জাতীয় সাইবার সিকিউরিটি এজেন্সি (NCSA) ২০ ডিসেম্বর ২০২৫ থেকে নাগরিকদেরকে হোয়াটসঅ্যাপ ও ইমেইল মাধ্যমে সামাজিক মাধ্যমের এমন পোস্ট যা সন্ত্রাসবাদ বা সহিংসতা উস্কে দেয়, তা সরাসরি জানাতে আহ্বান জানিয়েছে। এ উদ্যোগের লক্ষ্য হল অনলাইন হিংসা ও উগ্রবাদের ঝুঁকি দ্রুত চিহ্নিত করে সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্মে রিপোর্ট করা, যাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া যায়।
রিপোর্ট করার জন্য নির্দিষ্ট হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর 01308332592 এবং ইমেইল ঠিকানা [email protected] প্রকাশ করা হয়েছে। নাগরিকরা যদি কোনো পোস্টে সরাসরি সহিংসতা আহ্বান, সন্ত্রাসী বার্তা বা জননিরাপত্তা হুমকি দেখতে পান, তবে এই দুই চ্যানেলের যেকোনো একটিতে তথ্য পাঠাতে পারেন। এ ধরনের তথ্যের মধ্যে টেক্সট, ছবি, ভিডিও বা লিঙ্ক অন্তর্ভুক্ত হতে পারে, তবে কেবলমাত্র হিংসা-উস্কানিমূলক বিষয়বস্তুই রিপোর্টের জন্য গ্রহণযোগ্য।
প্রাপ্ত রিপোর্টের প্রথম ধাপ হল NCSA-র অভ্যন্তরীণ যাচাই। যাচাই সম্পন্ন হলে, এজেন্সি বাংলাদেশ টেলিকম রেগুলেটরি কমিশন (BTRC) এর মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট সামাজিক মাধ্যম প্ল্যাটফর্মে বিষয়টি উপস্থাপন করে। সরকার সরাসরি কোনো পোস্ট মুছে ফেলতে পারে না; তার ভূমিকা কেবলমাত্র প্রাসঙ্গিক প্ল্যাটফর্মকে যৌক্তিক কারণসহ রিপোর্ট করা। এই প্রক্রিয়া নিশ্চিত করে যে প্ল্যাটফর্মগুলো আইনগত বাধ্যবাধকতা মেনে পদক্ষেপ নেবে, একইসাথে প্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষিত থাকবে।
জাতীয় সাইবার সিকিউরিটি অর্ডিন্যান্স ২০২৫ অনুসারে, হেট স্পিচ যা সরাসরি সহিংসতা উস্কে দেয় বা হিংসাত্মক কাজকে উৎসাহিত করে, তা অপরাধসিদ্ধ। এই আইনগত কাঠামো নাগরিকদেরকে হিংসাত্মক বিষয়বস্তু রিপোর্ট করার প্রেরণা দেয় এবং দায়িত্বশীল অনলাইন আচরণকে উৎসাহিত করে।
মন্ত্রণালয়ের পোস্ট, টেলিকমিউনিকেশন ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক চিফ অ্যাডভাইজারের বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তাইয়েব ফেসবুকে জানিয়েছেন যে, NCSA প্রাথমিক যাচাইয়ের পর BTRC-এর মাধ্যমে প্ল্যাটফর্মকে রিপোর্ট করবে। তিনি উল্লেখ করেন, সরকার কোনো পোস্ট সরাসরি মুছে ফেলতে পারে না; কেবল যুক্তিসঙ্গত কারণসহ রিপোর্টই করা সম্ভব। তাইয়েবের এই মন্তব্য সরকারী নীতির স্বচ্ছতা ও প্রক্রিয়ার স্পষ্টতা তুলে ধরে।
একই দিনে প্রকাশিত একটি সম্পাদকীয়তে রাজনৈতিক সহিংসতা ও মবতন্ত্রের কোনো স্থান নেই বলে জোর দেওয়া হয়েছে। হাদির হত্যাকারীদের দ্রুত অনুসন্ধান ও শাস্তি দেওয়ার দাবি তীব্রভাবে প্রকাশ করা হয়েছে, পাশাপাশি যারা সহিংসতা উস্কে দেয় তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এই প্রকাশনা সরকারী উদ্যোগের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে সামাজিক শৃঙ্খলা রক্ষার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে।
প্রযুক্তিগত দৃষ্টিকোণ থেকে, হোয়াটসঅ্যাপ ও ইমেইলকে রিপোর্টিং চ্যানেল হিসেবে ব্যবহার করা নাগরিক অংশগ্রহণকে সহজতর করে। মোবাইল ফোনের ব্যাপক ব্যবহার ও ইন্টারনেটের প্রবেশযোগ্যতা বিবেচনা করলে, এই পদ্ধতি দ্রুত তথ্য সংগ্রহ ও প্রাথমিক পদক্ষেপের সুযোগ দেয়। এছাড়া, স্বয়ংক্রিয় ফিল্টারিং সিস্টেমের সঙ্গে সমন্বয় করে ভবিষ্যতে হিংসাত্মক কন্টেন্টের প্রাথমিক সনাক্তকরণে সহায়তা করতে পারে।
দীর্ঘমেয়াদে, এই রিপোর্টিং মেকানিজম অনলাইন উগ্রবাদের বিস্তার রোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে প্ল্যাটফর্মগুলোকে দ্রুত সতর্ক করা সম্ভব হবে, ফলে হিংসা-উস্কানিমূলক পোস্টের প্রচার সীমিত হবে। পাশাপাশি, সরকার ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার মধ্যে তথ্য শেয়ারিং বাড়বে, যা নীতি নির্ধারণে বাস্তবসম্মত ভিত্তি প্রদান করবে।
অবশেষে, NCSA সকল নাগরিককে আহ্বান জানাচ্ছে যে, হিংসা-উস্কানিমূলক কন্টেন্টের মুখোমুখি হলে অবিলম্বে নির্ধারিত হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর বা ইমেইল ঠিকানায় রিপোর্ট করুন। সঠিক ও সময়মত তথ্য প্রদান কেবলমাত্র জননিরাপত্তা নিশ্চিত করবে না, বরং ডিজিটাল পরিবেশকে আরও নিরাপদ ও দায়িত্বশীল করে তুলবে।



