ঢাকা, ২১ ডিসেম্বর – জামায়াত‑ই‑ইসলামির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পারওয়ার রবিবার আল ফালা মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত দোয়া মাহফিলে হাদিরের হত্যাকারীদের ভারতীয় সীমান্তে লুকিয়ে থাকলে, ভারত‑বাংলাদেশের বিদ্যমান বন্দিবিনিময় চুক্তি ব্যবহার করে তাদের দেশে ফেরত আনার দাবি জানিয়েছেন।
মুগবাজারের ঐতিহাসিক আল ফালা মিলনায়তনে হাদিরের স্মরণে এক বিশাল দোয়া সভা অনুষ্ঠিত হয়। উপস্থিত ভক্ত ও সমর্থকরা শোক প্রকাশের পাশাপাশি সরকারকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে আহ্বান জানায়। পারওয়ার এই আহ্বানকে সভার প্রধান বিষয়বস্তু হিসেবে তুলে ধরেন।
পারওয়ার উল্লেখ করেন, হাদিরের হত্যাকারীরা যদি বর্তমানে ভারতের ভূখণ্ডে লুকিয়ে থাকে, তবে দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত বন্দিবিনিময় চুক্তি কার্যকর করে তাদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে বাংলাদেশে হস্তান্তর করা সম্ভব। তিনি বলেন, এই চুক্তি ২০১১ সালে স্বাক্ষরিত এবং উভয় দেশের নিরাপত্তা সংস্থার সমন্বয়ে কাজ করে আসছে।
চুক্তির আওতায় অপরাধী, সন্ত্রাসী এবং অন্যান্য গুরুতর অপরাধে দোষী ব্যক্তিদের বিনিময় করা যায়। পারওয়ার জোর দিয়ে বলেন, হাদিরের হত্যাকারীদের জন্য এই প্রক্রিয়া ব্যবহার করা সরকারকে আন্তর্জাতিক প্রতিশ্রুতি রক্ষা করার পাশাপাশি ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার সুযোগ দেবে।
হাদিরের পরিবার ও সমর্থকরা গতকাল পর্যন্ত সরকারের কোনো স্পষ্ট পদক্ষেপের ঘোষণা না পাওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেন। পারওয়ার তীব্রভাবে উল্লেখ করেন, হাদিরের গুলিবিদ্ধ হওয়ার ছয় ঘণ্টা পরই চেকপোস্ট স্থাপন করা হয়নি, যা দ্রুত প্রতিক্রিয়ার অভাবকে নির্দেশ করে। তিনি জিজ্ঞাসা করেন, কেন তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি এবং এই বিলম্বের পেছনে কী কারণ।
হাদিরের মৃত্যুর পরপরই গুলিবিদ্ধদের পরিবারকে সান্ত্বনা দেওয়ার জন্য সরকারী পদক্ষেপের ঘাটতি নিয়ে পারওয়ার তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি সন্দেহ প্রকাশ করেন, দেশের গোয়েন্দা সংস্থার কিছু সদস্যের অযৌক্তিক আচরণ হাদিরের হত্যাকারীদের পালাতে সহায়তা করেছে কিনা।
পারওয়ার আরও উল্লেখ করেন, কিছু সাংবাদিক ও লেখক হাদিরের হত্যাকাণ্ডকে এমনভাবে উপস্থাপন করছেন যেন আওয়ামী লীগ না আসলে নির্বাচন না হয়। তিনি বলেন, এই ধরনের বর্ণনা নতুন ন্যারেটিভ গড়ে তুলছে এবং রাজনৈতিক আধিপত্য বজায় রাখতে সহায়তা করছে।
এই মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, হাদিরের হত্যাকাণ্ডের তদন্তে সরকারের দেরি এবং পারওয়ার উল্লেখিত চুক্তি ব্যবহার করার আহ্বান দেশের নিরাপত্তা নীতি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে ভারত‑বাংলাদেশের সীমান্ত নিরাপত্তা ও অপরাধী হস্তান্তর প্রক্রিয়ায় নতুন আলোচনার দরজা খুলে দিতে পারে।
জামায়াত‑ই‑ইসলামি এই আহ্বানকে রাজনৈতিক ইচ্ছাশক্তি হিসেবে উপস্থাপন করছে, যা সরকারকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে বাধ্য করবে। পারওয়ার বলেন, হাদিরের পরিবারকে আল্লাহর রহমত ও সম্মান প্রদান করা হয়েছে, তবে ন্যায়বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত শোকের ছায়া ম্লান হবে না।
ভবিষ্যতে, যদি সরকার পারওয়ার উল্লেখিত চুক্তি ব্যবহার করে হাদিরের হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার করে, তবে তা দেশের আইনি ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মডেল হিসেবে বিবেচিত হবে। অন্যদিকে, যদি পদক্ষেপ না নেওয়া হয়, তবে রাজনৈতিক বিরোধী গোষ্ঠীর মধ্যে সরকারের প্রতি অবিশ্বাস বাড়তে পারে।
এই প্রেক্ষাপটে, জামায়াত‑ই‑ইসলামির নেতৃত্বের দাবি স্পষ্ট: হাদিরের হত্যার দায়ী ব্যক্তিদের দ্রুত ও ন্যায়সঙ্গতভাবে বিচার করা, এবং আন্তর্জাতিক চুক্তি ব্যবহার করে তাদের দেশে ফেরত আনা। সরকার কীভাবে এই আহ্বানকে মোকাবিলা করবে, তা দেশের নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক পরিবেশের ভবিষ্যৎ দিক নির্ধারণ করবে।



