ধানমন্ডি থানায় চায়নৌত সংস্কৃতি ভবনে বৃহৎ আক্রমণ ও ধ্বংসের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। চায়নৌত ব্যবস্থাপক দুলাল ঘোষ গতকাল থানার অফিসে অভিযোগপত্র জমা দিয়ে ৩০০ থেকে ৩৫০ অজানা ব্যক্তির দায়িত্বে আক্রমণকে চিহ্নিত করেন।
ধানমন্ডি থানা অফিসার‑ইন‑চার্জ সাইফুল ইসলাম জানান, দায়ের করা মামলাটি ভবনের ধ্বংস, চুরি এবং অগ্নিকাণ্ডের প্রচেষ্টার ভিত্তিতে করা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, তদন্ত চলমান এবং সংশ্লিষ্ট অপরাধীদের সনাক্ত করে গ্রেফতার করা হবে।
চায়নৌত সংস্কৃতি ভবনটি ছয় তলা বিশিষ্ট একটি সাংস্কৃতিক কেন্দ্র, যেখানে বৃহস্পতিবার রাতের শেষ ভাগে অনিয়ন্ত্রিত গোষ্ঠী প্রবেশ করে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালায়। ভবনের বেশিরভাগ কক্ষ, অডিটোরিয়াম ও অফিসসহ সব জায়গা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আক্রমণকারীরা সিসিটিভি ক্যামেরা সহ নিরাপত্তা সরঞ্জামগুলো ধ্বংস করে দেয়।
বিবরণ অনুযায়ী, আক্রমণকারীরা বাদ্যযন্ত্র, কম্পিউটার, ফার্নিচার ইত্যাদি নষ্ট করে এবং কিছু জিনিস অগ্নিকাণ্ডে জ্বালিয়ে দেয়। ল্যাপটপ, মোবাইল ফোন এবং হার্ড ড্রাইভের মতো মূল্যবান ইলেকট্রনিক সামগ্রী চুরি করা হয়েছে। মোট সাতটি ল্যাপটপ, বহু মোবাইল ফোন এবং একাধিক হার্ড ড্রাইভ লুট করা হয়েছে।
বৈদ্যুতিক সংযোগ ও সরঞ্জামগুলোও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার ফলে ভবনের কার্যক্রমে বড় ধরনের ব্যাঘাত ঘটেছে। চায়নৌত প্রেসিডেন্ট সারওয়ার আলি ও জেনারেল সেক্রেটারি লেইসা আহমেদ লিসা কর্তৃক স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ভবনের প্রায় সব ঘরই ধ্বংসপ্রাপ্ত অবস্থায় রয়েছে।
চায়নৌত ব্যবস্থাপক দুলাল ঘোষের মতে, আক্রমণকারীরা গোপনীয়ভাবে প্রবেশ করে রাতের শেষ দিকে কাজ শেষ করে চলে যায়। তিনি থানায় অভিযোগ দায়েরের মাধ্যমে আইনি পদক্ষেপ নিতে চেয়েছেন, যাতে অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।
ধানমন্ডি থানা তদন্ত দল বর্তমানে আক্রমণের সময় উপস্থিত থাকা সিআইডি ফুটেজ, সাক্ষী বিবৃতি এবং অন্যান্য প্রমাণ সংগ্রহ করছে। সাইফুল ইসলাম উল্লেখ করেন, প্রমাণের ভিত্তিতে সন্দেহভাজনদের সনাক্ত করে দ্রুত গ্রেফতার করা হবে।
এই ঘটনার পর, চায়নৌত সংস্কৃতি ভবনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পুনর্বিবেচনা করা হচ্ছে। ভবনের ব্যবস্থাপনা দল ভবিষ্যতে অনুরূপ ঘটনা রোধে অতিরিক্ত সুরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণের পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে।
অন্যদিকে, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ. মনসুর কক্সবাজারকে দেশের প্রথম ক্যাশলেস জেলা হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা জানিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন, এই উদ্যোগের মাধ্যমে নগদ লেনদেন কমিয়ে ডিজিটাল অর্থনীতির উন্নয়ন ত্বরান্বিত করা হবে।
সামগ্রিকভাবে, চায়নৌত সংস্কৃতি ভবনে সংঘটিত আক্রমণ ও ধ্বংসের মামলাটি আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সমাধান করা হবে এবং ভবনের পুনর্নির্মাণ ও নিরাপত্তা উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।



