19 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধগাজীপুর শ্রীপুরে ব্যবসায়ীর লিফটে আক্রমণ, অচেতন হয়ে ফিরে পায় চুরি করা জিনিসপত্র

গাজীপুর শ্রীপুরে ব্যবসায়ীর লিফটে আক্রমণ, অচেতন হয়ে ফিরে পায় চুরি করা জিনিসপত্র

গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার মাওনা চৌরাস্তা এলাকায় শুক্রবার বিকাল প্রায় তিনটায় মোস্তফা কামাল নামের ব্যবসায়ী তার ফ্ল্যাটে ফিরে আসার সময় লিফটে অচেনা ব্যক্তির সঙ্গে মুখোমুখি হন এবং অচেতন হয়ে যান। তিন ঘণ্টা পর চেতনা ফিরে এলে তিনি দেখেন ঘরের সব মূল্যবান সামগ্রী চুরি হয়েছে।

মোস্তফা কামাল জানান, জুমা নামাজ শেষ করার পর তিনি গাড়ি থেকে নামেন এবং লিফটে ওঠেন। লিফটে ওঠার সঙ্গে সঙ্গেই এক অজানা ব্যক্তি উপস্থিত হয়। তিনি দাবি করেন, অপরাধীরা লিফটে তার পিছু নিয়ে কৌশলগতভাবে তার মোবাইলের হোয়াটসঅ্যাপ কলের নোটিফিকেশন দেখিয়ে মনোযোগ সরিয়ে দেয় এবং সঙ্গে “শয়তানের নিশ্বাস” নামে পরিচিত চেতনানাশক রাসায়নিক ব্যবহার করে তাকে অচেতন করে।

চেতনা হারানোর পর মোস্তফা কামাল প্রায় ছয়টা পর্যন্ত কোনো স্মৃতি ফিরে পাননি। সন্ধ্যায় পরিবারের সদস্যরা বাড়িতে ফিরে এসে তাকে অচেতন অবস্থায় পেয়ে তৎক্ষণাৎ প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করেন। চিকিৎসার সময় পরিবার লক্ষ্য করে যে ফ্ল্যাটের আলমারির ড্রয়ারগুলো এলোমেলো অবস্থায় রয়েছে এবং মূল্যবান জিনিসপত্রের কোনো চিহ্ন দেখা যায় না।

পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, লিফটের দরজা বন্ধ হওয়ার পর থেকে কোনো অস্বাভাবিক শব্দ শোনা যায়নি, ফলে চুরি কাজটি লিফটের ভিতরে বা লিফটের সংলগ্ন কোনো গোপন পথের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে বলে অনুমান করা হচ্ছে। চুরি করা জিনিসপত্রের তালিকায় গহনা, ইলেকট্রনিক ডিভাইস এবং নগদ অর্থ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, তবে সুনির্দিষ্ট পরিমাণ এখনও নির্ধারণ করা হয়নি।

শ্রীপুর থানা অপরাধ রেজিস্ট্রার অফিসে মোস্তফা কামাল শনিবার বিকালে অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে তিনি লিফটে অচেনা ব্যক্তির উপস্থিতি, চেতনা হারানো এবং চুরি ঘটনার সব বিবরণ উল্লেখ করেন। থানা কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে প্রাথমিক তদন্ত শুরু করে এবং লিফটের সিসিটিভি রেকর্ড, লিফটের যান্ত্রিক অবস্থা এবং সম্ভাব্য গোপন পথের অনুসন্ধান নির্দেশ করেন।

পুলিশের মতে, লিফটের সিসিটিভি ক্যামেরা কাজ করছিল কিনা তা যাচাই করা হবে এবং লিফটের ভিতরে ও আশেপাশে কোনো ফিঙ্গারপ্রিন্ট, চিহ্ন বা রসায়নিকের অবশিষ্টাংশ সংগ্রহ করা হবে। এছাড়া, চুরি করা জিনিসপত্রের তালিকা প্রস্তুত করে তা স্থানীয় জুয়েলারি ও ইলেকট্রনিক্স শপে অনুসন্ধান করা হবে।

মোস্তফা কামাল শ্রীপুরের মোবাইল মার্কেটের স্বত্বাধিকারী এবং তার ব্যবসা গাজীপুর জেলায় বেশ পরিচিত। তিনি উল্লেখ করেন, এই ধরনের আক্রমণ তার ব্যবসায়িক নিরাপত্তা ও পারিবারিক সুরক্ষার উপর গুরুতর প্রভাব ফেলেছে এবং দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে অপরাধীদের গ্রেফতার করা দরকার।

থানা কর্মকর্তারা জানান, প্রাথমিক তদন্তের ফলাফল অনুযায়ী সন্দেহভাজন বা অপরাধীর পরিচয় নির্ধারণ করা সম্ভব না হলেও, লিফটের ব্যবহারকারী তালিকা, নিরাপত্তা গার্ডের রোস্টার এবং আশেপাশের দোকানদারদের সাক্ষ্য সংগ্রহ করা হবে। প্রয়োজনীয় প্রমাণ সংগ্রহের পর মামলাটি শ্রীপুর সি.আর. টি. অফিসে পাঠিয়ে আইনি প্রক্রিয়া চালু করা হবে।

এই ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করার দাবি জানিয়ে থাকেন। শ্রীপুর থানা ইতিমধ্যে লিফটের নিরাপত্তা রক্ষণাবেক্ষণ ও রেকর্ডিং সিস্টেমের পুনঃপরীক্ষা শুরু করেছে এবং ভবিষ্যতে অনুরূপ ঘটনা রোধে অতিরিক্ত নজরদারি বাড়ানোর পরিকল্পনা করেছে।

মোস্তফা কামাল এবং তার পরিবার বর্তমানে শ্রীপুর থানার সঙ্গে সমন্বয়ে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের অপেক্ষায় রয়েছেন। তদন্তের অগ্রগতি ও অপরাধীর সনাক্তকরণে সহায়তা করতে পারে এমন কোনো তথ্য থাকলে স্থানীয় পুলিশকে জানাতে অনুরোধ করা হয়েছে।

৯২/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: প্রথম আলো
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments