এই আর্থিক বছরের শুরুতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সকল করদাতার জন্য অনলাইন আয়কর রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক ঘোষণা করেছে। প্রথমবারের মতো পুরো দেশব্যাপী ই‑রিটার্নের বাধ্যবাধকতা আরোপের ফলে বহু করদাতা, বিশেষত বয়োজ্যেষ্ঠ ও গ্রামীণ এলাকায় বসবাসকারী মানুষ, প্রযুক্তিগত জ্ঞান না থাকায় সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন।
সেগুনবাগিচা কর অঞ্চল‑১১ সহ দেশের বিভিন্ন কর অঞ্চলে সহায়তা বুথ স্থাপন করা হলেও, আজকের সকাল পর্যন্ত এসব বুথে কোনো করদাতা দেখা যায়নি। একই সঙ্গে কয়েকটি বুথে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীর অনুপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে; এক বুথের কর্মী ছুটিতে থাকার তথ্য অন্য কর্মীর কাছ থেকে পাওয়া গিয়েছে। ফলে, অনলাইন রিটার্ন জমা দিতে চাওয়া করদাতারা যথাযথ সহায়তা পেতে পারছেন না।
বয়স ৬০ বছর এবং তার বেশি বয়স্ক করদাতাদের মধ্যে একজন, যিনি উত্তরাঞ্চলের ব্যবসায়ী, অনলাইন রিটার্নের জটিলতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি পূর্বে প্রতি বছর কর অফিসে গিয়ে রিটার্ন দাখিল করতেন, কিন্তু এখন ই‑রিটার্নের পদ্ধতি জানেন না বলে সমস্যায় আছেন। তার মতই, তার পরিবারের তরুণ সদস্যদেরও প্রযুক্তিগত জ্ঞান থাকলেও পুরো প্রক্রিয়া বুঝতে পারছেন না। এ ধরনের পরিস্থিতি দেশের বহু বয়োজ্যেষ্ঠ করদাতার জন্য সাধারণ হয়ে উঠেছে।
এমন সমস্যার সমাধানে এনবিআর পাঁচটি বিশেষ শ্রেণীর করদাতাকে অনলাইন রিটার্নের বাধ্যবাধকতা থেকে অব্যাহতি দিয়েছে। প্রথমটি হল ৬৫ বছর বা তদূর্ধ্ব বয়সের প্রবীণ করদাতা, দ্বিতীয়টি হল শারীরিকভাবে অসমর্থ বা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন করদাতা (সনদ দাখিলের শর্তে)। তৃতীয়টি হল বিদেশে বসবাসকারী বাংলাদেশি করদাতা, চতুর্থটি হল মৃত করদাতার আইনগত প্রতিনিধি, এবং পঞ্চমটি হল বাংলাদেশে কর্মরত বিদেশি নাগরিক। এই গ্রুপের করদাতারা ইচ্ছা করলে স্বেচ্ছায় অনলাইন রিটার্ন দাখিল করতে পারবেন।
অনলাইন রিটার্নের বাধ্যবাধকতা সত্ত্বেও, করদাতারা পেমেন্টের জন্য বিভিন্ন পদ্ধতি ব্যবহার করতে পারবেন। ব্যাংক ট্রান্সফার, ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ড, পাশাপাশি জনপ্রিয় মোবাইল আর্থিক সেবা বিকাশ এবং রকেটের মাধ্যমে কর পরিশোধ করা সম্ভব। এই বিকল্পগুলো করদাতার জন্য আর্থিক লেনদেনকে সহজতর করে, তবে প্রযুক্তিগত সহায়তার অভাব এখনও বড় চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে।
প্রযুক্তি কলামের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা যায়, ই‑রিটার্নের সফল বাস্তবায়নের জন্য কেবল সফটওয়্যার প্ল্যাটফর্মই নয়, ব্যবহারকারী সহায়তা ও প্রশিক্ষণকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে। সরকার যদি সহায়তা বুথে পর্যাপ্ত কর্মী নিয়োগ করে এবং তাদের কাজের সময়সূচি স্পষ্ট করে, তবে বয়স্ক ও কম প্রযুক্তি-সচেতন করদাতার উদ্বেগ কমে যাবে। এছাড়া, স্থানীয় গ্রামীন তথ্যকেন্দ্র বা লাইব্রেরিতে টিউটোরিয়াল সেশন চালু করা, সহজ ভাষায় গাইডলাইন প্রকাশ করা ইত্যাদি উদ্যোগও কার্যকর হতে পারে।
দীর্ঘমেয়াদে, অনলাইন রিটার্নের ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা দেশের কর সংগ্রহ প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ ও দক্ষ করে তুলবে। তবে বর্তমান পরিস্থিতি দেখায় যে, প্রযুক্তিগত সহায়তা ও নীতি সমন্বয় না হলে, বাধ্যতামূলক অনলাইন রিটার্নের লক্ষ্য অর্জনে বাধা সৃষ্টি হবে। তাই, এনবিআর ও সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর উচিত দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে সহায়তা কাঠামো শক্তিশালী করা, যাতে সব স্তরের করদাতা সহজে ও নিরাপদে তাদের দায়িত্ব পালন করতে পারে।



