ঢাকার মগবাজারে দুই ভাইবোনের মৃত্যু ঘটেছে, যারা সম্প্রতি জন্মদিনের খাবার গ্রহণের পর অসুস্থ হয়ে শেষ পর্যন্ত প্রাণ হারিয়েছেন। শিকারের মধ্যে ১৪ মাসের ইলহাম চৌধুরী এবং তার ১০ বছর বয়সী বোন আফরিদা চৌধুরী অন্তর্ভুক্ত, যাদের পিতার নাম মোসলেহ উদ্দিন চৌধুরী।
আফরিদার জন্মদিন ১৬ ডিসেম্বর উদযাপনের জন্য পরিবারটি বাইরের খাবার অর্ডার করে, যার কিছু অংশ ফ্রিজে সংরক্ষণ করে শুক্রবারের সন্ধ্যায় খাওয়া হয়। খাবার গ্রহণের সঙ্গে সঙ্গেই দুজনেই অস্বস্তি অনুভব করে, এবং শারীরিক অবস্থার অবনতি দ্রুত ঘটতে থাকে।
শুক্রবার রাতে আফরিদা অসুস্থ হয়ে রাশমনো হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে শনিবার সকাল প্রায় ৭টায় তার মৃত্যু ঘটে। একই সময়ে তার ছোট ভাই ইলহাম বমি করা শুরু করে, যা তাকে মগবাজার কমিউনিটি হাসপাতালে নিয়ে যায়; চিকিৎসা চলাকালীন দুপুরে তারও মৃত্যু হয়।
স্থানীয় হাটিরঝিল থানা থেকে এসআই সুমন মিয়া জানিয়েছেন, শিকারের দেহগুলো এসএইচএস টাওয়ারের নিচতলার ফ্রিজিং ভ্যান থেকে উদ্ধার করা হয়েছে এবং রোববার সেগুলো ঢাকা মেডিকেল মর্গে ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।
শিশুদের চাচা তৌহিদ আলম চৌধুরী জানান, আফরিদা বেইলি রোডের ভিকারুননিসা স্কুলের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী এবং তার জন্মদিনের দিনই পরিবারটি বাইরের খাবার গ্রহণ করেছিল। তিনি উল্লেখ করেন, খাবার খাওয়ার পরই দুজনেই অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং হাসপাতালে ভর্তি হয়।
পুলিশ বর্তমানে খাবার বিষক্রিয়া সন্দেহের ভিত্তিতে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। ফ্রিজিং ভ্যানের ভিতরের খাবারের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে, এবং বিক্রেতা ও ডেলিভারি সেবার সঙ্গে সাক্ষাৎকার নেওয়া হবে। প্রাথমিক ফলাফল অনুযায়ী কোনো নির্দিষ্ট রোগজীবাণু বা বিষাক্ত পদার্থের উপস্থিতি নিশ্চিত করা যায়নি, তাই ফরেনসিক রিপোর্টের অপেক্ষা করা হচ্ছে।
প্রাসঙ্গিক আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পুলিশ মামলাটি হিংসা ও অবহেলার অভিযোগে দায়ের করেছে। প্রমাণ সংগ্রহ, সাক্ষী বিবৃতি এবং ফরেনসিক ফলাফলের ভিত্তিতে প্রয়োজনে ফুড সেফটি আইন এবং দণ্ড সংহিতা অনুযায়ী অপরাধী নির্ধারণের সম্ভাবনা রয়েছে। মামলার পরবর্তী শুনানি স্থানীয় আদালতে নির্ধারিত হয়েছে, যেখানে পরিবার ও সংশ্লিষ্ট পক্ষের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকবে।
এই দুঃখজনক ঘটনা খাবার সংরক্ষণ ও হ্যান্ডলিংয়ের নিরাপত্তা সম্পর্কে সতর্কতা বাড়িয়ে দিয়েছে। কর্তৃপক্ষ জনসাধারণকে খাবার সঠিকভাবে সংরক্ষণ, তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ এবং সন্দেহজনক গন্ধ বা স্বাদ দেখা দিলে তা গ্রহণ না করার পরামর্শ দিয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে অনুরূপ ট্র্যাজেডি রোধ করা যায়।



