জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)‑এর সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক ও নোয়াখালী‑৬ আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী আবদুল হান্নান মাসউদকে হত্যা করার হুমকি দেওয়ার অভিযোগে হাটিয়া থানা পুলিশ এক যুবককে গ্রেফতার করেছে।
গ্রেফতারকৃত ব্যক্তি হলেন ইসরাত রায়হান অমি, যিনি চর ঈশ্বর ইউনিয়ন পরিষদের প্রাক্তন চেয়ারম্যান আবদুল হালিম আজাদের পুত্র। হাটিয়া থানা ওসির মো. সাইফুল আলমের মতে, সন্ধ্যা ১২টার দিকে ইসরাতকে চর ঈশ্বর ইউনিয়নের নন্দ রোড থেকে আটক করা হয়।
এই গ্রেফতারের পেছনে রয়েছে ১৮ ডিসেম্বর রাতে হান্নান মাসউদের চাচা শামছল তিব্রিজের দাখিল করা একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি)। তিব্রিজ হাটিয়া থানায় গৃহীত জিডিতে উল্লেখ করা হয়েছে, একই দিন সন্ধ্যায় ‘রুপক নন্দী’ নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে হান্নানকে প্রকাশ্যে হত্যা করার হুমকি প্রকাশিত হয়।
এর পাশাপাশি, বিকালের দিকে ‘ইসরাত রায়হান অমি’ নামের আরেকটি ফেসবুক আইডি থেকে এনসিপি কর্মীর মেসেঞ্জার অ্যাকাউন্টে বার্তা পাঠিয়ে হান্নান ও তার সহযোগীদের ভয় দেখানো এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। জিডিতে সাতজনের নাম তালিকাভুক্ত, যাদের মধ্যে রুপক নন্দী (২৫), আবদুল হালিম আজাদ (৪৬), ইসরাত রায়হান অমি (২৭), প্রেম নাল (২৫), নুর হোসেন রহিম (২৬), বাবুলাল (৩২) ও ওমর ফারুক (৩২) অন্তর্ভুক্ত।
হাটিয়া থানা ওসির মতে, জিডিতে উল্লেখিত সাতজনের মধ্যে ইসরাত রায়হান অমির নাম স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে। তাই, তিনি ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’ নামে চলমান অভিযানের অংশ হিসেবে গ্রেফতার হন।
অধিক তদন্তের জন্য ইসরাতকে আদালতে হাজির করা হবে। বর্তমানে পুলিশ তার বিরুদ্ধে হুমকি দেওয়ার অপরাধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
হান্নান মাসউদের পরিবার ও এনসিপি নেতারা ঘটনাটিকে রাজনৈতিক হিংসা হিসেবে উল্লেখ করে, তবে এই প্রতিবেদনে কোনো মতামত বা বিশ্লেষণ অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।
হাটিয়া থানা ওসির মন্তব্যে স্পষ্ট করা হয়েছে, গ্রেফতারটি জিডিতে উল্লেখিত তথ্যের ভিত্তিতে করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া চালু হবে।
গ্রেফতারকৃত ইসরাত রায়হান অমি এখন পর্যন্ত কোনো অপরাধ স্বীকার করেননি এবং তার আইনজীবী থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। আদালতে তার উপস্থিতি এবং পরবর্তী শোনানির তারিখ শীঘ্রই জানানো হবে।
এই মামলায় উল্লেখিত অন্যান্য সন্দেহভাজনদের ওপরও তদন্ত চলছে। পুলিশ জানিয়েছে, প্রমাণ সংগ্রহ ও সাক্ষী সংগ্রহের কাজ চালু রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
হাটিয়া থানা ওসির শেষ মন্তব্যে বলা হয়েছে, হুমকি দেওয়া এবং রাজনৈতিক হিংসা রোধে আইন প্রয়োগের গুরুত্ব অপরিসীম, এবং সংশ্লিষ্ট সকলকে আইনের আওতায় আনা হবে।
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে, নোয়াখালী জেলার নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও রাজনৈতিক পরিবেশের ওপর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও নিরাপত্তা বাহিনী পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে অতিরিক্ত পদক্ষেপ গ্রহণের কথা জানিয়েছে।



