২০২৫ সালের ক্রিসমাস দিবসে ভারতীয় সিনেমা হলগুলোতে জেমস ক্যামেরনের সিক্যুয়েল ‘অ্যাভাটার: ফায়ার অ্যান্ড অ্যাশ’ এর শো সংখ্যা প্রায় ত্রিশ শতাংশ কমানো হবে। এই পরিবর্তনটি প্রধানত কার্তিক আরিয়ানের রোমান্টিক কমেডি ‘তু মেরি মেইন তেরা মেইন তেরা তু মেরি’ এর জন্য স্থান তৈরি করার উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে।
কর্তিক আরিয়ান এবং অ্যানন্যা পান্ডের মুখোমুখি নতুন ছবিটি পরিবারিক ছুটির সময়ে দর্শকের মনোযোগ আকর্ষণ করতে চায়। গ্রীষ্মের হিট সিনেমা ‘ধুরন্ধর’ এখনও বক্স অফিসে শীর্ষে থাকলেও, ক্রিসমাসের ছুটির দিনগুলোতে তরুণ দর্শক এবং পরিবারগুলোকে লক্ষ্য করে এই রোমান্স-কমেডি বিশেষভাবে জনপ্রিয় হওয়ার সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে।
অ্যাভাটার: ফায়ার অ্যান্ড অ্যাশ এর ভারতীয় বিতরণকারী জিও স্টার স্টুডিওস, শো সংখ্যা কমানোর অনুমতি দিয়েছে। এই সিদ্ধান্তটি ‘তু মেরি মেইন তেরা’ এর স্টেকহোল্ডারদের চাপে নেওয়া হয়েছে, যারা সিনেমা হলগুলোকে এই নতুন ছবির জন্য সময়সূচি পরিবর্তন করতে অনুরোধ করে। ফলে স্বাধীন চেইনগুলোতে ইতিমধ্যে শো কমানোর কাজ শুরু হয়েছে এবং মোট শোয়ের প্রায় ত্রিশ শতাংশ হ্রাস পাবে।
শো কমানোর প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সিনেমা হলের মালিকরা জানান যে, এই পদক্ষেপটি ‘তু মেরি মেইন তেরা’ এর জন্য একটি শক্তিশালী উদ্বোধনী দিন নিশ্চিত করবে। চলচ্চিত্রটি তরুণ প্রজন্মের মধ্যে উচ্চ চাহিদা পেয়েছে এবং ক্রিসমাস ও নববর্ষের ছুটির সময়ে পরিবারিক মুভি হিসেবে উপযুক্ত বলে বিবেচিত হচ্ছে।
অন্যদিকে, ‘অ্যাভাটার: ফায়ার অ্যান্ড অ্যাশ’ এর বক্স অফিস পারফরম্যান্স প্রত্যাশিত মাত্রায় পৌঁছায়নি, যা শো কমানোর সিদ্ধান্তকে আরও সহজ করেছে। সিনেমা হলগুলো দর্শকের চাহিদা এবং আর্থিক লাভের ভিত্তিতে প্রোগ্রামিং সমন্বয় করছে, ফলে এই সিক্যুয়েলটি এখন কম শোতে সীমাবদ্ধ হবে।
‘ধুরন্ধর’ এর ক্ষেত্রে জিও স্টুডিওস শো সংখ্যা কমানোর কোনো অনুমতি দেয়নি। এই ছবির জন্য মূল শো সময়সূচি বজায় রাখা হয়েছে এবং কোনো পরিবর্তন করা হয়নি। ফলে ‘ধুরন্ধর’ এর দর্শক সংখ্যা এবং আয় পূর্বাভাসের তুলনায় স্থিতিশীল থাকবে।
সিনেমা হলের মালিকদের মতে, ক্রিসমাসের ছুটিতে পরিবারিক মুভি এবং হালকা রোমান্সের চাহিদা বেশি, তাই ‘তু মেরি মেইন তেরা’ এর শো বাড়ানো যৌক্তিক। একই সময়ে, উচ্চ বাজেটের সাই-ফাই ছবির জন্য পর্যাপ্ত শো না থাকলে তার বক্স অফিসে প্রভাব পড়তে পারে, যা এই সিদ্ধান্তের মূল কারণ।
দর্শকদের জন্য এই পরিবর্তনটি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ শো সময়সূচি পরিবর্তনের ফলে পছন্দের সিনেমা দেখতে আগেই টিকিট বুক করা প্রয়োজন। যারা ‘অ্যাভাটার: ফায়ার অ্যান্ড অ্যাশ’ দেখতে চান, তারা স্থানীয় সিনেমা হলের তালিকা দ্রুত যাচাই করে সঠিক সময়ে টিকিট নিশ্চিত করা উচিত। একইভাবে, ‘তু মেরি মেইন তেরা’ এর ভক্তদের জন্যও আগাম পরিকল্পনা করা সুবিধাজনক হবে।
সামগ্রিকভাবে, ক্রিসমাসের ছুটির সময়ে ভারতীয় সিনেমা বাজারে দুটি বড় শিরোনাম একসঙ্গে প্রতিযোগিতা করবে, তবে শো সংখ্যা সমন্বয়ের মাধ্যমে সিনেমা হলগুলো দর্শকের চাহিদা এবং আর্থিক লাভের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করার চেষ্টা করছে। এই সময়ে দর্শকদের জন্য সর্বোত্তম অভিজ্ঞতা পেতে আগাম টিকিট বুকিং এবং শো সময়সূচি যাচাই করা বুদ্ধিমানের কাজ হবে।



