২১ ডিসেম্বর রবিবার সকাল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে হাদিরের শবযাত্রা অনুষ্ঠিত হওয়ার সময় জামায়াত‑ই‑ইসলামির আমির ডা. শফিকুর রহমান উপস্থিত হয়ে গুলিবিদ্ধের দায়ী দ্রুত গ্রেপ্তার ও আইনের আওতায় আনার আহ্বান জানালেন। তিনি শবযাত্রায় উপস্থিত ভক্ত ও সমর্থকদের সামনে হাদিরের জীবন ও কাজের গুরুত্ব তুলে ধরে দেশের নিরাপত্তা সম্পর্কে তার মতামত প্রকাশ করেন।
শহীদ শরিফ ওসমান হাদির, যাকে দেশের স্বাধীনতা ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের রক্ষক হিসেবে গণ্য করা হয়, সন্ত্রাসী গুলিতে নিহত হন। গুলিবিদ্ধের ফলে হাদিরের পাশাপাশি আরও কয়েকজন আহত হন, যার মধ্যে সাতজনের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে। হাদিরের মৃত্যু দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবেশে গভীর শোকের সৃষ্টি করেছে।
হাদিরের প্রতি ডা. শফিকুরের মন্তব্যে তিনি জোর দিয়ে বলেছিলেন যে হাদির বাংলাদেশের স্বার্থে, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের পক্ষে কাজ করতেন। তিনি উল্লেখ করেন, হাদিরের ভাষণ ও কাজ সবসময় দেশের সংস্কৃতিকে রক্ষা ও অপসংস্কৃতির বিরুদ্ধে লড়াই করার দিকে মনোনিবেশ করত। এ ধরনের নায়কের মৃত্যু দেশের জন্য বড় ক্ষতি, তবু তার আদর্শ অম্লান থাকবে।
বিপ্লবী চেতনা মুছে ফেলা সম্ভব নয়, এ কথাটি তিনি পুনরায় জোর দিয়ে বললেন। হাদিরের মতো বিপ্লবীর মৃত্যু কেবল তার আদর্শকে আরও বিস্তৃত করবে, এমন ধারণা তিনি প্রকাশ করেন। শবযাত্রায় উপস্থিত সকলকে তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, বিপ্লবের চেতনা গুলি দিয়ে মেরে ফেলা যায় না; বরং তা আরও শক্তিশালী হয়ে উঠে।
ডা. শফিকুর আরও উল্লেখ করেন, দেশের নিরাপত্তা রক্ষায় কোনো কালো চিলকে (অর্থাৎ অপরাধীকে) ভাগ্যের সুযোগ দেওয়া উচিত নয়। তিনি বলেন, সরকার ও নিরাপত্তা বাহিনীর দায়িত্ব হল এমন অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের শাসন নিশ্চিত করা, যাতে ভবিষ্যতে কোনো চুরমার বা গুলিবিদ্ধের সুযোগ না থাকে।
হাদিরের হত্যাকাণ্ডের তদন্তে জনগণের অসন্তোষের কথা তিনি তুলে ধরেন। তিনি জানান, শবযাত্রায় উপস্থিত প্রধান উপদেষ্টা ও অন্যান্য উপদেষ্টা মণ্ডলীকে এই অসন্তোষের বাস্তবতা উপলব্ধি করতে হবে। জনগণের দাবি হল, সন্দেহভাজনদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা।
ডা. শফিকুরের মতে, যদি গুলিবিদ্ধের দায়ী অপরাধীরা শাস্তি থেকে বাঁচে, তবে দেশের নিরাপত্তা ও নাগরিকদের জীবনের সুরক্ষা নিশ্চিত করা কঠিন হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, দায়ীদের আইনের আওতায় আনা না হলে দেশের শান্তি ও স্থিতিশীলতা হুমকির মুখে পড়বে।
এই বক্তব্যের পটভূমিতে জামায়াত‑ই‑ইসলামির রাজনৈতিক অবস্থানও স্পষ্ট হয়। হাদিরের মৃত্যুর পরামর্শে তিনি সরকারের তদন্ত প্রক্রিয়ার ত্বরান্বিত করার দাবি তুলে ধরেছেন, যা দেশের নিরাপত্তা নীতি ও মানবাধিকার রক্ষার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তার মন্তব্য ভবিষ্যতে নিরাপত্তা সংক্রান্ত নীতি ও রাজনৈতিক আলোচনায় প্রভাব ফেলতে পারে।
শবযাত্রায় উপস্থিত বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক গোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা ডা. শফিকুরের আহ্বানকে স্বাগত জানিয়ে, হাদিরের স্মৃতিকে সম্মান জানিয়ে দেশের নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য একসাথে কাজ করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। এই ঘটনা ও তার পরবর্তী রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া দেশের নিরাপত্তা নীতি, আইন প্রয়োগ এবং রাজনৈতিক দলগুলোর অবস্থান নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



