রাঙ্গামাটি শহরের পুরাতন বাস স্টেশন এলাকায় শনিবার রাত ৩টা ৪০ মিনিটের দিকে অগ্নিকাণ্ডে চারটি দোকান ও দুইটি বাস সম্পূর্ণ পুড়ে গিয়েছে। ঘটনাস্থলে অগ্নি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে, ফলে আশেপাশের পথচারীরা আতঙ্কে ভেসে ওঠে। কোনো প্রাণহানি রেকর্ড করা না গেলেও সম্পত্তি ক্ষতি উল্লেখযোগ্য।
স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, আগুনের শিকড় ফার্নিচার বিক্রির একটি দোকানে বসে থাকা কয়েল থেকে বেরিয়ে এসেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। দোকানের মালিক ও কর্মচারীরা আগুনের প্রথম দৃষ্টিতে চিৎকার করে বেরিয়ে এসে আশেপাশের মানুষকে সতর্ক করে। অগ্নিকাণ্ডের সময় রাস্তায় উপস্থিত কিছু বাস চালকও তৎক্ষণাৎ গাড়ি থামিয়ে সাহায্যের জন্য ডাক দেন।
দোকান মালিকদের দ্রুত দোকান বন্ধ করে বেরিয়ে আসার পর, তারা আশেপাশের রাস্তায় সমবেত হয়ে চিৎকারের মাধ্যমে অন্যদের সতর্ক করতে থাকে। কিছু সময়ের মধ্যেই স্থানীয় বাস সেবা কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে, তবে আগুনের তীব্রতা তাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
রাঙ্গামাটি ফায়ার সার্ভিসের ওয়্যারহাউজ ইনস্ট্রাকটর মো. মুর্শিদুল ইসলাম জানান, আগুনের মূল কারণ সম্ভবত ফার্নিচার দোকানে সংরক্ষিত কয়েল থেকে উৎপন্ন হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, অগ্নি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত সময় লাগায়, ফলে দুইটি বাস এবং চারটি দোকান সম্পূর্ণভাবে পুড়ে যায়।
অগ্নিকাণ্ডের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত দুইটি বাসের মধ্যে একটি খাগড়াছড়ি বাস টার্মিনালের নিকটবর্তী এবং অন্যটি একই স্টেশনের পার্শ্ববর্তী এলাকায় অবস্থিত ছিল। দুটোই সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়ে গিয়ে পুনর্নির্মাণের প্রয়োজন। দোকানগুলোও সম্পূর্ণ ধ্বংসের শিকারে, ফলে মালিকদের ব্যবসা বন্ধ হয়ে গিয়েছে।
স্থানীয় পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে, অগ্নিকাণ্ডের কারণ তদন্তের দায়িত্ব গ্রহণ করে। পুলিশ কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল থেকে প্রমাণ সংগ্রহ, আগুনের শিকড় নির্ণয় এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিবৃতি নেয়ার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে, অগ্নিকাণ্ডে যদি অযৌক্তিকভাবে আগুন লাগানো বা নিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে অগ্নিকাণ্ডের দায়ে ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হতে পারে। সংশ্লিষ্ট আইন অনুযায়ী, অগ্নিকাণ্ডের ফলে সম্পত্তি ক্ষতি এবং জননিরাপত্তা হুমকির জন্য কঠোর শাস্তি নির্ধারিত আছে।
পুলিশের জানামতে, তদন্তের প্রথম ধাপ হিসেবে আগুনের শিকড় নির্ণয়ের জন্য ফরেনসিক বিশ্লেষণ করা হবে এবং সংশ্লিষ্ট দোকানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা, বৈদ্যুতিক সংযোগ এবং গ্যাস লাইন পরীক্ষা করা হবে। প্রয়োজনীয় প্রমাণ সংগ্রহের পর, মামলাটি স্থানীয় আদালতে উপস্থাপন করা হবে।
অধিকন্তু, রাঙ্গামাটি ফায়ার সার্ভিসের নির্দেশনা অনুযায়ী, ভবিষ্যতে এমন ধরনের অগ্নিকাণ্ড রোধে দোকানগুলোতে নিরাপত্তা মানদণ্ড মেনে চলা এবং সংরক্ষিত জ্বালানি পদার্থের সঠিক সংরক্ষণ নিশ্চিত করা জরুরি। স্থানীয় প্রশাসনও অগ্নি নিরাপত্তা প্রশিক্ষণ এবং জরুরি পরিকল্পনা তৈরির ওপর জোর দিচ্ছে।
এই ঘটনার পর, রাঙ্গামাটি শহরের বাস স্টেশন এলাকায় অস্থায়ীভাবে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোকে পুনর্নির্মাণের জন্য সহায়তা প্রদান করা হবে। স্থানীয় বাস সেবা কর্তৃপক্ষও ক্ষতিগ্রস্ত রুটের বিকল্প ব্যবস্থা চালু করেছে, যাতে যাত্রীদের চলাচল ব্যাহত না হয়।
সামগ্রিকভাবে, রাঙ্গামাটিতে ঘটিত অগ্নিকাণ্ডের ফলে সম্পত্তি ক্ষতি এবং স্থানীয় পরিবহন ব্যবস্থায় অস্থায়ী ব্যাঘাত ঘটেছে। তদন্ত চলমান থাকায়, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে নতুন তথ্য পাওয়া মাত্রই জনসাধারণকে জানানো হবে।



