রবিবার, ২১ ডিসেম্বর, ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার জামিরদিয়া এলাকায় পিএ নিট কম্পোজিট লিমিটেডের শ্রমিকদের একটি দল কর্মস্থল থেকে ফেরার পথে একটি বাসের সঙ্গে সংঘর্ষের পর শ্রমিকের অপহরণ অভিযোগ তুলে ঢাকা‑ময়মনসিংহ মহাসড়কে প্রতিবাদমূলক অবরোধ চালায়।
সকাল আটটায় শ্রমিকরা তাদের নিজস্ব কোম্পানির বাসে মহাসড়কে উপস্থিত হয়, ফলে দুই দিকের গাড়ি চলাচল বন্ধ হয়ে যায় এবং দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। অবরোধের সময় কর্মীদের সংখ্যা প্রায় একশো জনের কাছাকাছি ছিল এবং তারা সড়কের দু’পাশে দাঁড়িয়ে গাড়ি থামিয়ে রাখে।
ঘটনা অনুসারে, গাজীপুর থেকে পিএ নিট কম্পোজিটের কর্মীরা নিজস্ব বাসে কাজের পথে থাকাকালীন সৌখিন পরিবহনের একটি বাস তাদের শ্রমিকবাহী গাড়িতে ধাক্কা দেয়। ধাক্কা মারার পর উভয় পক্ষের চালক ও কর্মীদের মধ্যে তীব্র তর্ক হয়।
শ্রমিকদের মতে, আমিনুল নামের এক কর্মী ঐ বাসে উঠে চালকের সঙ্গে কথা বলার সময় তাকে বাসের ভিতরেই আটকে রাখা হয় এবং গাড়িটি ময়মনসিংহের দিকে নিয়ে যাওয়া হয়। শ্রমিকরা দাবি করে যে, এই প্রক্রিয়ায় তাদের সহকর্মীকে জোরপূর্বক গাড়ি থেকে বের করে নেওয়া হয়েছে।
অভিযোগের প্রতিক্রিয়ায় শ্রমিকরা রাস্তায় বাধা সৃষ্টি করে, যা প্রায় এক ঘণ্টা চলতে থাকে। এই সময়ে মহাসড়কের দুই দিকের গাড়ি চলাচল বন্ধ থাকে এবং বহু গাড়ি ও বাসে যাত্রীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়।
অবরোধের মাঝামাঝি সময়ে শ্রমিকরা সৌখিন পরিবহনের কয়েকটি বাস আটক করে রাখে, তবে পরবর্তীতে অন্য যানবাহন চলাচল করার অনুমতি দেয়। আটক করা বাসগুলোকে পরে পুলিশ হস্তক্ষেপের মাধ্যমে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়।
ভরাডোবা হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ এবিএম মেহেদী মাসুদ জানান, শ্রমিকের অপহরণ অভিযোগের ভিত্তিতে অবরোধ করা হয়েছে এবং বর্তমানে সড়কটি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে এসেছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, আটক করা বাসগুলোকে নিরাপদে রক্ষণাবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং অপহৃত বলে অভিযোগিত শ্রমিককে ফেরত আনার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
পুলিশের মতে, এই ঘটনার তদন্ত চলমান এবং সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের বিবৃতি সংগ্রহ করা হচ্ছে। আইনগত দৃষ্টিকোণ থেকে অপহরণ বা জোরপূর্বক গাড়ি চালানোর অভিযোগে প্রযোজ্য ধারা অনুসারে অপরাধীকে কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে।
অবধি, মহাসড়কে গাড়ি চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে এবং ট্র্যাফিক নিয়ন্ত্রণের জন্য অতিরিক্ত গাড়ি চালকেরা সতর্কতা অবলম্বন করছেন। তবে কর্মীদের দাবি অনুযায়ী, অপহরণ ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের ফলাফল প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত তারা পুনরায় অবরোধের সম্ভাবনা রাখবে।
শ্রমিক ইউনিয়নের প্রতিনিধিরা জানান, পিএ নিট কম্পোজিট লিমিটেডের কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তারা কাজের শর্তাবলী নিয়ে পুনরায় আলোচনা করতে ইচ্ছুক। তারা আরও দাবি করে যে, ভবিষ্যতে এমন ধরনের সংঘর্ষ রোধে পরিবহন সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় বাড়ানো দরকার।
এই ঘটনার পর, স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ ট্র্যাফিক ব্যবস্থাপনা উন্নত করার জন্য অতিরিক্ত কর্মী মোতায়েন করেছে এবং মহাসড়কে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত সাইনেজ ও রোড সাইন স্থাপন করা হয়েছে।
সামগ্রিকভাবে, শ্রমিকের অপহরণ অভিযোগ এবং তার ফলে সৃষ্ট মহাসড়ক অবরোধ ময়মনসিংহের ট্র্যাফিক ব্যবস্থায় অস্থায়ী ব্যাঘাত ঘটিয়েছে, তবে দ্রুত পুলিশ হস্তক্ষেপের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। তদন্তের ফলাফল প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে আইনি দায়িত্বের আওতায় আনা হবে।



