লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার ভবানীগঞ্জ ইউনিয়নের চরমনসা গ্রাম, সূতারগোপ্তা এলাকায় শুক্রবার রাতের দিকে অগ্নিকাণ্ড ঘটায়। আগুনের ফলে বিএনপি সহসাংগঠনিক সম্পাদক বেলাল হোসেনের সাত বছর বয়সী মেয়ে আয়েশা আক্তার নিঃশ্বাস বন্ধ করে মারা যায়; বেলাল হোসেন (৫০) এবং তার দুই কন্যা বীথি (১৭) ও স্মৃতি (১৪) দগ্ধ হয়ে গুরুতর আঘাত পেয়ে চিকিৎসা গ্রহণ করছেন। বীথি ও স্মৃতি জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি হয়েছে, আর বেলাল হোসেন লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে সান্ত্বনা পাচ্ছেন।
অগ্নিকাণ্ডের ফলে বেলাল হোসেনের বাড়ি সম্পূর্ণভাবে পুড়ে ধ্বংস হয়ে যায়। বাড়ির কাঠামো ধ্বংসের পর অবশিষ্ট ধ্বংসাবশেষে আগুনের তীব্রতা ও বিস্তার স্পষ্ট হয়ে ওঠে। পরিবার সদস্যদের মতে, আগুনের শিখা দ্রুত বাড়ির সব কোণায় ছড়িয়ে পড়ে, ফলে বের হওয়া কঠিন হয়ে যায়।
বেলাল হোসেন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে জানিয়েছেন, বাড়ির দুটো দরজা বাইরে থেকে তালা লাগিয়ে রাখা ছিল। তিনি বলেন, দরজা বন্ধ থাকায় তিনি ও তার স্ত্রী দুজনই টিনের বেড়া ভেঙে বাড়ি থেকে বের হতে বাধ্য হন। বের হওয়ার সময় ছোট মেয়ে চিৎকার করে সাহায্য চায়, তবে আগুনের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তিনি নিজে নিরাপদে বের হতে পারেন।
স্থানীয় পুলিশ এবং দমকল বিভাগ উভয়ই ঘটনাটির প্রাথমিক তদন্তে কোনো সংগঠিত দুর্বৃত্ত বা মবের সংযোগের স্পষ্ট প্রমাণ পায়নি। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান কাজেমীর স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, আগুনের ঘটনার সঙ্গে কোনো অপরাধী গোষ্ঠীর জড়িত থাকার বিশ্বাসযোগ্য তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি।
পুলিশের মতে, যদি কোনো প্রমাণ পাওয়া যায় তবে তা আইনের আওতায় যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তদন্ত চলাকালীন সময়ে সাংবাদিক ও মিডিয়ার কাছ থেকে প্রাসঙ্গিক তথ্য সরবরাহের অনুরোধ করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বাড়ির দরজায় তালা দিয়ে পেট্রল ঢেলে আগুন জ্বালানোর অভিযোগের কোনো ভিত্তি না থাকলে তদন্ত দ্রুত এগিয়ে যাবে।
দমকল বিভাগও একই রকম মন্তব্য করে জানিয়েছে যে, আগুনের মূল কারণ ও দায়িত্ব নির্ধারণে এখনও কোনো নির্দিষ্ট সূত্র পাওয়া যায়নি। তারা উল্লেখ করেছে, অগ্নি নিভানোর কাজের সময় কোনো সন্দেহজনক বস্তু বা পেট্রলের চিহ্ন পাওয়া যায়নি, ফলে ঘটনাটিকে স্বতঃস্ফূর্ত দুর্ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
বিএনপি নেতার পরিবার ও সমর্থকরা ঘটনাস্থলে গিয়ে শোক প্রকাশের পাশাপাশি তদন্তের স্বচ্ছতা দাবি করছেন। বেলাল হোসেনের পরিবার জানিয়েছে, দরজা তালা লাগিয়ে পেট্রল ঢেলে আগুন জ্বালানোর অভিযোগের পেছনে কোনো প্রমাণ না থাকলে, দায়ী ব্যক্তিদের দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
বেলাল হোসেন ভবানীগঞ্জ ইউনিয়নের সহসাংগঠনিক সম্পাদক এবং স্থানীয় বাজারে সবজি ও কীটনাশক ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত। তার রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক প্রোফাইলের সঙ্গে সঙ্গে এই দুঃখজনক ঘটনা তার পরিবারকে গভীর শোকের মধ্যে ফেলেছে।
পুলিশ ও দমকল বিভাগ উভয়ই তদন্তকে অগ্রাধিকার দিয়ে চলমান রাখবে বলে জানিয়েছে। প্রমাণ সংগ্রহের জন্য স্থানীয় বাসিন্দা, প্রতিবেশী ও সম্ভাব্য সাক্ষীদের কাছ থেকে তথ্য আহরণ করা হবে। প্রয়োজনীয় প্রমাণ পাওয়া গেলে, সংশ্লিষ্ট আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য আদালতে মামলা দায়ের করা হবে।
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় প্রশাসন ও নিরাপত্তা বাহিনী অগ্নিকাণ্ডের পুনরাবৃত্তি রোধে বাড়ির দরজা ও জানালার নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করার পরিকল্পনা করেছে। একই সঙ্গে, ভবিষ্যতে অনুরূপ ঘটনা এড়াতে পেট্রল ও অন্যান্য দাহ্য পদার্থের সংরক্ষণে কঠোর নিয়মাবলী প্রয়োগের কথা বিবেচনা করা হচ্ছে।



