ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলায় ২০ ডিসেম্বর হিন্দু গার্মেন্ট কর্মী দিপু চন্দ্র দাসকে ধর্মীয় মন্তব্যের অভিযোগে গোষ্ঠী আক্রমণ করে হত্যা করে, তবে তদন্তে তার কোনো ধর্মবিরোধী পোস্ট বা মন্তব্যের প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
দিপু চন্দ্র দাসকে প্রথমে গার্মেন্ট ফ্যাক্টরির বাইরে বের করে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে তাকে লাঠি ও স্থানীয় অস্ত্র দিয়ে মারধর করা হয়। পরে তার দেহকে ঢাকা–ময়মনসিংহ মহাসড়কের জামিরদিয়া স্কোয়্যার মাস্টারবাড়ি বাস স্টপের মাঝখানে ঝুলিয়ে আগুনে জ্বালিয়ে দেওয়া হয়।
ময়মনসিংহের র্যাব-১৪ কোম্পানির কমান্ডার মো. সামসুজ্জামান জানান, দিপুর ফেসবুকে কোনো ধর্মবিরোধী পোস্ট ছিল না এবং স্থানীয় কর্মী বা বাসিন্দারাও এমন কোনো মন্তব্যের সাক্ষী নয়। তিনি আরও উল্লেখ করেন, দিপুকে ফ্যাক্টরি থেকে বের করে নেওয়া হয়েছিল নিরাপত্তা রক্ষার উদ্দেশ্যে, তবে পরিস্থিতি দ্রুত উত্তেজিত হয়ে গিয়েছিল।
মোবের আক্রমণের পর দিপুর দেহের ছবি ও ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যা ব্যাপক নিন্দা ও শোকের স্রোত তৈরি করে। ঘটনাস্থলটি ঢাকা–ময়মনসিংহ রোডের মাঝখানে অবস্থিত, যেখানে গাছের ডালে দেহ ঝুলিয়ে আগুনে জ্বালানো হয়।
পুলিশ ভিডিও বিশ্লেষণের মাধ্যমে প্রথমে দুইজন সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করে, তাদের জিজ্ঞাসাবাদে আরও পাঁচজনকে আটক করা হয়। মোট সাতজনকে গৃহীত অপরাধের সঙ্গে যুক্ত বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।
ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারিনটেনডেন্ট (প্রশাসন ও আর্থিক) মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, ঘটনাটির জন্য আইনি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং তিনজন সন্দেহভাজনকে জড়িত বলে গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
কমিউনিস্ট পার্টি অব বাংলাদেশ (সিপিবি) দিপু চন্দ্র দাসের হত্যার বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে একটি বিবৃতি প্রকাশ করে। সিপিবি সভাপতি কাজী সাজাদ জাহির চন্দন এবং সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ কফি রতন উল্লেখ করেন, দিপু গার্মেন্ট কর্মী ছিলেন এবং তার মৃত্যুর জন্য ন্যায়বিচার দাবি করা হচ্ছে।
বর্তমানে তদন্ত চলমান এবং সংশ্লিষ্ট সকল সন্দেহভাজনের বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে। স্থানীয় প্রশাসন ও নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে ঘটনাটির পূর্ণাঙ্গ তদন্ত নিশ্চিত করা হয়েছে।
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ধর্মীয় সংবেদনশীলতা ও শ্রমিক নিরাপত্তা বিষয়ক আলোচনা বাড়ছে, এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জনসাধারণের আশ্বাস দিতে বলা হচ্ছে যে ন্যায়বিচার দ্রুত সম্পন্ন হবে।



