20 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeআন্তর্জাতিকচট্টগ্রামে ভারতীয় ভিসা সেন্টার নিরাপত্তা উদ্বেগে কার্যক্রম স্থগিত

চট্টগ্রামে ভারতীয় ভিসা সেন্টার নিরাপত্তা উদ্বেগে কার্যক্রম স্থগিত

চট্টগ্রাম শহরের ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্র (IVAC) আজ (২১ ডিসেম্বর) থেকে নিরাপত্তা পরিস্থিতি মূল্যায়ন না হওয়া পর্যন্ত সেবাসমূহ বন্ধ করেছে। কেন্দ্রটি এই সিদ্ধান্তের কারণ হিসেবে শহরের খুলশি এলাকায় ভারতীয় সহকারী উচ্চ কমিশন (AHCI) এর আশেপাশে ঘটিত নিরাপত্তা ঘটনার উল্লেখ করেছে।

IVAC বাংলাদেশের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে যে, চট্টগ্রাম ভিসা সেন্টারের সকল সেবা ২১ ডিসেম্বর থেকে অস্থায়ীভাবে বন্ধ থাকবে এবং পরিস্থিতি স্থিতিশীল হলে পুনরায় খোলার ঘোষণা দেওয়া হবে।

গত রাতের দিকে খুলশি এলাকায় AHCI-র সামনে প্রতিবাদী দল গড়ে ওঠে। শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দারা শারিফ ওসমান হাদি নামের এক নাগরিকের হত্যার প্রতিবাদে সাইটে জমায়েত হয়। ময়দানে গুলিবিদ্ধ হওয়া গুলির কারণে অন্তত চারজন আহত হয়, যার মধ্যে একজন পুলিশ কর্মকর্তা অন্তর্ভুক্ত।

প্রতিবাদকে নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য পুলিশ অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করেছে। AHCI-র সামনের অংশে অতিরিক্ত গার্ড ও সিভিল রক্ষী স্থাপন করা হয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে কোনো অশান্তি রোধ করা যায়।

প্রতিবাদে ধরা পড়া দশজন যুবকের ওপর গৃহীত শিলাবর্ষণ ও ইট-ফোঁটা ছোড়ার অভিযোগের ভিত্তিতে গ্রেফতার করা হয়েছিল। তবে খুলশি থানা প্রধানের মতে, জিজ্ঞাসাবাদে কোনো প্রমাণ না পাওয়া যাওয়ায় যুবকরা মুক্তি পেয়েছে এবং এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের হয়নি।

এই ঘটনার পর ভারত-বাংলাদেশ কূটনৈতিক সম্পর্কের সূক্ষ্ম ভারসাম্য পুনরায় পরীক্ষা করা হচ্ছে। পূর্বে দু’দেশের মধ্যে সীমান্ত সংযোগ, বাণিজ্যিক চুক্তি এবং শ্রমিক প্রবাহের ক্ষেত্রে অনুরূপ নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে ভিসা সেবা সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতি দু’দেশের কূটনৈতিক মঞ্চে পারস্পরিক বিশ্বাসের পুনর্নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরছে।

একজন আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বিশ্লেষক উল্লেখ করেছেন, “চট্টগ্রামের এই ধরনের নিরাপত্তা ঘটনার ফলে দু’দেশের কূটনৈতিক সংলাপের গতি ধীর হতে পারে, তবে দ্রুত তদন্ত ও স্বচ্ছতা বজায় রাখলে দীর্ঘমেয়াদে সম্পর্কের ক্ষতি কমে যাবে।” তিনি আরও যোগ করেন, “এধরনের ঘটনা অঞ্চলীয় নিরাপত্তা কাঠামোর উপরও প্রভাব ফেলতে পারে, বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক চুক্তিগুলোর বাস্তবায়নে।”

ভিসা সেন্টারের পুনরায় খোলার সময়সূচি এখনো নির্ধারিত হয়নি। ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে, নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করার পরই সেবা পুনরায় চালু করার পরিকল্পনা করবে। উভয় পক্ষই আশা প্রকাশ করেছে যে, দ্রুত সমাধান পাওয়া যাবে এবং ভিসা প্রক্রিয়ার স্বাভাবিকতা পুনরুদ্ধার হবে।

সামগ্রিকভাবে, চট্টগ্রামে নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে ভিসা সেন্টারের বন্ধ হওয়া একটি সতর্ক সংকেত, যা কূটনৈতিক সংলাপ, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং দু’দেশের নাগরিক সেবার উপর প্রভাব ফেলবে। ভবিষ্যতে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে তা নির্ভর করবে নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বিত প্রচেষ্টার ওপর।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক
AI-powered আন্তর্জাতিক content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments