সুদানের আবিয়েতে অবস্থিত জাতিসংঘ (ইউএন) ঘাঁটিতে আক্রমণ ঘটার ফলে বাংলাদেশি সেনাবাহিনীর ছয়জন শান্তিকর্তা প্রাণ হারিয়ে এবং আটজন সহকর্মী আহত হয়েছেন। ঘটনাটি রাত ১০টায় ইন্টার-সার্ভিসেস পাবলিক রিলেশনস (আইএসপিআর) কর্তৃক প্রকাশিত বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।
আক্রমণকারী গোষ্ঠীর সুনির্দিষ্ট পরিচয় এখনো প্রকাশিত না হলেও, স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী এটি চলমান সংঘর্ষের অংশ হিসেবে ঘটেছে। আইএসপিআরের বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, “যুদ্ধ অব্যাহত রয়েছে” এবং পরিস্থিতি এখনও অস্থিতিশীল রয়ে গেছে।
বঙ্গবন্ধু সেনাবাহিনীর ফেসবুক পেজে পোস্টে জানানো হয়েছে, এলাকায় ধারাবাহিক হিংসা চলছে এবং আহত শান্তিকর্তাদের ত্বরিত চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হচ্ছে। পোস্টে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, আহতদের জন্য রেসকিউ অপারেশন চালু রয়েছে এবং নতুন তথ্য পাওয়া গেলে তা শেয়ার করা হবে।
বাংলাদেশের চিফ অ্যাডভাইজার প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনুস এই ঘটনার প্রতি গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, শান্তিকর্তারা যারা অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে কাজ করছিলেন, তাদের মৃত্যু দেশীয় ও আন্তর্জাতিক উভয় স্তরে এক বড় ক্ষতি।
প্রফেসর ইউনুসের মতে, বাংলাদেশ দীর্ঘদিন থেকে ইউএন শান্তিকর্তা মিশনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে এবং এই শহীদদের ত্যাগ দেশের গর্বের পাশাপাশি গভীর দুঃখের বিষয়। তিনি মৃতদের আত্মার শান্তি কামনা করেন এবং আহতদের দ্রুত আরোগ্য প্রত্যাশা করেন।
সরকার ইতিমধ্যে জাতিসংঘকে অনুরোধ করেছে, আহতদের সর্বোচ্চ মানের চিকিৎসা সেবা প্রদান এবং শহীদদের দেহ দ্রুত দেশে ফেরত আনার ব্যবস্থা করতে। পাশাপাশি, শোকাহত পরিবারগুলোর পাশে সরকারী সহায়তা নিশ্চিত করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
আক্রমণকে গুরুতর অপরাধ হিসেবে গণ্য করে সরকার ও চিফ অ্যাডভাইজার উভয়ই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আহ্বান জানিয়েছেন, শান্তিকর্তাদের সুরক্ষার জন্য আরও দৃঢ় পদক্ষেপ নিতে। তারা উল্লেখ করেন, এই ধরনের আক্রমণ মানবতা ও শান্তির প্রতি সরাসরি হুমকি।
জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদও এই ঘটনার পর্যালোচনা শুরু করেছে এবং ভবিষ্যতে শান্তিকর্তাদের রক্ষার জন্য অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করবে বলে জানানো হয়েছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ধরনের আক্রমণ ইউএন মিশনের কার্যকারিতা ও নিরাপত্তা নীতিতে পুনর্বিবেচনার প্রয়োজনীয়তা সৃষ্টি করবে।
বাংলাদেশের বিপিএনের কার্যনির্বাহী চেয়ারম্যান তারিক রহমানও ফেসবুকে শোক প্রকাশ করে, শহীদদের ত্যাগকে জাতীয় গর্বের উৎস হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, দেশের সেবায় প্রাণ দানকারী সৈন্যদের স্মৃতি চিরকাল বেঁচে থাকবে।
আবিয়ের অঞ্চলে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বহুবার সংঘর্ষের ঝড় দেখা গেছে, যা শান্তিকর্তাদের কাজকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে। পূর্বে ২০২২ সালে একই অঞ্চলে ইউএন ঘাঁটিতে আক্রমণ ঘটেছিল, যেখানে কয়েকজন শান্তিকর্তা আহত হয়েছিলেন। এই পুনরাবৃত্তি ঘটনা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে নিরাপত্তা প্রোটোকল পুনর্নির্মাণের দিকে ত্বরান্বিত করবে।
পরবর্তী কয়েক সপ্তাহে বাংলাদেশ ও জাতিসংঘের সমন্বয়ে শহীদদের দেহ পুনরুদ্ধার, আহতদের চিকিৎসা এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে কাজ চালিয়ে যাবে। একই সঙ্গে, আঞ্চলিক শান্তি প্রক্রিয়ার ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করতে দু’পাশের কূটনৈতিক সংলাপ বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।



