ইলেকশন কমিশন (ইসিস) আজ বিকেলে ১৩তম জাতীয় সংসদীয় নির্বাচন ও গণভোটের পূর্বে আইন-শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে শীর্ষ নিরাপত্তা সংস্থার প্রধানদের সঙ্গে আলোচনা করবে। উভয় ভোট ১২ ফেব্রুয়ারি আগামী বছর নির্ধারিত, তাই নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিচালনা নিশ্চিত করা জরুরি।
বৈঠকটি বিকেল ২:৩০ টায় ইসিসের সেক্রেটারিয়াটের কনফারেন্স রুম (রুম নং ৫২০), আগারগাঁও, ঢাকায় অনুষ্ঠিত হবে। চেয়ারম্যান প্রধান নির্বাচন কমিশনারের নেতৃত্বে চারজন কমিশনারসহ সভা পরিচালনা করবেন।
এই সভায় সামরিক বাহিনীর তিনটি শাখা—সেনাবাহিনীর প্রধান, নৌবাহিনীর প্রধান ও বিমানবাহিনীর প্রধান—সহ মোট এগারোটি আইন-শৃঙ্খলা সংস্থার প্রধানকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এতে আর্মড ফোর্সেস ডিভিশনের প্রধান স্টাফ অফিসার, হোম সেক্রেটারির প্রধান, পুলিশ ইনস্পেক্টর জেনারেল, সীমানা গার্ড বাংলাদেশ, কোস্ট গার্ড, আনসার ও ভিডিপি, ডিজিএফআই, এনএসআই, এনটিএমসি এবং র্যাবের প্রধান অন্তর্ভুক্ত।
অতিরিক্তভাবে, পুলিশ স্পেশাল ব্রাঞ্চের ইনস্পেক্টর জেনারেল, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার এবং জেলখানা ইনস্পেক্টর জেনারেলকেও সভায় অংশগ্রহণের জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে।
বৈঠকের মূল আলোচ্য বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে নির্বাচনের পূর্বে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনা, অবৈধ অস্ত্র পুনরুদ্ধার ও সন্ত্রাসী কার্যক্রম রোধে যৌথ বাহিনীর সমন্বয়, রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের আচরণবিধি মেনে চলা, এবং একটি নিরাপদ ও ন্যায়সঙ্গত নির্বাচনী পরিবেশ গড়ে তোলার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা।
ইসিসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, সভা শেষ হওয়ার পর সাংবাদিকদের জন্য একটি সংক্ষিপ্ত ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হবে, যাতে বৈঠকের মূল সিদ্ধান্ত ও পরবর্তী পদক্ষেপগুলো প্রকাশ করা হবে।
একই সময়ে, ইসিসের আরেকটি চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ২৪ ডিসেম্বর দেশের বিভিন্ন জেলা ও শহরে ডিপি (ডেপুটি কমিশনার) ও পুলিশ সুপারিনটেন্ডেন্টদের সঙ্গে একটি বৃহত্তর বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে, যা উভয় ভোটের প্রস্তুতিতে সহায়তা করবে।
ইসিস পূর্বে ২০ অক্টোবর, ২৭ নভেম্বর এবং ১৪ ডিসেম্বর একই ধরনের বৈঠক করেছে, যেখানে আইন-শৃঙ্খলা সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় ও নিরাপত্তা পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করা হয়। এই ধারাবাহিক বৈঠকগুলো নির্বাচনের নিরাপদ পরিচালনা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে।
সংক্ষেপে, আজকের বৈঠক নির্বাচনের পূর্বে আইন-শৃঙ্খলা সংস্থাগুলোর সমন্বয় শক্তিশালী করার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ, যা ভোটের দিন নাগরিকদের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সহায়তা করবে।



