলিত ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ফান্ডের তুলনায় অধিক স্বচ্ছতা ও অংশগ্রহণের সুযোগ প্রদান করে।
আমাদেরক্রাউডের বিনিয়োগকারী নেটওয়ার্ক এশিয়া, ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য এবং উত্তর আমেরিকাসহ ১৯৫টি দেশের প্রায় ২৪ লক্ষ স্বীকৃত বিনিয়োগকারীকে অন্তর্ভুক্ত করে। এই বিস্তৃত নেটওয়ার্কের মাধ্যমে ফান্ডটি বিশ্বব্যাপী উদ্ভাবনী স্টার্টআপে তহবিল সরবরাহ করে এবং ইসরায়েলীয় প্রযুক্তি শিল্পের আন্তর্জাতিক উপস্থিতি বাড়ায়।
মেদভেডের পদত্যাগ ইসরায়েলীয় স্টার্টআপ সম্প্রদায়ে গভীর শূন্যতা তৈরি করেছে। তিনি স্বীকার করেছেন যে ALS রোগের অগ্রগতি অনিবার্য এবং ভবিষ্যতে তার শারীরিক ক্ষমতা আরও হ্রাস পাবে। যদিও রোগের কোনো নিরাময় নেই, তবে চলমান থেরাপি ও সহায়তা সেবা রোগীর জীবনের গুণগত মান বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেন, ALS রোগের প্রাথমিক লক্ষণগুলো দ্রুত শনাক্ত করা রোগীর দীর্ঘায়ু ও জীবনের মান উন্নত করতে সহায়ক। বর্তমানে রিলুজোল ও এডারাভোনে মতো ওষুধের পাশাপাশি শ্বাসযন্ত্রের সহায়তা, পেশী শিথিলকরণ এবং পুষ্টি ব্যবস্থাপনা রোগের অগ্রগতি ধীর করতে সাহায্য করে। গবেষণা সংস্থা গ্লোবাল ALS ফাউন্ডেশন ও অন্যান্য সংস্থা রোগের মূল কারণ উদ্ঘাটন ও নতুন থেরাপি বিকাশে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
পাঠকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ যে, যদি কণ্ঠস্বরের পরিবর্তন, পেশীর দুর্বলতা বা অস্বাভাবিক অঙ্গবিন্যাসের মতো কোনো লক্ষণ দেখা দেয়, তবে দ্রুত চিকিৎসা পরামর্শ নেওয়া উচিত। নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও স্নায়ুজনিত রোগের সচেতনতা বাড়িয়ে রোগের প্রাথমিক সনাক্তকরণে সহায়তা করা যায়।
ALS রোগের গবেষণায় সমর্থন বাড়াতে সরকার, বেসরকারি সংস্থা ও সাধারণ জনগণের সমন্বিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন। রোগীর জীবনমান উন্নত করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে নিরাময়যোগ্য থেরাপি বিকাশের জন্য গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়ানো উচিত। আপনি কি ALS গবেষণায় অবদান রাখতে ইচ্ছুক? আপনার মতামত ও সমর্থন এই রোগের মোকাবেলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।



