ঢাকা শহরের হাতিরঝিল এলাকায় একটি বাড়িতে দুই শিশুর মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ১০ বছর বয়সী আফরিদা চৌধুরী এবং তার এক বছর বয়সী ভাই ইলহাম চৌধুরীর মৃত্যু নিয়ে প্রাথমিকভাবে খাবার বিষক্রিয়া সন্দেহ করা হচ্ছে।
হাতিরঝিল থানা থেকে তথ্য পাওয়ার পর স্থানীয় পুলিশ সন্ধ্যা প্রায় আটটায় SHS টাওয়ার নং ৯১, ওয়্যারলেস মোরের গ্যারেজে পার্ক করা হিমায়িত অ্যাম্বুলেন্স থেকে মৃতদেহগুলো তুলে নেয়। এরপর দ্য ঢাকা মেডিকেল কলেজের মরগে অটোপসি করার জন্য পাঠানো হয়।
হাতিরঝিল থানার সাব-ইনস্পেক্টর মো. সুমন মিয়া জানান, ঘটনাস্থলে পৌঁছে মৃতদেহগুলো পরীক্ষা করার সময় কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তিনি যোগ করেন, মৃতদেহগুলো উদ্ধার করার পর প্রাথমিক তদন্তমূলক রিপোর্ট প্রস্তুত করা হয়।
শিশুদের পিতামাতা মোসলে উদ্দিন চৌধুরী, যিনি একটি গার্মেন্ট ফ্যাক্টরির জেনারেল ম্যানেজার, এবং সাইদা জাকাওয়াত আরা, যিনি গৃহিণী, উভয়ই পরিবারকে সমর্থন করে আসছেন। আফরিদা ভিকারুন্নিসা নুন স্কুল অ্যান্ড কলেজের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন।
শুক্রবার সন্ধ্যায় পুরো পরিবার একসাথে রাতের খাবার গ্রহণ করে শোবার ঘরে গিয়ে বিশ্রাম নেয়। পরের সকাল আফরিদা হঠাৎ অসুস্থ হয়ে রাজারবাগের নিকটস্থ একটি স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি হয়। ডাক্তাররা সকাল সাতটায় তাকে মৃত ঘোষণা করে এবং পরে দেহটি বাড়িতে ফিরিয়ে আনা হয়।
আফরিদার মৃত্যুর পরই তার ছোট ভাই ইলহামেও বমি বমি করে অসুস্থ হয়ে পড়ে। তাকে মঘবাজারের একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে বিকেলে চিকিৎসার সময় তার মৃত্যু ঘটে। উভয় শিশুর মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে পিতামাতা ও অন্যান্য পরিবারের সদস্যরাও একই খাবার গ্রহণের পর অসুস্থতা অনুভব করেন, তবে যথাযথ চিকিৎসার মাধ্যমে তারা সুস্থ হয়ে ওঠেন।
প্রাথমিক পর্যায়ে বিষয়টি খাবার বিষক্রিয়ার দিকে ইঙ্গিত করে, তবে এখনো নিশ্চিত করা যায়নি যে খাবারটি বাড়িতে প্রস্তুত করা হয়েছিল নাকি বাহ্যিক কোনো সেবা থেকে আনা হয়েছিল। মৃতদেহের অটোপসি ফলাফল পাওয়া পর্যন্ত সঠিক কারণ নির্ধারণ করা সম্ভব নয়।
পুলিশের মতে, মৃতদেহে কোনো আঘাতের চিহ্ন না থাকায় হিংসা বা দুর্ঘটনা সন্দেহের বাইরে রয়েছে। এখন তদন্ত দল মৃতদেহের অটোপসি রিপোর্টের অপেক্ষায় রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় প্রমাণ সংগ্রহের জন্য সংশ্লিষ্ট রেস্তোরাঁ বা খাবার সরবরাহকারীদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
এই ঘটনার পর, স্থানীয় কর্তৃপক্ষ পরিবারকে মানসিক সহায়তা প্রদান এবং ভবিষ্যতে অনুরূপ ঘটনা রোধে খাবার নিরাপত্তা সংক্রান্ত সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আরও তথ্য পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট আদালতে মামলার অগ্রগতি জানানো হবে।



