22 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeব্যবসা২০২৫ সালে এশিয়ার যুক্তরাষ্ট্র থেকে জ্বালানি আমদানি হ্রাস পেয়েছে

২০২৫ সালে এশিয়ার যুক্তরাষ্ট্র থেকে জ্বালানি আমদানি হ্রাস পেয়েছে

এশিয়া অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের কাঁচা তেল, কয়লা ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানি ২০২৫ সালে হ্রাস পাবে, যদিও ট্রাম্প প্রশাসনের বাণিজ্য নীতি এই শিপমেন্ট বাড়ানোর লক্ষ্য রাখে। কল্পনা করা হচ্ছে যে এই পতনের প্রধান কারণ চীন, যা বিশ্বের সর্ববৃহৎ পণ্য ক্রেতা, যুক্তরাষ্ট্রের ওপর আরোপিত উচ্চ শুল্কের ফলে ক্রয় কমিয়ে দিচ্ছে।

কমোডিটি বিশ্লেষক কপ্লারের তথ্য অনুযায়ী, এশিয়ার যুক্তরাষ্ট্র থেকে কাঁচা তেলের মোট আমদানি ২০২৫ সালে দৈনিক ১.৪৩ মিলিয়ন ব্যারেল পৌঁছাবে, যা ২০২৪ সালের ১.৫৬ মিলিয়ন ব্যারেল এবং ২০২৩ সালের রেকর্ড ১.৬৫ মিলিয়ন ব্যারেল থেকে কম। এই প্রবণতা এশিয়ার জ্বালানি বাজারে যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ার হ্রাসের ইঙ্গিত দেয়।

দক্ষিণ কোরিয়া, ট্রাম্পের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তির অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি ক্রয় বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তবে তার আমদানি মাত্র সামান্য বৃদ্ধি পাবে বলে অনুমান। ২০২৫ সালে দক্ষিণ কোরিয়ার কাঁচা তেল আমদানি ৪৭০,০০০ ব্যারেল/দিনে পৌঁছাবে, যা গত বছরের ৪৬৫,০০০ ব্যারেল থেকে সামান্য বেশি।

জাপানও একই চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের তেল ক্রয় বাড়িয়েছে। ২০২৫ সালে জাপানের যুক্তরাষ্ট্র থেকে কাঁচা তেল আমদানি ৮৪,৫০০ ব্যারেল/দিনে উঠবে, যা ২০২৪ সালের ৩৪,০০০ ব্যারেল থেকে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি। তবে জাপানের মোট কাঁচা তেল আমদানি ২.২৫ মিলিয়ন ব্যারেল/দিন, যার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ মাত্র প্রায় ৩.৮ শতাংশ, যা বাজারে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব সীমিত রাখে।

চীনের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের কাঁচা তেল আমদানি নাটকীয়ভাবে কমেছে। ২০২৫ সালে চীন কেবল ৩৮,৩৫০ ব্যারেল/দিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে কিনবে, যা ২০২৪ সালের ২৪৫,১০০ ব্যারেল এবং ২০২৩ সালের ৪ লক্ষ ব্যারেল থেকে যথাক্রমে ৮৪ শতাংশ এবং ৯০ শতাংশের বেশি হ্রাস। এই পতন শুল্কের প্রভাবকে স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত করে।

এলএনজি ক্ষেত্রে এশিয়ার যুক্তরাষ্ট্র থেকে মোট আমদানি ২০২৫ সালে ১৯.০৮ মিলিয়ন টন হবে, যা ২০২৪ সালের ২৯.৭৮ মিলিয়ন টন থেকে কমেছে। এই হ্রাসের মূল চালিকাশক্তি চীনের আমদানি হ্রাস, যা ২০২৫ সালে মাত্র ২৫০,০০০ টনে নেমে এসেছে, ২০২৪ সালের ৪.৩ মিলিয়ন টন থেকে ৯৪ শতাংশের বেশি হ্রাস পেয়েছে।

জাপান এখনও যুক্তরাষ্ট্রের এলএনজি ক্রয়ের শীর্ষ গ্রাহক, তবে তার আমদানি পরিমাণও হ্রাস পেয়েছে। ২০২৫ সালে জাপানের এলএনজি আমদানি ৪.৪৯ মিলিয়ন টনে নেমে এসেছে, যা ২০২৪ সালের ৬.৫০ মিলিয়ন টন থেকে কম।

ভারতও যুক্তরাষ্ট্রের এলএনজি থেকে উল্লেখযোগ্যভাবে কম ক্রয় করেছে। ২০২৫ সালে ভারতের আমদানি ২.৯৩ মিলিয়ন টনে নেমে এসেছে, যা ২০২৪ সালের ৫.০১ মিলিয়ন টন থেকে প্রায় অর্ধেক কম।

এই প্রবণতার পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের চীনা পণ্যের ওপর গড়ে ৪৭.৫ শতাংশ শুল্কের উচ্চ হার রয়েছে, যা ট্রাম্পের বাণিজ্য নীতি অনুযায়ী ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। শুল্কের ফলে চীন যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি পণ্যের দামের তুলনায় বিকল্প সরবরাহের দিকে ঝুঁকেছে, ফলে আমদানি হ্রাস পেয়েছে।

বাজার বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন যে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি রপ্তানিকারকরা এশিয়ার চাহিদা হ্রাসের ফলে বিক্রয় মূল্য ও মার্জিনে চাপের মুখে পড়তে পারে। একই সঙ্গে, ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের মতো অন্যান্য বাজারে শিপমেন্ট বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে, তবে তা সম্পূর্ণভাবে হ্রাসের ক্ষতিপূরণ করবে না।

ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি রপ্তানির দিকনির্দেশনা অনিশ্চিত রয়ে গেছে। যদি শুল্ক নীতি কঠোর থাকে এবং চীন বিকল্প সরবরাহে অগ্রসর হয়, তবে এশিয়ার আমদানি আরও কমতে পারে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বৃদ্ধি এবং নতুন চুক্তি স্বাক্ষরের মাধ্যমে কিছুটা পুনরুদ্ধার সম্ভব হতে পারে, তবে তা সময়সাপেক্ষ হবে।

সারসংক্ষেপে, ২০২৫ সালে এশিয়ার যুক্তরাষ্ট্র থেকে তেল ও গ্যাস আমদানি হ্রাস পাবে, যা ট্রাম্পের বাণিজ্য নীতির সরাসরি ফলাফল। এই প্রবণতা যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি রপ্তানি শিল্পের জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে এবং এশিয়ার শক্তি বাজারে পুনর্গঠনকে ত্বরান্বিত করবে।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
ব্যবসা প্রতিবেদক
ব্যবসা প্রতিবেদক
AI-powered ব্যবসা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments