জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সহ-সভাপতি ও দলীয় মুখপাত্র রাশেদ প্রধান রবিবার সকাল ১০টায় গুলশানের ভারতীয় দূতাবাসের দিকে একক পদযাত্রা শুরু করেন। তিনি ঢাকার পল্টন বক্স, কালভার্ট রোড থেকে রওনা হন, যেখানে পূর্বে শরিফ ওসমান হাদিকে গুলি করার ঘটনা ঘটেছিল। এই পদযাত্রা ভারতীয় আধিপত্যবাদ এবং বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বে হস্তক্ষেপের প্রতিবাদ হিসেবে চালু করা হয়েছে।
রাশেদ প্রধান জানান, তিনি দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার লক্ষ্যে এই কর্মসূচি গ্রহণ করছেন এবং ভারতীয় নীতির বিরুদ্ধে তার বিরোধ প্রকাশ করছেন। পদযাত্রার সময় তিনি হাতে একটি কালো গোলাপ বহন করেন, যা স্থানীয় রাজনৈতিক ভাষায় আধিপত্যবাদের বিরোধী প্রতিরোধের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়।
মঞ্চে তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, “হিন্দুস্তান গণহত্যাকারী ফ্যাসিস্ট হাসিনা ও হাদির খুনিদের আশ্রয় দিয়েছে। বছরের পর বছর ধরে সীমান্তে হত্যা, অবৈধ পুশ‑ইন, ভূমি দখল, পানির ন্যায্য হিস্যা না দেওয়া এবং দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করা দিল্লির জন্য ছেলেখেলায় পরিণত হয়েছে। দেশের মানুষের পক্ষ থেকে ভারতীয় দূতাবাসের মাধ্যমে ভারত সরকারের আগ্রাসী মনোভাবের প্রতি আমি তীব্র ঘৃণা জানাতে চাই।”
রাশেদ প্রধান অতীতে একাধিকবার মিছিলের মাধ্যমে ভারতীয় দূতাবাসে যাওয়ার এবং স্মারকলিপি বা চিঠি দেওয়ার চেষ্টা করেছেন, তবে প্রশাসন মাঝপথে বাধা দিয়ে থামিয়ে দিয়েছে। তাই তিনি এবার প্রায় আট কিলোমিটার পথ একা হেঁটে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন, যাতে নিরাপত্তা বাহিনী বুঝতে পারে যে তিনি নিরস্ত্র এবং কোনো হুমকি নয়।
পদযাত্রা শুরু হওয়ার পর রাশেদ প্রধান গুলশানের প্রধান সড়কগুলো অতিক্রম করে দূতাবাসের সামনে পৌঁছান। তিনি কোনো সহায়তা ছাড়াই একা চলার সময় নিরাপত্তা গার্ডের উপস্থিতি লক্ষ্য করেন, তবে কোনো বাধা বা হস্তক্ষেপের রিপোর্ট নেই। তার এই একক পদযাত্রা জাগপা দলের দীর্ঘমেয়াদী ভারতীয় হস্তক্ষেপের বিরোধী নীতির ধারাবাহিকতা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, রাশেদ প্রধানের এই পদক্ষেপ জাগপা দলের মধ্যে জাতীয়তাবাদী রঙকে জোরদার করার একটি কৌশল হতে পারে। ভারতীয় দূতাবাসের সামনে এই ধরনের প্রকাশ্য প্রতিবাদ দু’দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের উপর চাপ বাড়াতে পারে, বিশেষ করে যখন দুই দেশের মধ্যে সীমান্ত সংক্রান্ত বিষয়গুলো ইতিমধ্যে সংবেদনশীল।
বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য প্রকাশিত হয়নি, তবে নিরাপত্তা দপ্তর পূর্বে এই ধরনের একক পদযাত্রা নিয়ে সতর্কতা জানিয়েছিল। রাশেদ প্রধানের দাবি অনুযায়ী, প্রশাসন তার পথ আটকে দেয়নি, বরং নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য পর্যাপ্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
জাগপা দলের মুখপাত্র ভবিষ্যতে একই রকম পদক্ষেপের সম্ভাবনা উল্লেখ করেছেন, যাতে ভারতীয় নীতির প্রতি দেশের নাগরিকদের অসন্তোষ প্রকাশ করা যায়। তিনি বলেন, “যদি আমাদের দাবি শোনানো না হয়, তবে আমরা আরও বৃহত্তর স্তরে প্রতিবাদ চালিয়ে যাব।”
এই ঘটনাটি দেশের অভ্যন্তরে এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের সূক্ষ্ম ভারসাম্যকে পরীক্ষা করার একটি নতুন পর্যায় হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। উভয় দেশের কূটনৈতিক মঞ্চে এই ধরনের প্রকাশ্য বিরোধের ফলে পরবর্তী আলোচনায় কী ধরনের সমঝোতা হবে, তা সময়ই বলবে।
সারসংক্ষেপে, রাশেদ প্রধানের একক পদযাত্রা ভারতীয় দূতাবাসের সামনে ঘৃণা প্রকাশের একটি স্বতন্ত্র রাজনৈতিক কর্ম, যা জাগপা দলের ভারতীয় হস্তক্ষেপের বিরোধী অবস্থানকে দৃঢ় করে এবং ভবিষ্যতে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের গতিপথে প্রভাব ফেলতে পারে।



