মস্কোর বার্ষিক প্রেসিডেন্ট সংবাদ সম্মেলনে রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিন প্রকাশ্যে স্বীকার করেছেন যে তিনি বর্তমানে প্রেমের সম্পর্কের মধ্যে আছেন। প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে তিনি সরাসরি “হ্যাঁ” বলে নিশ্চিত করেন, তবে সঙ্গীর পরিচয় বা সম্পর্কের প্রকৃতি সম্পর্কে কোনো অতিরিক্ত তথ্য দেননি।
এই বক্তব্যটি বছরের শেষ প্রান্তিকের মস্কো সম্মেলনের প্রশ্নোত্তর সেশনে উঠে আসে, যেখানে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের একজন সাংবাদিক প্রথমে পুতিনের ‘প্রথম দেখায় প্রেমে’ বিশ্বাসের বিষয়ে জিজ্ঞাসা করেন। পুতিনের সংক্ষিপ্ত হ্যাঁ উত্তরটি পরবর্তীতে সরাসরি “আপনি কি প্রেম করছেন?” প্রশ্নের সঙ্গে যুক্ত হয়, যার উত্তরে তিনি আবার হ্যাঁ বলে নিশ্চিত করেন।
পুতিনের ব্যক্তিগত জীবনের ব্যাপারে তিনি সর্বদা কঠোর গোপনীয়তা বজায় রেখেছেন। ২০১৪ সালে সাবেক স্ত্রী লিউদমিলা পুতিনার সঙ্গে বিচ্ছেদের পর থেকে তার পারিবারিক অবস্থা সম্পর্কে তিনি খুব কমই মন্তব্য করেন। তবু রুশ গণমাধ্যম ও অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দীর্ঘদিন ধরে অলিম্পিক স্বর্ণজয়ী জিমন্যাস্ট আলিনা কাবায়েভার সঙ্গে গোপন সম্পর্কের সূত্র উঠে এসেছে। অনুমান অনুযায়ী, এই সম্পর্ক প্রায় ১৮ বছর পুরোনো এবং দুজনের দু’টি সন্তান রয়েছে, যাঁরা রাশিয়ার বিভিন্ন সুরক্ষিত স্থানে ছদ্মনামে বসবাস করেন। তবে পুতিন কখনোই এই দাবিগুলোকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেননি।
প্রেসিডেন্টের এই স্বীকারোক্তি দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিভিন্ন বিশ্লেষণের জন্ম দিয়েছে। কিছু পর্যবেক্ষক এটিকে তার জনমুখী চিত্রকে নরম ও মানবিক করার কৌশল হিসেবে ব্যাখ্যা করছেন, যেখানে অন্যরা এটিকে দীর্ঘদিনের গোপনীয়তার পর ধীরে ধীরে ব্যক্তিগত দিক উন্মোচনের ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন। ৭৩ বছর বয়সী পুতিনের এই প্রকাশ তার রাজনৈতিক অবস্থানকে কীভাবে প্রভাবিত করবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়, তবে এটি তার নেতৃত্বের সময়কালে ব্যক্তিগত জীবনের প্রতি নতুন দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করতে পারে।
সেই একই সম্মেলনে আরেকটি অপ্রত্যাশিত মুহূর্ত ঘটেছে। তরুণ সাংবাদিক কিরিল বাঝানোভ একটি ছোট প্ল্যাকার্ড হাতে উপস্থিত হন, যার ওপর লেখা ছিল “আমি বিয়ে করতে চাই”। পুতিন এই দৃশ্যটি লক্ষ্য করে হালকা হাসি দিয়ে মন্তব্য করেন যে এই প্ল্যাকার্ডটি এড়িয়ে যাওয়া কঠিন, এবং বাঝানোভের পোশাকের দিকে ইঙ্গিত করে মজার ছলে বলেন, “তুমি তো রেজিস্ট্রি অফিসে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত হয়ে এসেছো”। এই সংক্ষিপ্ত বিনিময়টি সামাজিক মিডিয়ায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়ায়।
প্রেসিডেন্টের এই উন্মুক্ত স্বীকারোক্তি এবং সম্মেলনের সময়ের অপ্রত্যাশিত ঘটনার ফলে রাশিয়ার অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নতুন আলোচনার সূচনা হতে পারে। ব্যক্তিগত জীবনের গোপনীয়তা থেকে ধীরে ধীরে উন্মোচনের দিকে অগ্রসর হওয়া পুতিনের নেতৃত্বের শৈলীতে কী পরিবর্তন আনবে, তা ভবিষ্যতে পর্যবেক্ষণ করা হবে। একই সঙ্গে, আন্তর্জাতিক মঞ্চে রাশিয়ার শাসনব্যবস্থার প্রতি ধারণা ও কূটনৈতিক সম্পর্কেও এই প্রকাশের প্রভাব পরিলক্ষিত হতে পারে।
প্রেসিডেন্ট পুতিনের এই স্বীকারোক্তি এবং সম্মেলনের সময়ের অন্যান্য ঘটনাগুলি রাশিয়ার রাজনৈতিক দৃশ্যপটের নতুন দিক উন্মোচনের সম্ভাবনা তৈরি করেছে, যা দেশীয় ও বৈশ্বিক পর্যায়ে বিশ্লেষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করবে।



