প্রিমিয়ার লিগের ক্রিসমাস ডে ম্যাচে আর্সেনাল ১-০ স্কোরে ইভারটনকে পরাজিত করে শীর্ষে ফিরে এসেছে। মিকেল আর্টেটা দলের জয়কে কাজে লাগিয়ে গেম শেষ করার পদ্ধতি শিখতে হবে বলে জোর দিয়েছেন। এই জয় দিয়ে গ্যাংসারস ম্যানচেস্টার সিটির থেকে দুই পয়েন্টের ব্যবধান তৈরি করেছে।
ইভারটনের ঘরে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে একমাত্র গোলটি ভিক্টর গ্যোকারেস পেনাল্টি থেকে করেন। গ্যোকারেসের এই গোলই তার নভেম্বর ১ তারিখের পর প্রথম স্কোর, যা গ্যাংসারসকে লিগের শীর্ষে ফিরিয়ে এনেছে। ইভারটন আক্রমণাত্মক হুমকি তৈরি করতে পারলেও শেষ পর্যন্ত কোনো গোল করতে পারেনি।
দ্বিতীয়ার্ধে ইভারটনের উইলিয়াম স্যালিবা থের্নো ব্যারির ফাউল থেকে পেনাল্টি চাওয়ার আবেদন রেফারির দ্বারা প্রত্যাখ্যান করা হয়। আর্টেটা ম্যাচের পর মন্তব্যে বলেন, “আমাদের জয়কে কাজে লাগিয়ে গেম শেষ করার পদ্ধতি শিখতে হবে, মার্জিন বড় হওয়া উচিত ছিল।” তিনি দলের ধারাবাহিকতা ও আত্মবিশ্বাসের প্রশংসা করেন।
এই জয়টি চার বছরের মধ্যে তৃতীয়বার ক্রিসমাস ডে-তে আর্সেনালকে টেবিলের শীর্ষে রাখে। তবে পূর্বের দুইবারে ম্যানচেস্টার সিটি দ্রুত ফিরে এসে শীর্ষের দখল নেয়। সিটির কোচ পেপ গুআর্ডিয়োলোয় তার দলকে সাতটি ধারাবাহিক জয় এনে দিয়েছেন, যা পূর্বে সাত পয়েন্টের ফাঁককে কমিয়ে এনেছে।
আর্টেটা দলের ধারাবাহিক পারফরম্যান্সকে লিগ শিরোপা জয়ের মূল চাবিকাঠি হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “দলটির ধারাবাহিকতা আমাকে বিশ্বাস ও আত্মবিশ্বাস দেয়। এই লিগে ধারাবাহিকতা বজায় রাখা খুব কঠিন, আর আমাদের দল তা করছে।” এই মন্তব্যে তিনি দলের মনোবল ও কৌশলগত স্থিতিশীলতা তুলে ধরেছেন।
ইভারটন দলে আঘাতের তালিকায় কিয়ার্নান ডিউসবুরি-হল এবং ইলিমান ন্ডায়ে অন্তর্ভুক্ত, যাদের দুজনই আঘাত বা আফ্রিকান কাপের জন্য অনুপস্থিত। ডিউসবুরি-হল আঘাতের কারণে মাঠে আসেননি, আর ন্ডায়ে আফ্রিকান জাতীয় দলে অংশ নিতে ছুটে গেছেন। এই অনুপস্থিতি ইভারটনের আক্রমণকে সীমিত করেছে।
ইভারটনের কোচ ডেভিড ময়েসও দলের গোলহীন অবস্থার উপর দুঃখ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “আমরা কতই না ভাল খেলি, তবু গোল দরকার। শেষ দুই ম্যাচে গোলের অভাব স্পষ্ট ছিল।” ময়েস দলের প্রচেষ্টা, আত্মা ও পরিশ্রমের প্রশংসা করে, তবে গুণগত পারফরম্যান্সের অভাবকে উল্লেখ করেন।
ম্যাচের শেষ পর্যায়ে ইভারটন কিছুটা চাপ সৃষ্টি করতে পারলেও গ্যাংসারসের রক্ষণাবেক্ষণ শক্তিশালী ছিল। গ্যোকারেসের পেনাল্টি গোলের পর আর্সেনাল রক্ষণাত্মকভাবে খেলতে থাকে, যা ইভারটনের আক্রমণকে সীমাবদ্ধ করে। শেষ পর্যন্ত কোনো অতিরিক্ত গোল না হয়ে স্কোর ১-০ই রয়ে যায়।
এই জয় দিয়ে আর্সেনাল শীর্ষে ফিরে এসে শীতকালীন লিগের প্রথমার্ধে শক্তি প্রদর্শন করেছে। আর্টেটা দলের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে এবং গেম শেষ করার কৌশল শিখতে জোর দেন, যা শিরোপা জয়ের পথে গুরুত্বপূর্ণ।
ইভারটনের জন্য এই পরাজয় একটি কঠিন শিক্ষা, যেখানে আক্রমণাত্মক বিকল্পের অভাব স্পষ্ট হয়েছে। ময়েসের মতে, স্ট্রাইকারের অনুপস্থিতি দলের গোল করার ক্ষমতাকে প্রভাবিত করেছে। ভবিষ্যতে আক্রমণ শক্তি বাড়াতে নতুন পরিকল্পনা প্রয়োজন।
প্রিমিয়ার লিগের পরবর্তী রাউন্ডে আর্সেনাল এবং ইভারটন উভয়ই তাদের নিজস্ব চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হবে। আর্সেনাল শীর্ষে থেকে পয়েন্ট বজায় রাখতে চায়, আর সিটি তাদের ধারাবাহিক জয় চালিয়ে যেতে চায়। ইভারটন দল আবারও গোলের সমস্যার সমাধান খুঁজতে হবে।



