অ্যাডিলেড টেস্টের শেষ দিনের প্রথম সেশনে অস্ট্রেলিয়ার স্পিনার নাথান লায়ন ফাইন লেগে চমৎকার ফিল্ডিং করে চারটি উইকেট তোলার পর হ্যামস্ট্রিংয়ে আঘাত পান। ডান হ্যামস্ট্রিংয়ে চাপ দিয়ে ড্রেসিং রুমের দিকে ইশারা করার পর লায়নকে ফিজিওথেরাপিস্টের সঙ্গে মাঠ থেকে বের হতে দেখা যায়। প্রায় দশ মিনিটের মধ্যে টিভিতে তিনি ক্রাচে ভর দিয়ে স্টেডিয়াম ত্যাগ করছেন, সম্ভবত স্ক্যানের জন্য গিয়ে।
এই ঘটনা অস্ট্রেলিয়ার শীর্ষ বোলারদের জন্য বড় উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে, কারণ শীর্ষ তিনটি টেস্টে লায়নের উপস্থিতি এখন অনিশ্চিত। ২০২৩ সালের দ্বিতীয় অ্যাশেজ টেস্টে একই ধরনের পা আঘাতের ফলে লায়নের সিরিজ শেষ হয়ে গিয়েছিল, তাই এইবারের আঘাতকে পুনরাবৃত্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
লায়ন এই সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশগ্রহণ করছিলেন; প্রথম টেস্টে পার্থের পেসার দাপটে দুই দিনে ম্যাচ শেষ হওয়ায় তিনি মাত্র দুই ওভারই বোল করতে পেরেছিলেন। দ্বিতীয় টেস্টে তিনি একাদশে নামেননি, ফলে তার সুযোগ সীমিত ছিল। তবে এই ম্যাচে তিনি দুই ইনিংসে মোট পাঁচটি উইকেট নেন এবং গ্লেন ম্যাকগ্রাথকে ছাড়িয়ে অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় সর্বাধিক সফল বোলার হিসেবে স্থান অর্জন করেন।
চতুর্থ দিনে লায়নের ত্রয়ী উইকেট অস্ট্রেলিয়ার জয় নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে, তবে পঞ্চম দিনে তার অনুপস্থিতি দলের জন্য হতাশা নিয়ে আসে। লায়ন মাঠ ত্যাগের পর ট্রাভিস হেড ও মার্নাস লাবুশেনের মতো অনিয়মিত বোলারদেরকে বল তুলে দিতে হয়, যদিও মূল বোলাররা শেষ পর্যন্ত কাজ সম্পন্ন করেন।
ইংল্যান্ডের কিছুটা প্রতিরোধের পরও অস্ট্রেলিয়া ৮২ রানে জয় পেয়ে অ্যাশেজের ধারাবাহিকতা রক্ষা করে। ম্যাচের শেষ ফলাফল অস্ট্রেলিয়ার জন্য ইতিবাচক হলেও লায়নের আঘাতের ফলে পরবর্তী টেস্টে তার অনুপস্থিতি বড় ফাঁক তৈরি করতে পারে।
বক্সিং ডে টেস্টের আগে মাত্র চারটি দিন বাকি রয়েছে, তাই অস্ট্রেলিয়ার কোচিং স্টাফকে বিকল্প বোলারদের প্রস্তুত করতে হবে। লায়ন যদি শীঘ্রই খেলতে না পারেন, তবে দলটি ম্যাথু কুনেমান বা টড মার্ফির দিকে নজর দিতে পারে। উভয় খেলোয়াড়ই স্পিনিং বিভাগে অভিজ্ঞতা রাখেন এবং লায়নের ঘাটতি পূরণে সহায়তা করতে পারেন।
লায়নের আঘাতের সঠিক প্রকৃতি এখনও স্পষ্ট নয়, তবে ফিজিওথেরাপিস্টের সঙ্গে পরামর্শের পর তিনি ক্রাচে স্টেডিয়াম ত্যাগ করেছেন। তার পুনরুদ্ধার সময়সূচি এখনো নির্ধারিত হয়নি, ফলে অস্ট্রেলিয়ার বোলিং আক্রমণ কীভাবে গঠন করা হবে তা অনিশ্চিত রয়ে গেছে।
অস্ট্রেলিয়ার প্রধান কোচের মন্তব্যে বলা হয়েছে, দলটি লায়নের স্বাস্থ্যের প্রতি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেবে এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। একই সঙ্গে তিনি বললেন, দলটি অন্যান্য বোলারদের ওপর নির্ভর করে শীর্ষ পারফরম্যান্স বজায় রাখবে।
এই টেস্ট সিরিজে লায়নের অবদান অস্বীকার করা যায় না; তার পাঁচটি উইকেট এবং গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে নেওয়া গৃহীত সিদ্ধান্তগুলো অস্ট্রেলিয়ার জয়কে সহজ করেছে। তবে তার অনুপস্থিতি পরবর্তী ম্যাচে ব্যাটিং ও বোলিং ব্যালান্সকে প্রভাবিত করতে পারে।
অস্ট্রেলিয়ার বোলারদের মধ্যে এখন অতিরিক্ত চাপ দেখা দিচ্ছে, বিশেষ করে টেস্টের শেষ পর্যায়ে যেখানে প্রতিটি উইকেটের মূল্য বেশি। লায়নের পরিবর্তে কুনেমান বা মার্ফি কীভাবে পারফর্ম করবেন তা শীঘ্রই স্পষ্ট হবে।
ইংল্যান্ডের দিক থেকে যদিও কিছু প্রতিরোধ দেখা গিয়েছিল, তবে অস্ট্রেলিয়ার সামগ্রিক পারফরম্যান্সই ম্যাচের ফলাফল নির্ধারণ করেছে। শেষ পর্যন্ত ৮২ রানের পার্থক্য অস্ট্রেলিয়াকে অ্যাশেজের শীর্ষে রাখে।
লায়নের আঘাতের পর অস্ট্রেলিয়ার বোলিং পরিকল্পনা কী হবে, তা আগামী দিনগুলোতে স্পষ্ট হবে, এবং বক্সিং ডে টেস্টের প্রস্তুতি তীব্রভাবে চলবে।



