ইংল্যান্ডের অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে অশেস সিরিজে ধারাবাহিক পরাজয় শেষ হয়েছে, যা সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে তীব্র ব্যর্থতা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সিরিজের ফলাফল শুধু স্কোরবোর্ডে নয়, প্রস্তুতি ও দল গঠনের ধারায়ও প্রশ্ন তুলেছে।
সিজনের সূচনায়, গ্রীষ্মকালে জাক ক্রলি ইনজুরি হওয়ার পরও, টেস্টের মূল ওপেনার হিসেবে উপযুক্ত প্রার্থী পরীক্ষা করা হয়নি। পরিবর্তে ড্যান লরেন্সকে ওপেনার দায়িত্বে রাখা হয়, যদিও তার দক্ষতা ঐ পদের জন্য উপযুক্ত নয়। লরেন্সের পারফরম্যান্সের পর, তাকে আর দেখা যায়নি।
এক বছর আগে নিউজিল্যান্ডে জর্ডান কক্সের থাম্ব ভাঙা একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছিল। যদি তিনি অস্ট্রেলিয়ায় রিজার্ভ উইকেট-কি পার্সন হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হতেন, তবে দলকে অতিরিক্ত বিকল্প পাওয়া যেত। তদুপরি, মার্ক উডকে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি টুর্নামেন্টে পাঠানো হয়েছিল, যেখানে তিনি দ্রুতই আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে মাত্র ১১ ওভারের পরই যুক্তরাজ্যে ফিরে আসতে বাধ্য হন। এই সিদ্ধান্তের ফলে ইংল্যান্ডের দ্রুত গতি বজায় রাখার পরিকল্পনা ব্যাহত হয়।
কোচিং স্টাফের ক্ষেত্রেও অনিশ্চয়তা দেখা যায়। সহকারী কোচ পল কলিংউড গ্রীষ্মের শুরুতে অদৃশ্য হয়ে যান এবং তার পরিবর্তে কোনো নাম প্রকাশ করা হয়নি। তদুপরি, টুর্নামেন্টের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত দ্রুত গতি প্রশিক্ষকের পরিচয় স্পষ্ট করা হয়নি, যা দলের প্রস্তুতিতে প্রভাব ফেলেছে।
দলীয় আঘাতের তালিকায় ক্রিস ওয়েকসের ডিশলকেটেড শোল্ডার অন্তর্ভুক্ত, যার ফলে তিনি অশেসে অংশ নিতে পারেননি। তবে, শেষ টেস্টের জন্য ভারতীয় সিরিজে নির্বাচিত দুই খেলোয়াড়—জেমি ওভারটন এবং লিয়াম ডসন—অস্ট্রেলিয়ায় নিয়ে যাওয়া হয়নি। ওভারটন, যিনি ওভালে একটি সুযোগ ব্যবহার করে লাল বলের ক্রিকেট থেকে বিরতি নিয়েছিলেন, তার পরিবর্তে ম্যাথিউ পটস, ম্যাথিউ ফিশার বা স্যাম কুকের মতো বিকল্প থাকতে পারত। ডসন বা অন্য কোনো স্পিনার শোয়াব বাসির জন্য অতিরিক্ত কভার হিসেবে কাজ করতে পারত, যা অস্ট্রেলিয়ার শর্তে প্রয়োজনীয় ছিল।
অশেস স্কোয়াডের ঘোষণা নিজেই একটি অনাকাঙ্ক্ষিত সংকেত হিসেবে বিবেচিত হয়। দল গঠন ও প্রস্তুতির ধারায় ধারাবাহিক ত্রুটি, পাশাপাশি কোচিং স্টাফের অনিশ্চয়তা, শেষ পর্যন্ত সিরিজের ফলাফলে প্রভাব ফেলেছে। এই ব্যর্থতা ইংল্যান্ডের ভবিষ্যৎ টেস্ট পরিকল্পনা ও দল গঠনের পদ্ধতিতে পুনর্বিবেচনার প্রয়োজনীয়তা নির্দেশ করে।
সিরিজের পরবর্তী টেস্ট ম্যাচের সময়সূচি এখনও নির্ধারিত নয়, তবে বর্তমান পরিস্থিতি থেকে স্পষ্ট যে, দলকে দ্রুত পুনর্গঠন ও কৌশলগত পরিবর্তন করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে অনুরূপ পরাজয় এড়ানো যায়।



