চট্টগ্রামের লোহাগড়া উপজেলায় জুলাই বিক্ষোভের শহীদ ইশমাম উল হাকের বড় ভাই মুহিবুল হাকের ওপর ছুরি হামলা ঘটার পর দুই সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ঘটনাটি গত রাত ৭ টার কাছাকাছি আমিরাবাদ স্টেশন এলাকায় ঘটেছিল এবং স্থানীয় বাসিন্দারা তৎক্ষণাৎ আহতকে নিকটস্থ স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে গিয়েছিলেন।
স্থানীয় পুলিশ স্টেশনের অফিসার‑ইন‑চার্জের মতে, গ্রেফতারকৃত দুই ব্যক্তির নাম মিনহাজ উদ্দিন ও মোহাম্মদ বাহার। মিনহাজকে সরাসরি ছুরি ব্যবহারকারী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং উভয় সন্দেহভাজনকে গত রাতেই আটক করা হয়।
হামলার সময় মুহিবুল হাক একা স্টেশনে ছিলেন, আর আক্রমণকারী মিনহাজের সঙ্গে আরেকজন ব্যক্তি ছিল, যারা ঘটনাস্থল থেকে তৎক্ষণাৎ পালিয়ে যায়। এই তথ্য স্থানীয় ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টির যৌথ সমন্বয়ক রিদওয়ান আর. রায়হান থেকে জানা যায়।
আহতকে প্রথমে লোহাগড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করা হয়। পরে তাকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়, যেখানে বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন আছেন।
হাসপাতালের জরুরি বিভাগে কাজ করা শিমুল দত্তের বিবরণে বলা হয়েছে, মুহিবুলের কোমরে ছুরি আঘাত লেগে উল্লেখযোগ্য রক্তক্ষরণ হয়েছে। প্রাথমিক চিকিৎসার পরও রোগীর অবস্থা এখনও ঝুঁকিপূর্ণ, এবং ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সম্পূর্ণ সুরক্ষিত বলে ঘোষণা করা সম্ভব নয়।
পুলিশের অফিসার‑ইন‑চার্জ উল্লেখ করেছেন, মুহিবুলের পরিবার এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেনি। তবে তদন্তের অংশ হিসেবে গ্রেফতারকৃত দুজনের বিরুদ্ধে প্রাথমিক শংসাপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে।
হামলার পেছনের উদ্দেশ্য বা প্রেরণা এখনও পরিষ্কার হয়নি। অফিসার‑ইন‑চার্জ জানান, motive নির্ধারণের জন্য তদন্ত চলমান এবং অতিরিক্ত তথ্য সংগ্রহের প্রয়োজন রয়েছে।
কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা দাবি করেন, মিনহাজ উদ্দিন নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সক্রিয় সদস্য হতে পারেন। তবে পুলিশ এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করতে পারেনি এবং কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি।
সন্দেহভাজনদের বিরুদ্ধে প্রমাণ সংগ্রহের পাশাপাশি, পুলিশ মামলাটিকে আইনি প্রক্রিয়ার আওতায় আনতে প্রয়োজনীয় সব ধাপ অনুসরণ করছে। গ্রেফতারকৃত দুজনকে জেলখানায় রাখা হয়েছে এবং পরবর্তী আদালত শোনার তারিখ নির্ধারণের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে, স্থানীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থা নিরাপত্তা বাড়াতে এবং অনুরূপ অপরাধ রোধে অতিরিক্ত পদক্ষেপ গ্রহণের কথা জানিয়েছে। তদন্তের অগ্রগতি অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট সকল তথ্য আদালতে উপস্থাপন করা হবে।
সামগ্রিকভাবে, মুহিবুল হাকের ওপর ছুরি হামলা একটি গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ত্বরিত ও ন্যায়সঙ্গত পদক্ষেপের মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার প্রচেষ্টা চলমান।



