ঢাকার যাত্রাবাড়ির এক অল্পবয়সী ব্যবসায়ী, আশীষ জোয়াদ্দার (৩৩), রাতের একটায় ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে প্রাণ হারিয়েছেন। ঘটনাটি গত শনিবারের দিবাগত রাত প্রায় একটার দিকে ঘটেছে।
আশীষের বাড়ি মাগুরা সদর উপজেলার পাতুরিয়া গ্রামে অবস্থিত, পিতার নাম অমল জোয়াদ্দার। তিনি স্থানীয় ব্যবসা চালাতেন এবং পরিবারে একমাত্র সন্তান ছিলেন।
রাতের অন্ধকারে দুই-তিনজন ছিনতাইকারী আশীষের পথে এসে তাকে বাধা দিয়ে ছুরিকাঘাত করে। আক্রমণকারী গুলি না করে, সরাসরি ছুরি ব্যবহার করে আঘাত হানেন।
পথচারী আল-আমিনের মতে, ছিনতাইকারীরা দ্রুতই আশীষকে গুরুতরভাবে আহত অবস্থায় ছেড়ে চলে যায়। তিনি সঙ্গে সঙ্গে আশীষকে তাড়া করে নিকটবর্তী অন্ধকার গলিতে নিয়ে গিয়ে সাহায্যের জন্য ডাকেন।
আশীষকে তৎক্ষণাৎ স্থানীয় বাসিন্দারা উদ্ধার করে, দেরি না করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যায়। গাড়ি চালিয়ে যাওয়ার সময় তার শ্বাস-প্রশ্বাস অস্থির ছিল।
হাসপাতালের জরুরি বিভাগে পৌঁছে, চিকিৎসক দল দ্রুত প্রাথমিক চিকিৎসা চালায়, তবে শিরা রক্তক্ষরণ এবং অভ্যন্তরীণ আঘাতের কারণে রক্তচাপ হঠাৎ কমে যায়।
প্রায় দেড় ঘণ্টা পরে, চিকিৎসকরা আশীষের মৃত্যু নিশ্চিত করেন। তার দেহকে হাসপাতালে মর্গে স্থানান্তর করা হয় এবং পরিবারকে জানানো হয়।
ঢাকা মেডিকেল কলেজের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে, জানিয়ে দেন যে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানা-ইনস্পেকশনে জানানো হয়েছে এবং তদন্ত শুরু হয়েছে।
পুলিশের মতে, ছিনতাইকারীদের সনাক্তকরণের জন্য স্থানীয় ক্যামেরা ফুটেজ এবং সাক্ষীর বিবরণ সংগ্রহ করা হবে। এখন পর্যন্ত কোনো সন্দেহভাজন গ্রেফতার করা হয়নি।
আশীষের পরিবারকে শোকের সময়ে সহায়তা প্রদান এবং দেহের শেষকৃত্য প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য স্থানীয় প্রশাসন সহায়তা করছে।
অধিক তদন্তের অংশ হিসেবে, পুলিশ ঘটনাস্থলে ফিঙ্গারপ্রিন্ট, রক্তের নমুনা এবং ছুরি থেকে প্রমাণ সংগ্রহ করবে। সংশ্লিষ্ট থানা-ইনস্পেকশন থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় বাসিন্দারা এই ধরনের হিংসাত্মক অপরাধের বিরুদ্ধে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং নিরাপত্তা বাড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ পেট্রোলের দাবি জানিয়েছেন।
অধিকাংশ বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, রাতের সময় জনবহুল এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা দুর্বল থাকলে এমন ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা বাড়ে। তাই ভবিষ্যতে সমন্বিত নিরাপত্তা পরিকল্পনা এবং দ্রুত প্রতিক্রিয়া ব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি।
এই ঘটনার পর, স্থানীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ একত্রে কাজ করে, অপরাধীর সনাক্তকরণ এবং শিকার পরিবারের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।



