20 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeব্যবসানভেম্বর মাসে সরকারী ট্রেজারি বিল জারি ৪.৩% বৃদ্ধি, মোট টাকার পরিমাণ ৩১,২৮৯.১৩...

নভেম্বর মাসে সরকারী ট্রেজারি বিল জারি ৪.৩% বৃদ্ধি, মোট টাকার পরিমাণ ৩১,২৮৯.১৩ কোটি টাকা

বাংলাদেশ ব্যাংকের অর্থবাজার গতিবিদ্যা প্রতিবেদন অনুযায়ী, সরকার নভেম্বর মাসে স্বল্পমেয়াদী ট্রেজারি বিলের মাধ্যমে অতিরিক্ত টাকার সংগ্রহ করেছে। মোট ৩১,২৮৯.১৩ কোটি টাকা জারি করা হয়েছে, যা অক্টোবরের তুলনায় ৪.৩ শতাংশ বৃদ্ধি নির্দেশ করে। এই ঋণ সংগ্রহের মূল উদ্দেশ্য হল ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে স্বল্পমেয়াদী তহবিল সংগ্রহ করে তাত্ক্ষণিক ব্যয় মেটানো।

ট্রেজারি বিল হল স্বল্পমেয়াদী ঋণযন্ত্র, যেখানে সরকার ব্যাংক ও আর্থিক সংস্থার কাছ থেকে অর্থ ধার করে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পুনরায় পরিশোধ করে। এই যন্ত্রগুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আয়োজিত নিলাম পদ্ধতিতে বিক্রি হয় এবং দেশের আর্থিক ব্যবস্থার মধ্যে সবচেয়ে নিরাপদ বিনিয়োগ বিকল্পগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হয়।

বিবি’র রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, নভেম্বর মাসে মোট চারটি নিলাম অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই নিলামগুলোতে ৯১ দিন, ১৮২ দিন এবং ৩৬৪ দিন মেয়াদী বিলের গড় সুদের হার যথাক্রমে ৯.৯৯ শতাংশ, ১০.০৩ শতাংশ এবং ১০.০১ শতাংশ নির্ধারিত হয়েছে। কাট‑অফ রেট, যা নিলামে সরকার সর্বোচ্চ যে হার গ্রহণ করতে সম্মত হয়, তা বাজারের চাহিদা ও ব্যাংকিং সিস্টেমের তরলতার অবস্থা প্রতিফলিত করে।

৯১ দিনের ট্রেজারি বিলের ক্ষেত্রে, কাট‑অফ রেট প্রথম তিন সপ্তাহে ক্রমাগত হ্রাস পেয়ে সর্বনিম্ন ১০.০৭ শতাংশে পৌঁছায়। তবে মাসের শেষ নিলামে রেট সামান্য বাড়ে এবং ১০.১৪ শতাংশে সমাপ্ত হয়। প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে, মাসের প্রথম নিলামের রেট পূর্ববর্তী নিলামের তুলনায় দশ বেসিস পয়েন্ট কম ছিল, যা স্বল্পমেয়াদী তহবিলের চাহিদা কিছুটা হ্রাসের ইঙ্গিত দেয়।

১৮২ দিনের বিলের কাট‑অফ রেট দ্বিতীয় সপ্তাহে ৩০ বেসিস পয়েন্ট বৃদ্ধি পায়, যা বাজারে তীব্র চাহিদা বা তরলতার ঘাটতির সূচক হতে পারে। তবে পরবর্তী নিলামগুলোতে রেট ধীরে ধীরে কমে যায়, যা সম্ভাব্যভাবে বাজারের শোষণ ক্ষমতা বাড়ার বা সরকারী ঋণ চাহিদা হ্রাসের প্রতিফলন।

৩৬৪ দিনের দীর্ঘমেয়াদী ট্রেজারি বিলের রেট পুরো নভেম্বর জুড়ে ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পায়। নিলামের শুরুর সময় রেট ৯.৯৯ শতাংশ থেকে শেষ নিলামে ১০.২৫ শতাংশে পৌঁছে, যা দীর্ঘমেয়াদী তহবিলের ওপর চাপ বাড়ার ইঙ্গিত দেয়। এই ধারাবাহিক বৃদ্ধি বাজারের তরলতা সংকুচিত হওয়া এবং ঋণ গ্রহণের খরচ বাড়ার সম্ভাবনা নির্দেশ করে।

বাজার বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, সরকারী ট্রেজারি বিলের জারির পরিমাণ ও রেটের পরিবর্তন আর্থিক বাজারের সামগ্রিক দিকনির্দেশনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। স্বল্পমেয়াদে রেটের ওঠানামা ব্যাংকগুলোর লিকুইডিটি ম্যানেজমেন্টকে প্রভাবিত করবে, আর দীর্ঘমেয়াদে রেটের ধারাবাহিক বৃদ্ধি ঋণগ্রহীতাদের জন্য ব্যয়ের চাপ বাড়াতে পারে। তাই নিকট ভবিষ্যতে সরকারী ঋণ সংগ্রহের কৌশল, বাজারের তরলতা এবং মুদ্রা নীতি সমন্বয় করে সুদের হার স্থিতিশীল রাখা প্রয়োজন।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
ব্যবসা প্রতিবেদক
ব্যবসা প্রতিবেদক
AI-powered ব্যবসা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments