ডেবপ্রিয়া ভট্টাচার্য, সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের বিশিষ্ট ফেলো, ক্যাশলেস বাংলাদেশ সামিট ২০২৫-এ মূল বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানটি ইনস্টিটিউট অফ কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশ (ICMAB) ও মাস্টারকার্ডের যৌথ আয়োজন এবং ঢাকার সোনারগাঁও হোটেলে অনুষ্ঠিত হয়।
ভট্টাচার্য উল্লেখ করেন, নগদবিহীন অর্থনীতি যদি সঠিকভাবে পরিচালিত না হয়, তবে তা ‘ইনকমলেস’ সমাজের দিকে ধাবিত হতে পারে। তিনি জোর দেন, ডিজিটাল লেনদেনকে এমন একটি চালিকাশক্তি হিসেবে গড়ে তুলতে হবে, যা আনুষ্ঠানিক কর্মসংস্থানহীন জনগণের জন্য আয় সৃষ্টির নতুন পথ খুলে দেবে।
সমগ্র দেশের ডিজিটাল রূপান্তরের জন্য তিনি সমন্বিত ও সিস্টেমিক পদ্ধতির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। প্রযুক্তিগত বাধা ও সামাজিক প্রতিবন্ধকতা দুটিকেই সমাধান না করলে ক্যাশলেস উদ্যোগের প্রভাব সীমিত থাকবে।
নীতিগত প্রণোদনা হিসেবে তিনি কর ছাড়, ক্ষুদ্র বিক্রেতাদের জন্য মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট (MDR) মওকুফ এবং মাইক্রো-ব্যবসায়ীদের সরাসরি আর্থিক সহায়তা প্রস্তাব করেন। এসব ব্যবস্থা ছোটখাটো ব্যবসার ডিজিটাল লেনদেনে প্রবেশ সহজ করবে।
পেমেন্ট ইকোসিস্টেমের বৈচিত্র্য বাড়াতে তিনি মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (MFS) কে কেবল নগদ‑ইন/নগদ‑আউট কার্যক্রমে সীমাবদ্ধ না রেখে, রোডসাইড শপ, গ্রামীণ বাজার এবং অন্যান্য অনানুষ্ঠানিক সেক্টরে গ্রহণযোগ্যতা বিস্তারের আহ্বান জানান।
বিশেষ করে রেডি‑মেড গার্মেন্টস শিল্পের শ্রমিকদের বেতন প্রদানেও MFS ব্যবহার করা হলে লেনদেনের স্বচ্ছতা ও দ্রুততা বৃদ্ধি পাবে, এ বিষয়ে তিনি গুরুত্ব আরোপ করেন।
ব্যাংক, ফিনটেক, টেলিকম এবং বেসরকারি সংস্থার সমন্বিত কাজের মাধ্যমে অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সহজলভ্য ডিজিটাল পেমেন্ট সেবা তৈরি করা সম্ভব, এ কথায় তিনি জোর দেন।
বাংলাদেশ ব্যাংককে এই ক্যাশলেস ইকোসিস্টেমের প্রধান নিয়ন্ত্রক, পর্যবেক্ষক ও সুবিধাদাতা হিসেবে নির্ধারিত করা হয়েছে। তিনি নিরাপদ, আন্তঃসংযোগযোগ্য এবং স্বচ্ছ লেনদেনের কাঠামো গড়ে তোলার দায়িত্বে থাকবেন।
একটি কেন্দ্রীয় টাস্কফোর্স গঠন করে ব্যাংক, ফিনটেক, টেলিকম এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে সমন্বয় করা হলে নীতি মেনে চলা, উদ্ভাবন ত্বরান্বিত করা এবং নগদ হ্যান্ডলিংয়ের খরচ কমানো সম্ভব হবে, তিনি সুপারিশ করেন।
বর্তমানে নগদ ব্যবস্থাপনা ও হ্যান্ডলিংয়ের বার্ষিক খরচ প্রায় ২০,০০০ কোটি টাকার কাছাকাছি অনুমান করা হচ্ছে। এই ব্যয় কমাতে ডিজিটাল লেনদেনের পরিধি বাড়ানো জরুরি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ. মনসুর কক্সবাজারকে দেশের প্রথম ক্যাশলেস জেলা হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা জানিয়েছেন, যা দেশের নগদবিহীন রূপান্তরের মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে।



