টেল আবিবের কেন্দ্রীয় হোস্টেজ স্কোয়ারে গত সপ্তাহে দীর্ঘ দুই বছর ধরে চলা প্রতিবাদ ক্যাম্পের মূল মঞ্চটি সরিয়ে ফেলা হয়েছে। একই সময়ে, স্কোয়ারের আশেপাশের পোস্টার ও সাইনপোস্টগুলোও অপসারিত হয়েছে এবং হোস্টেজ ও মিসিং ফ্যামিলিস ফোরামের অফিসগুলো খালি করা হয়েছে।
৭ অক্টোবর ২০২৩ তারিখে হামাস ও অন্যান্য ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠীর আক্রমণে ২৫১ ইসরায়েলি নাগরিক আটক হয়। এর মধ্যে ১৬৮ জনকে গাজা থেকে জীবিত অবস্থায় মুক্তি পাওয়া গেছে, আটজনকে উদ্ধার করা হয়েছে এবং একজন, র্যান গভিলি, এখনও মৃত হিসেবে রয়ে গেছে।
র্যানের পরিবার এবং কিছু সমর্থক প্রতি শুক্রবার হোস্টেজ স্কোয়ারে একত্রিত হয়ে গান গাই এবং প্রার্থনা করেন, যা শাব্বাতের সূচনা চিহ্নিত করে। এই সপ্তাহে হানুক্কাহ উৎসবের অংশ হিসেবে একটি মোমবাতি জ্বালানো হয়।
র্যানের পিতা ইৎজিক গভিলি বলেন, “প্রতিদিনই ৭ অক্টোবরের মতো অনুভব করি। আমরা এখনও সেই দিনকে অতিক্রম করিনি, তবে আমরা দৃঢ় এবং তার প্রত্যাবর্তার অপেক্ষা করছি।” তিনি আরও যোগ করেন, “জনগণের সমর্থনই আমাদের আশা জোগায়।”
প্রারম্ভিক পর্যায়ে, বন্দি পরিবারগুলোর সমবেত শক্তি তাদের দাবি এগিয়ে নিতে মূল চালিকাশক্তি ছিল। আজ ফোরামটি একটি স্থানীয় সমাবেশ থেকে আন্তর্জাতিক লবিং সংস্থায় রূপান্তরিত হয়েছে, যা বিভিন্ন দেশের সরকার ও আন্তর্জাতিক সংস্থার কাছে ইসরায়েলের অবস্থান তুলে ধরছে।
এই পরিবর্তনটি কেবল ইসরায়েলি নাগরিকদের পুনরুদ্ধারের জন্য নয়, বরং গাজা-ইসরায়েল সংঘাতের বিস্তৃত কূটনৈতিক প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং জাতিসংঘের বিভিন্ন মঞ্চে ফোরামের প্রতিনিধিরা গৃহীত মানবিক সহায়তা, বন্দি বিনিময় এবং স্থায়ী শান্তি চুক্তির প্রস্তাব তুলে ধরেছেন।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, হোস্টেজ ফ্যামিলিস ফোরামের আন্তর্জাতিক উপস্থিতি গাজা যুদ্ধের সময় গৃহীত বহু কূটনৈতিক পদক্ষেপের সঙ্গে সমান্তরাল। উদাহরণস্বরূপ, ২০২১ সালের গাজা সংঘাতে আন্তর্জাতিক মানবিক সংস্থাগুলোর হস্তক্ষেপ এবং পরবর্তী শান্তি আলোচনায় পরিবারগুলোর ভূমিকা তুলনীয়।
সাম্প্রতিক কূটনৈতিক আলোচনায়, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় গাজা সীমান্তে মানবিক শরণার্থী প্রবাহের জন্য অস্থায়ী অবরোধ শিথিলের প্রস্তাব এসেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন গৃহীত রেজলিউশনগুলোতে ইসরায়েলকে বন্দি মুক্তির জন্য অতিরিক্ত চাপ দেওয়া হয়েছে, এবং জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে এই বিষয়টি নিয়ে বিশেষ অধিবেশন নির্ধারিত হয়েছে।
ভৌগোলিকভাবে, টেল আবিবের হোস্টেজ স্কোয়ারের পরিবর্তন শহরের নিরাপত্তা ব্যবস্থার পুনর্বিবেচনা নির্দেশ করে। গাজার সীমান্তে চলমান সামরিক কার্যক্রমের সঙ্গে টেল আবিবের নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য নতুন সিভিল ডিফেন্স পরিকল্পনা গৃহীত হচ্ছে।
আসন্ন মাসগুলোতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মনোযোগ দুইটি মূল মাইলস্টোনে কেন্দ্রীভূত হবে: প্রথমত, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে গাজা-ইসরায়েল সংঘাতের উপর বিশেষ অধিবেশন, যেখানে বন্দি ও মানবিক বিষয়গুলো আলোচিত হবে; দ্বিতীয়ত, যুক্তরাষ্ট্র ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর মধ্যে গৃহীত নতুন বন্দি বিনিময় চুক্তি।
এই পর্যায়ে, হোস্টেজ ফ্যামিলিস ফোরামের আন্তর্জাতিক লবিং কার্যক্রমের প্রভাব স্পষ্ট হয়ে উঠছে। তাদের প্রচেষ্টা কেবল র্যান গভিলির পরিবারের জন্য নয়, বরং পুরো ইসরায়েলি সমাজের জন্য মানবিক অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার একটি বৃহত্তর আন্দোলনে রূপ নেয়।
অতএব, টেল আবিবের হোস্টেজ স্কোয়ারে মঞ্চের অপসারণ এবং ফোরামের অফিসের খালি হওয়া একটি প্রতীকী পরিবর্তন, যা স্থানীয় প্রতিবাদ থেকে বৈশ্বিক কূটনৈতিক আলোচনার দিকে রূপান্তরের সূচক। ভবিষ্যতে এই সংগঠনের ভূমিকা গাজা-ইসরায়েল সংঘাতের সমাধানে কীভাবে প্রভাব ফেলবে, তা আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের দৃষ্টিতে থাকবে।



